খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: বুধবার, ৩১ ডিসেম্বর ২০২৫
গত মাসে কলকাতার ইডেন গার্ডেন্সে ভারত ও দক্ষিণ আফ্রিকার মধ্যে অনুষ্ঠিত হওয়া টেস্ট ম্যাচটি ক্রিকেট বিশ্বে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছিল। মাত্র তিন দিনেই খেলার নিষ্পত্তি হওয়ায় এবং ব্যাটারদের চরম অসহায়ত্ব দেখে পিচের মান নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিলেন অনেক বিশেষজ্ঞ। তবে ক্রিকেট নিয়ন্ত্রক সংস্থা আইসিসি (আইসিসি) সব জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটিয়ে আজ পিচটিকে ‘সন্তোষজনক’ (Satisfactory) রেটিং প্রদান করেছে। ম্যাচ রেফারি রিচি রিচার্ডসন তাঁর প্রতিবেদনে উল্লেখ করেছেন যে, পিচটি প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক ছিল এবং এতে বোলার ও ব্যাটারদের জন্য ভিন্নধর্মী চ্যালেঞ্জ বিদ্যমান ছিল।
কলকাতা টেস্টের শুরু থেকেই পিচের আচরণে এক ধরণের অস্থিরতা লক্ষ্য করা যায়। প্রথম ওভার থেকেই দেখা যায় অসম বাউন্স, যা ব্যাটারদের জন্য বেশ ঝুঁকিপূর্ণ ছিল। সময় বাড়ার সাথে সাথে পিচ স্পিনারদের জন্য স্বর্গরাজ্যে পরিণত হয় এবং বল প্রত্যাশার চেয়েও বেশি ঘুরতে শুরু করে। ম্যাচে ভারতের পক্ষে যশপ্রীত বুমরা প্রথম দিনেই ৫ উইকেট নিয়ে দক্ষিণ আফ্রিকাকে চাপে ফেলেছিলেন। কিন্তু দক্ষিণ আফ্রিকার মার্কো ইয়ানসেনের গতির ঝড় এবং দ্বিতীয় ইনিংসে অফ স্পিনার সাইমন হারমারের ঘূর্ণিতে খেই হারিয়ে ফেলে ভারতীয় ব্যাটাররা। ১২৪ রানের সহজ লক্ষ্যে খেলতে নেমে ভারত মাত্র ৯৩ রানে অলআউট হয়ে যায়। অবাক করার বিষয় হলো, চার ইনিংসের একটিতেও কোনো দল ২০০ রানের গণ্ডি স্পর্শ করতে পারেনি।
আইসিসি সাধারণত ম্যাচের মান এবং পিচের আচরণের ওপর ভিত্তি করে চারটি প্রধান ধাপে রেটিং প্রদান করে। নিচে কলকাতা টেস্ট ও মেলবোর্ন টেস্টের পিচ রেটিংয়ের একটি তুলনামূলক চিত্র তুলে ধরা হলো:
| রেটিং স্তর | বর্তমান অবস্থা ও উদাহরণ | ডিমেরিট পয়েন্ট |
|---|---|---|
| খুব ভালো (Very Good) | আদর্শ টেস্ট উইকেট | ০ |
| সন্তোষজনক (Satisfactory) | কলকাতা টেস্ট (ভারত বনাম দ. আফ্রিকা) | ০ |
| অসন্তোষজনক (Unsatisfactory) | মেলবোর্ন টেস্ট (অ্যাশেজ সিরিজ) | ১ |
| খেলার অনুপযুক্ত (Unfit) | বিপজ্জনক পিচ | ৩ |
কলকাতা টেস্টের পিচ নিয়ে আলোচনার মাত্রা এ সপ্তাহে আরও বেড়ে যায় কারণ বক্সিং ডে অ্যাশেজ টেস্টটি মাত্র দুই দিনেই শেষ হয়ে গিয়েছিল। মেলবোর্ন ক্রিকেট গ্রাউন্ডের (এমসিজি) সেই পিচটিকে আইসিসি ‘অসন্তোষজনক’ রেটিং দেওয়ার পাশাপাশি একটি ডিমেরিট পয়েন্ট প্রদান করেছে। মেলবোর্নের তুলনায় কলকাতার পিচ তিন দিন স্থায়ী হওয়ায় এবং বোলারদের জন্য বাড়তি কোনো বিপদ (Danger) না থাকায় ম্যাচ রেফারি একে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ স্তরের রেটিং দিয়েছেন।
সিরিজের প্রেক্ষাপটে কলকাতার এই পরাজয় ভারতের জন্য ছিল বড় ধাক্কা। এরপর দ্বিতীয় টেস্টটি অনুষ্ঠিত হয় গুয়াহাটিতে, যেখানে পিচ তুলনামূলক ব্যাটিং সহায়ক ছিল। কিন্তু সেখানেও ভারতীয় দলের ব্যাটিং ব্যর্থতা অব্যাহত থাকে এবং দক্ষিণ আফ্রিকা জয়লাভ করে। ফলে দুই ম্যাচের টেস্ট সিরিজটি ২-০ ব্যবধানে জিতে নেয় প্রোটিয়ারা। আইসিসির এই ‘সন্তোষজনক’ রেটিং ইডেন গার্ডেন্সের কিউরেটরদের জন্য কিছুটা স্বস্তি নিয়ে এলেও, ভবিষ্যতে এমন দ্রুত ম্যাচ শেষ হওয়ার বিষয়টি নিয়ে ক্রিকেট মহলে বিতর্ক চলতেই থাকবে।