খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ১ জানুয়ারি ২০২৬
টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের দামামা বাজতে এখনো মাসখানেকের বেশি সময় বাকি। আগামী ৭ ফেব্রুয়ারি থেকে ভারত ও শ্রীলঙ্কার যৌথ আয়োজনে শুরু হতে যাচ্ছে ক্রিকেটের সংক্ষিপ্ত সংস্করণের এই বিশ্বযজ্ঞ। অধিকাংশ দেশ এখনো তাদের চূড়ান্ত স্কোয়াড ঘোষণা করেনি, আবার যারা করেছে তারা মেজাজ বুঝে পরিবর্তনের সুযোগ রাখছে। তবে দলগুলোর আনুষ্ঠানিক প্রস্তুতির আগেই নিজের ক্রিকেটীয় অভিজ্ঞতা ও বিচারবুদ্ধি প্রয়োগ করে আসরের সম্ভাব্য চার সেমিফাইনালিস্টের নাম ঘোষণা করেছেন ভারতের কিংবদন্তি অফস্পিনার হরভজন সিং। সাম্প্রতিক ফর্ম এবং কন্ডিশন বিবেচনা করে ভাজ্জি তার পছন্দের তালিকায় যেমন চমক রেখেছেন, তেমনি বড় কিছু নামকেও বাদ দিয়েছেন।
৭১১টি আন্তর্জাতিক উইকেটের মালিক হরভজন মনে করেন, ঘরের মাঠে খেলার বাড়তি সুবিধা ভারতকে শিরোপার দৌড়ে সবার চেয়ে এগিয়ে রাখবে। সংবাদ মাধ্যম গাল্ফ টুডেকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ৪৫ বছর বয়সী এই সাবেক তারকা বলেন, “আমি মনে করি, ভারতের এবার বিশ্বকাপ জয়ের প্রবল সম্ভাবনা রয়েছে। নিজেদের কন্ডিশন তারা অন্যদের চেয়ে ভালো চেনে, আর স্কোয়াড হিসেবেও তারা অত্যন্ত ভারসাম্যপূর্ণ। তবে বিশ্বকাপের মঞ্চে স্নায়ুচাপ সামলানোই হবে তাদের জন্য আসল চ্যালেঞ্জ।” ভারতকে প্রথম সেমিফাইনালিস্ট হিসেবে বেছে নেওয়ার পাশাপাশি তিনি আরও তিন দলের নাম উল্লেখ করেছেন।
হরভজনের তালিকার বড় চমক হলো আফগানিস্তান। বর্তমান বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন ভারত ছাড়াও তিনি সেমিফাইনালের দৌড়ে দেখছেন অস্ট্রেলিয়া, দক্ষিণ আফ্রিকা এবং আফগানিস্তানকে। মজার ব্যাপার হলো, দুই সাবেক বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ইংল্যান্ড ও ওয়েস্ট ইন্ডিজকে তিনি সেরা চারের যোগ্য মনে করেননি। অস্ট্রেলিয়ার চ্যাম্পিয়ন হওয়ার ডিএনএ এবং দক্ষিণ আফ্রিকার সাম্প্রতিক অবিশ্বাস্য পারফরম্যান্স তাকে মুগ্ধ করেছে। অন্যদিকে, ভারত ও শ্রীলঙ্কার স্পিন সহায়ক উইকেটে রশিদ-নবীদের আফগানিস্তান যেকোনো দলের জন্য আতঙ্ক হয়ে উঠতে পারে বলে তিনি বিশ্বাস করেন।
হরভজন সিং-এর পছন্দের চার সেমিফাইনালিস্ট ও যৌক্তিকতা:
| দলের নাম | সেমিফাইনালে রাখার প্রধান কারণ | প্রধান শক্তি |
|---|---|---|
| ভারত | আয়োজক দেশ এবং কন্ডিশন সম্পর্কে গভীর জ্ঞান। | শক্তিশালী ব্যাটিং লাইনআপ ও হোম অ্যাডভান্টেজ। |
| অস্ট্রেলিয়া | বড় টুর্নামেন্টে খেলার অভিজ্ঞতা ও জয়ের মানসিকতা। | অলরাউন্ডারদের আধিক্য ও পাওয়ার হিটিং। |
| দক্ষিণ আফ্রিকা | সাম্প্রতিক টি-টোয়েন্টি সিরিজে ধারাবাহিক পারফরম্যান্স। | ভারসাম্যপূর্ণ পেস আক্রমণ ও বিধ্বংসী টপ অর্ডার। |
| আফগানিস্তান | এশীয় উইকেটে স্পিনারদের একাধিপত্য। | বিশ্বমানের স্পিন অ্যাটাক ও কার্যকরী মারকুটে ব্যাটার। |
হরভজন বিশেষভাবে আফগানিস্তান সম্পর্কে সতর্কবার্তা দিয়েছেন। তার মতে, ভারত ও শ্রীলঙ্কার উইকেটগুলোতে যেখানে বল একটু থেমে আসে বা স্পিন করে, সেখানে আফগানিস্তান বিশ্বের যেকোনো পরাশক্তিকে অনায়াসেই ধসিয়ে দিতে পারে। প্রোটিয়াদের সম্পর্কে তিনি বলেন, তারা বর্তমানে এমন এক পর্যায়ে আছে যেখানে যেকোনো কন্ডিশনে তারা অবিশ্বাস্য ক্রিকেট খেলছে। অন্যদিকে, গত ওয়ানডে বিশ্বকাপে অস্ট্রেলিয়ার অভাবনীয় প্রত্যাবর্তন তাদের টি-টোয়েন্টিতেও অন্যতম ফেবারিট হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে।
ক্রিকেট প্রেমীদের দৃষ্টি এখন ৭ ফেব্রুয়ারির দিকে, যখন মাঠের লড়াইয়ে প্রমাণ হবে হরভজনের এই আগাম ভবিষ্যদ্বাণী কতটা সফল হয়। টি-টোয়েন্টি ক্রিকেট যেহেতু অনিশ্চয়তার খেলা, তাই মাঠের খেলায় যে কোনো সময় হিসাব বদলে যেতে পারে। তবে হরভজন সিং-এর মতো একজন অভিজ্ঞ ক্রিকেটারের বিশ্লেষণ বিশ্বজুড়ে ক্রিকেট ভক্তদের মধ্যে নতুন করে আলোচনার খোরাক জোগাচ্ছে। বিশেষ করে ইংল্যান্ড ও ওয়েস্ট ইন্ডিজের মতো পাওয়ার হিটিং দলগুলোকে তিনি তালিকায় না রাখায় ক্রিকেট বিশ্বে কিছুটা বিস্ময়ও তৈরি হয়েছে।