খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: শনিবার, ৩ জানুয়ারি ২০২৬
দেশে ন্যাশনাল ইকুইপমেন্ট আইডেন্টিটি রেজিস্টার (এনইআইআর) কার্যকর হওয়ার পর মোবাইল ফোন বাজারে নকল এবং ক্লোন ডিভাইসের প্রকৃত চিত্র ভেসে উঠেছে। টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের বিশেষ সহকারী ফয়েজ আহমদ তৈয়্যব জানিয়েছেন, দেশের মোবাইল নেটওয়ার্কে লাখ লাখ ভুয়া ও ডুপ্লিকেট আইএমইআই নম্বর সক্রিয় রয়েছে।
শুক্রবার (২ জানুয়ারি) রাতে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পোস্টে তিনি জানান, “1111111111111”, “0000000000000”, “9999999999999”–এর মতো অসংখ্য ভুয়া আইএমইআই নম্বর নেটওয়ার্কে ব্যবহার হচ্ছে। তবে সরকারি নীতি অনুযায়ী, জনজীবনে সমস্যা সৃষ্টি হবে এমন কোনো পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে না এবং এই মুহূর্তে এসব আইএমইআই ব্লক করা হচ্ছে না।
ফয়েজ আহমদ তৈয়্যব বলেন, ‘দেশে লাখ লাখ মানুষ নিম্নমানের নকল ফোন ব্যবহার করছেন। এসব ফোন কোনো রেডিয়েশন টেস্ট বা স্পেসিফিক অ্যাবজরপশন রেট (SAR) পরীক্ষা ছাড়াই বাজারে রয়েছে। দেশের চারটি মোবাইল অপারেটরের নেটওয়ার্কেই এই ফোনগুলো সচল রয়েছে। এসব ডিভাইস অবিলম্বে বন্ধ না করে ‘গ্রে’ হিসেবে ট্যাগ করা হবে।’
গত এক দশকে কেবল একটি আইএমইআই নম্বর “99999999999999”-এর বিপরীতে ৩ কোটি ৯১ লাখ ২২ হাজার ৫৩৪টি ভিন্ন কম্বিনেশন শনাক্ত করা হয়েছে। এসব আইএমইআই কেবল স্মার্টফোন নয়, বিভিন্ন আইওটি (IoT) ডিভাইসেও ব্যবহৃত হতে পারে। মোবাইল অপারেটররা এখনও ফোন, সিম-সংযুক্ত ডিভাইস ও আইওটি ডিভাইস আলাদাভাবে শনাক্ত করতে সক্ষম নয়, তবে বৈধভাবে আমদানি করা আইওটি ডিভাইস আলাদাভাবে ট্যাগ করার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।
নিচের টেবিলে শীর্ষ ডুপ্লিকেট আইএমইআই নম্বর এবং তাদের ব্যবহৃত ডিভাইসের সংখ্যা দেখানো হলো:
| আইএমইআই নম্বর | সক্রিয় ডিভাইস সংখ্যা |
|---|---|
| 440015202000 | 19,49,000 |
| 35227301738634 | 17,58,000 |
| 35275101952326 | 15,25,000 |
| 0 | 5,86,000 |
ফয়েজ আহমদ তৈয়্যব বলেন, ‘এতদিন ধারণা ছিল দেশের ক্লোন ফোনের বিস্তার আছে, কিন্তু এর ভয়াবহতা এত গভীর তা আগে জানা যায়নি।’ তিনি বাংলাদেশ ব্যাংকের ২০২৪ সালের রিপোর্ট উদ্ধৃত করে জানান, দেশে সংঘটিত ৭৩ শতাংশ ডিজিটাল জালিয়াতি অনিবন্ধিত ডিভাইসে ঘটছে। একই সঙ্গে বিটিআরসি ও মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস (এমএফএস) সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩ সালে e-KYC জালিয়াতির ৮৫ শতাংশ অবৈধ বা পুনঃপ্রোগ্রাম করা ফোন ব্যবহার করে সম্পন্ন হয়েছে।
তিনি আরও উল্লেখ করেন, ২০২৩ সালে ১ লাখ ৮০ হাজার ফোন চুরির অভিযোগ পাওয়া গেলেও বাস্তবে এ সংখ্যা কয়েক লাখ হতে পারে। চুরি হওয়া ফোনের অধিকাংশই উদ্ধার হয়নি।
ফয়েজ আহমদ তৈয়্যব অবিলম্বে নকল ও ক্লোন ফোনের বিস্তার নিয়ন্ত্রণে আনার গুরুত্বারোপ করেছেন, বিশেষত আনঅফিশিয়াল নতুন ফোনের নামে বিক্রি চলমান প্রতারণা ঠেকাতে।