খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: শনিবার, ৩ জানুয়ারি ২০২৬
ঢাকা-৯ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মনোনয়নপত্র জমা দেওয়া তাসনিম জারা ঘোষণা করেছেন যে, সাধারণ মানুষের কাছ থেকে সংগৃহীত প্রায় ৪৭ লাখ টাকা তিনি নির্বাচনের ব্যয় নির্বাহে ব্যবহার করবেন এবং কোনোভাবেই তা ফেরত দেবেন না। জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) থেকে পদত্যাগ করার পর জারা এই তথ্য নির্বাচন কমিশনে জমা দেওয়া হলফনামায় প্রকাশ করেছেন।
জারা তাঁর হলফনামায় উল্লেখ করেছেন, জনগণের কাছ থেকে সংগ্রহ করা অর্থ ‘ক্রাউডফান্ডিং’ পদ্ধতির মাধ্যমে সংগৃহীত। মোট অর্থের পরিমাণ দাঁড়ায় ৪৬ লাখ ৯৩ হাজার টাকা। এই অর্থ সংগ্রহ প্রক্রিয়া গত ২২ ডিসেম্বর তার ফেসবুক পোস্টের মাধ্যমে শুরু হয়। নির্বাচনি তহবিলের আহ্বান জানানোর মাত্র ২৯ ঘণ্টার মধ্যে মোবাইল ব্যাংকিং ও ব্যাংকের মাধ্যমে এই টাকা তার ব্যাংক অ্যাকাউন্টে জমা হয়।
এছাড়া, হলফনামায় তিনি তাঁর ব্যাংক আমানত ও অন্যান্য আয়ের ২৩ লাখ টাকা এবং ৩,২০০ ব্রিটিশ পাউন্ড (বাংলাদেশি টাকায় প্রায় ৫ লাখ ২৭ হাজার টাকা) নির্বাচনের ব্যয়ে অন্তর্ভুক্ত করার কথা উল্লেখ করেছেন।
হলফনামায় তাসনিম জারা তাঁর ব্যক্তিগত আয়েরও তথ্য দিয়েছেন। বাংলাদেশে চিকিৎসক হিসেবে তার বার্ষিক আয় ৭,১৩,৫৯৭ টাকা। বিদেশি আয় হিসেবে ৩,২০০ পাউন্ড যুক্ত করলে তার মোট বার্ষিক আয় দাঁড়ায় ১২,৪০,৫৯৭ টাকা।
নিম্নের টেবিলে তাসনিম জারার নির্বাচনী তহবিল ও আয় সংক্রান্ত তথ্য সংক্ষেপে তুলে ধরা হলো:
| অর্থের ধরন | পরিমাণ (বাংলাদেশি টাকা) | বিবরণ |
|---|---|---|
| জনগণের ক্রাউডফান্ডিং | ৪৬,৯৩,০০০ | জনসাধারণ থেকে সংগৃহীত অর্থ |
| ব্যাংক আমানত ও অন্যান্য আয় | ২৩,০০,০০০ | প্রার্থীর নিজস্ব তহবিল |
| বিদেশি আয় | ৫,২৭,০০০ | ৩,২০০ ব্রিটিশ পাউন্ড |
| মোট নির্বাচনী তহবিল | ৭৫,২০,০০০ | নির্বাচনের জন্য মোট খরচের সম্ভাব্য বাজেট |
| বার্ষিক বাংলাদেশি আয় | ৭,১৩,৫৯৭ | চিকিৎসক হিসেবে প্রাপ্ত আয় |
| বার্ষিক বিদেশি আয় | ৫,২৭,০০০ | বিদেশি আয় অন্তর্ভুক্ত করলে মোট বার্ষিক আয় |
| মোট বার্ষিক আয় | ১২,৪০,৫৯৭ | মোট বার্ষিক আয় (বাংলাদেশি টাকায়) |
তাসনিম জারার এই ঘোষণা নতুন বিতর্ক সৃষ্টি করেছে, যেখানে ভোটার ও রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা দেখছেন যে, নির্বাচনী তহবিল সংগ্রহ ও খরচের স্বচ্ছতা কতটা মানা হচ্ছে। প্রার্থীর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, সব অর্থ বৈধভাবে নির্বাচন কমিশনের নিয়ম অনুসারে খরচ করা হবে।
এভাবে জারা তাঁর নির্বাচনী কার্যক্রমের জন্য জনগণের আস্থা ও সহযোগিতাকে কেন্দ্র করে তহবিল সংগ্রহ করেছেন এবং নিশ্চিত করেছেন যে, সংগৃহীত অর্থ নির্বাচনের উদ্দেশ্যেই ব্যয় হবে।