খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: 21শে পৌষ ১৪৩২ | ৪ই জানুয়ারি ২০২৬ | 1150 Dhu al-Hijjah 5
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বাগেরহাট জেলার রাজনৈতিক অঙ্গনে এক চমকপ্রদ অধ্যায়ের সূচনা হয়েছে। জেলার গুরুত্বপূর্ণ তিনটি সংসদীয় আসনেই স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে লড়ার ঘোষণা দিয়েছেন সাবেক সংসদ সদস্য ও জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি এমএএইচ সেলিম। শনিবার (৩ জানুয়ারি) বাগেরহাট জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে যাচাই-বাছাই শেষে প্রধান রিটার্নিং কর্মকর্তা তাঁর তিনটি মনোনয়নপত্রই বৈধ ঘোষণা করেছেন। সারা দেশে একমাত্র প্রার্থী হিসেবে তিনটি ভিন্ন আসন থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার গৌরব অর্জন করলেন এই প্রবীণ রাজনীতিক, যা রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
এমএএইচ সেলিম বাগেরহাট-১ (চিতলমারী, মোল্লাহাট ও ফকিরহাট), বাগেরহাট-২ (সদর ও কচুয়া) এবং বাগেরহাট-৩ (মোংলা ও রামপাল) আসন থেকে নির্বাচনে অংশ নিচ্ছেন। তাঁর এই সাহসিকতাপূর্ণ পদক্ষেপে উজ্জীবিত হয়ে উঠেছেন সমর্থক ও অনুসারীরা। মনোনয়ন বৈধ ঘোষণার সময় রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয়ে বিপুল সংখ্যক নেতাকর্মী ও শুভাকাঙ্ক্ষী উপস্থিত ছিলেন।
সিলভার লাইন গ্রুপের কর্ণধার এবং বাগেরহাট সদর উপজেলার মুক্ষাইট গ্রামের বাসিন্দা বীর মুক্তিযোদ্ধা এমএএইচ সেলিম একজন ঝানু রাজনীতিক। ২০০১ সালের অষ্টম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিনি বাগেরহাট-২ আসনে তৎকালীন হেভিওয়েট প্রার্থী শেখ হেলাল উদ্দিনকে পরাজিত করে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন। সেই আমলের ব্যাপক উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডের কারণে জেলার সাধারণ মানুষের কাছে তাঁর বিশেষ গ্রহণযোগ্যতা রয়েছে।
এমএএইচ সেলিমের নির্বাচনী এলাকা ও রাজনৈতিক প্রোফাইল
| বিষয় | বিস্তারিত তথ্য |
|---|---|
| প্রার্থীর নাম | এমএএইচ সেলিম (সাবেক এমপি ও বীর মুক্তিযোদ্ধা) |
| নির্বাচনী আসনসমূহ | বাগেরহাট-১, বাগেরহাট-২ এবং বাগেরহাট-৩ |
| মনোনয়নের অবস্থা | স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে তিনটি আসনেই বৈধ |
| অতীত অর্জন | ২০০১ সালের সংসদ নির্বাচনে বাগেরহাট-২ আসনে জয়ী |
| প্রধান লক্ষ্য | শিল্পায়ন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং স্বাস্থ্য ও শিক্ষা উন্নয়ন |
| রাজনৈতিক আদর্শ | শহীদ জিয়ার আদর্শ ও খালেদা জিয়ার আশীর্বাদপুষ্ট |
মনোনয়নপত্র বৈধ হওয়ার পর এক প্রতিক্রিয়ায় এমএএইচ সেলিম বলেন, “আমি বাগেরহাটের জনগণের প্রতি আমার দায়বদ্ধতা থেকে এই সিদ্ধান্ত নিয়েছি। রাজনীতি আমার কাছে জনগণের সেবা করার একটি পবিত্র মাধ্যম। আমি যদি নির্বাচিত হতে পারি, তবে আমার দীর্ঘ অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে বাগেরহাটে ব্যাপক শিল্পায়ন করব, যাতে আমাদের তরুণদের আর কাজের জন্য বাইরে যেতে না হয়।”
স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে দাঁড়ানোর কারণ ব্যাখ্যা করতে গিয়ে তিনি আবেগাপ্লুত কণ্ঠে বলেন, “আমি শহীদ জিয়াউর রহমানের আদর্শের সৈনিক এবং দেশনেত্রী খালেদা জিয়ার আশীর্বাদপুষ্ট। এক সময় বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের অত্যন্ত আস্থাভাজন ছিলাম। মাঝখানে কিছুকাল রাজনীতি থেকে দূরে থাকায় দল হয়তো আমায় কিছুটা দূরত্বে রেখেছে, কিন্তু বাগেরহাটের সাধারণ মানুষের মন থেকে আমি এক মুহূর্তের জন্যও দূরে যাইনি। আমি দলের বিপক্ষে নই, বরং সাধারণ মানুষের আকাঙ্ক্ষা পূরণে নির্বাচনের ময়দানে নেমেছি।”
তিনি আরও যোগ করেন যে, সংসদ সদস্য থাকাকালীন তাঁর উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডের কথা বাগেরহাটবাসী এখনো মনে রেখেছে। তিনি বিশ্বাস করেন, বাগেরহাটের মানুষ যদি তাঁকে ভালোবাসে, তবে আগামী নির্বাচনে তিন আসনেই তাঁকে বেছে নেবে। এখন দেখার বিষয়, রাজনৈতিক মেরুকরণের এই লড়াইয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে তিনি কতটা সফল হন।