খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: সোমবার, ৫ জানুয়ারি ২০২৬
গোলের বৃষ্টি, তীব্র উত্তেজনা, খেলোয়াড়দের হাতাহাতি এবং লাল কার্ড—সব মিলিয়ে রোববার রাতে বাফুফে নারী লিগ যেন এক নাটকীয় রূপ নিয়েছিল। কমলাপুরের বীরশ্রেষ্ঠ শহীদ সিপাহি মোস্তফা কামাল স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ম্যাচে ফরাশগঞ্জ ক্লাব ২৩-০ ব্যবধানে কাচারীপাড়া দলকে পরাজিত করে। ফলাফল যেমন একতরফা, ম্যাচের ভেতরের ঘটনাপ্রবাহও তেমনি আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
খেলা শুরুর মাত্র ৩৮ সেকেন্ডের মাথায় ফরাশগঞ্জের পক্ষে প্রথম গোলটি আসে। শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলতে থাকা ফরাশগঞ্জ কাচারীপাড়াকে কোনোভাবেই দাঁড়াতে দেয়নি। তবে ম্যাচের ২১ মিনিটে পরিস্থিতি হঠাৎ বদলে যায়। দুই দলের একাধিক খেলোয়াড় জড়িয়ে পড়েন হাতাহাতিতে। উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে পুরো মাঠে, থমকে যায় খেলা। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে রেফারিদের কয়েক দফা আলোচনা করতে হয় ম্যাচ কমিশনারের সঙ্গে।
দীর্ঘ পর্যালোচনার পর ফরাশগঞ্জের মনিকা চাকমা ও কাচারীপাড়ার সামিয়া আক্তারকে সরাসরি লাল কার্ড দেখানো হয়। প্রায় ১৫ মিনিটের বিরতির পর পুনরায় খেলা শুরু হয়। তবে এই বিরতিও ফরাশগঞ্জের আক্রমণ থামাতে পারেনি। খেলা শুরু হওয়ার এক মিনিটের মধ্যেই তারা আবার গোল আদায় করে নেয়। প্রথমার্ধ শেষ হওয়ার আগেই ব্যবধান দাঁড়ায় ৮-০।
বিরতির আগে গোলের তালিকায় নাম লেখান শামসুন্নাহার জুনিয়র, অধিনায়ক মারিয়া মান্দা এবং অনামিকা ত্রিপুরা। দ্বিতীয়ার্ধে যেন পুরোপুরি গোল উৎসবে মেতে ওঠে ফরাশগঞ্জ। একের পর এক আক্রমণে ভেঙে পড়ে কাচারীপাড়ার রক্ষণভাগ। দ্বিতীয়ার্ধেই যোগ হয় আরও ১৫টি গোল।
এই ম্যাচে শামসুন্নাহার জুনিয়র ও মারিয়া মান্দা করেন জোড়া হ্যাটট্রিক। হ্যাটট্রিক পূর্ণ করেন তহুরা খাতুনও। শামসুন্নাহার সিনিয়র দুটি গোল করেন। এছাড়া একবার করে গোল করেন মনিকা চাকমা, সামিক্ষা ঘিমিরে, অনামিকা ত্রিপুরা, মানুচিং মারমা, প্রীতি ও তৃষা।
| বিষয় | তথ্য |
|---|---|
| ম্যাচ | ফরাশগঞ্জ ক্লাব বনাম কাচারীপাড়া |
| ফলাফল | ফরাশগঞ্জ ২৩–০ কাচারীপাড়া |
| ভেন্যু | শহীদ সিপাহি মোস্তফা কামাল স্টেডিয়াম |
| ম্যাচ শুরু | রাত ৮টা |
| ম্যাচ শেষ | রাত ১০টার পর |
| লাল কার্ড | মনিকা চাকমা, সামিয়া আক্তার |
| হ্যাটট্রিক | তহুরা খাতুন, শামসুন্নাহার জুনিয়র, মারিয়া মান্দা |
এশিয়া কাপের ঠিক আগে এমন একতরফা ও প্রতিদ্বন্দ্বিতাহীন ম্যাচ নতুন করে প্রশ্ন তুলছে নারী লিগের মান, কাঠামো ও জাতীয় দলের প্রস্তুতি নিয়ে। অতীতে ভুটান নারী লিগে অতিরিক্ত গোলের ম্যাচ নিয়ে সমালোচনা হলেও, একই চিত্র এবার দেশের লিগেও দেখা যাচ্ছে—যা উদ্বেগজনক বলেই মনে করছেন অনেক ফুটবল বিশ্লেষক।
রাত পৌনে ১২টার দিকে বাফুফে ম্যাচের আনুষ্ঠানিক ফল প্রকাশ করে। যদিও নারী লিগের প্রচারের কথা বলা হচ্ছে, মাঠপর্যায়ে সাংবাদিকদের জন্য পর্যাপ্ত সহযোগিতা ও সুযোগ-সুবিধার অভাব নিয়ে অভিযোগ থেকেই যাচ্ছে।
সব মিলিয়ে, এই ম্যাচ শুধু ২৩ গোলের ব্যবধানের জন্য নয়—হাতাহাতি, লাল কার্ড, দীর্ঘ বিরতি ও প্রতিযোগিতার মান নিয়ে প্রশ্ন তোলার কারণেও বাফুফে নারী লিগের ইতিহাসে আলাদা করে আলোচিত হয়ে থাকল।