খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: মঙ্গলবার, ৬ জানুয়ারি ২০২৬
বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ উপদেষ্টা মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খান জানিয়েছেন, খুচরা ও পাইকারি ব্যবসায়ীরা কারসাজি করে এলপিজির দাম বৃদ্ধি করেছেন। যারা এ ধরনের কার্যকলাপে জড়িত তাদের বিরুদ্ধে ইতোমধ্যেই ভ্রাম্যমাণ আদালত ও জেলা প্রশাসনের মাধ্যমে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (৬ জানুয়ারি) সচিবালয়ে সরকারি ক্রয় ও অর্থনৈতিক বিষয় সংক্রান্ত উপদেষ্টা পরিষদ কমিটির সভার পর সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। ফাওজুল কবির খান বলেন, “যারা আশা করছিলেন এলপিজির দাম বাড়বে, অনেকে সেই সুযোগ নেওয়ার চেষ্টা করেছে। আমরা জেলা প্রশাসন ও পুলিশের মাধ্যমে নিশ্চিত করেছি, প্রত্যেক জেলায় মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা হবে এবং যারা দোকান বন্ধ রেখেছেন তাদের খোলা হচ্ছে।”
তিনি আরও বলেন, “এলপিজির অস্বাভাবিক দাম বৃদ্ধির পেছনে কোনো প্রাকৃতিক কারণ নেই। এটি সম্পূর্ণভাবে কারসাজির মাধ্যমে ঘটেছে। আমরা আইনশৃঙ্খলা কমিটি ও ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করছি।”
সরকারি তথ্য অনুযায়ী, দেশে এলপিজি সিলিন্ডারের ৯৮% সরবরাহ প্রাইভেট সেক্টরের মাধ্যমে হয়, বাকি ২% আসে ইস্টার্ন রিফাইনারি থেকে। জ্বালানি বিভাগের পর্যবেক্ষণে এলপিজি আমদানি গত মাসের তুলনায় বৃদ্ধি পেয়েছে, তাই সরবরাহ কম হওয়ার কোনো যৌক্তিক কারণ নেই।
তবে বাস্তব পরিস্থিতি ভিন্ন। রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় এলপিজির কৃত্রিম সংকট তৈরি হয়েছে। দাম বেড়েছে সরকারি মূল্য ১,৩০৬ টাকার পরিবর্তে ১৫০ থেকে ৭৫০ টাকা বেশি। চট্টগ্রামের মিরসরাইয়ে রান্নার চুলা বন্ধ, হোটেল-রেস্তোরাঁ বন্ধ, শিল্পকারখানার উৎপাদন ব্যাহত। ময়মনসিংহের হালুয়াঘাটে সিলিন্ডারের বাজারমূল্য ১,২৫০ টাকার পরিবর্তে ২,০০০ টাকা পর্যন্ত পৌঁছেছে। পটুয়াখালীর বাউফলে দাম ১,৪৫০ টাকা।
সরকারি অভিযান এবং ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে বিভিন্ন ব্যবসায়ীর জরিমানা করা হয়েছে। নীচের টেবিলে দেশের কিছু গুরুত্বপূর্ণ এলাকা ও জরিমানা তথ্য দেখানো হলো:
| জেলা / এলাকা | সমস্যা ও অবস্থা | জরিমানা / ব্যবস্থা |
|---|---|---|
| মিরসরাই, চট্টগ্রাম | সরবরাহ বন্ধ, রান্নার চুলা বন্ধ, হোটেল-রেস্টুরাঁ বন্ধ | প্রশাসনের তৎপরতা বৃদ্ধি |
| হালুয়াঘাট, ময়মনসিংহ | সরকারি মূল্য অমান্য, ১২ কেজি সিলিন্ডার ১,৯০০–২,০০০ টাকা | স্থানীয় মোবাইল কোর্টে জরিমানা |
| বাউফল, পটুয়াখালী | ১,৩০৬ টাকা মূল্য ১,৪৫০ টাকায় বিক্রি | প্রশাসনিক নজরদারি |
| ভালুকা, ময়মনসিংহ | বোতলজাত এলপিজি বাজার মনিটরিং | মেসার্স আলিফ গ্যাস স্টোরকে ২০,০০০ টাকা জরিমানা |
| খাগড়াছড়ি | ১২ কেজি সিলিন্ডার সরকারি মূল্যের বেশি বিক্রি | তিন ব্যবসায়ীকে ১,০০০ টাকা করে জরিমানা |
| নওগাঁ | বিক্রয় রশিদ না দেওয়া, অতিরিক্ত দাম | এক ব্যবসায়ীকে ১,০০,০০০ টাকা জরিমানা |
ফাওজুল কবির খান উল্লেখ করেন, “আমরা স্থানীয় প্রশাসন ও পুলিশের মাধ্যমে কঠোর নজরদারি চালাচ্ছি। ব্যবসায়ীদের প্রয়োজনে বেশি পরিমাণ এলপিজি আমদানি অনুমতি দেওয়া হবে। আমাদের লক্ষ্য—গ্যাসের বাজার স্বাভাবিক রাখা এবং ভোক্তাদের জিম্মি না করা।”
এদিকে এলপিজি অপারেটস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (লোয়াব) জানিয়েছে, শীতের কারণে জাহাজভাড়া বৃদ্ধি ও ইউরোপে জ্বালানির চাহিদা বৃদ্ধির ফলে সরবরাহে সাময়িক অস্থিরতা হয়েছে। তবে মজুদ যথেষ্ট এবং সরকার নির্ধারিত দামের বাইরে বিক্রির জন্য কিছু খুচরা ব্যবসায়ী দোষী। তারা দ্রুত প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছে।