খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: বুধবার, ৭ জানুয়ারি ২০২৬
বাংলাদেশের প্রধান প্রতিবেশী ভারতকে কেন্দ্র করে কূটনৈতিক টানাপড়েন দেশের রাজনীতি ও আন্তর্জাতিক সম্পর্কের অন্যতম আলোচিত বিষয় হয়ে উঠেছে। স্বাধীনতার পর বিভিন্ন সময়ে দুই দেশের মধ্যে উত্তাপ থাকলেও, সাম্প্রতিক সময়ে বিশেষত গত ১৫ বছর ধরে সম্পর্কের মাত্রা তুলনামূলকভাবে ঘনিষ্ঠ ছিল। তবে ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের অভ্যুত্থানের পর ঢাকা-দিল্লির সম্পর্ক তিক্ততায় পর্যবসিত হয়েছে, যা স্বাধীনতার পর প্রথমবারের মতো নজিরবিহীন পর্যায়ে পৌঁছেছে।
প্রায় চার মাস ধরে ভারত থেকে বাংলাদেশে ‘পুশইন’ বা নাগরিক ঠেলাধাকেলার ঘটনা ঘটে, যা দুই দেশের কূটনৈতিক ইতিহাসে নতুন মাত্রা যোগ করেছে। বাংলাদেশের পক্ষ থেকে বারবার বলা হয়েছে যে, সময় ও পরিস্থিতি অনুযায়ী পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও স্বার্থের ভিত্তিতে ইতিবাচক সম্পর্ক বজায় রাখা প্রয়োজন।
গত বছর সেপ্টেম্বর মাসে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের ফাঁকে পররাষ্ট্র উপদেষ্টা মো. তৌহিদ হোসেন ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্করের সঙ্গে আলোচনা করেন। পরবর্তীতে ডিসেম্বরে দুই দেশের পররাষ্ট্র সচিব পর্যায়ের বৈঠক ঢাকায় অনুষ্ঠিত হয়। এ বছরের এপ্রিল মাসে বিমসটেক শীর্ষ সম্মেলনের ফাঁকে প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে বৈঠক করেছেন। তবু সম্পর্কের দূরত্ব কমেনি।
| তারিখ | ঘটনা | স্থান |
|---|---|---|
| ৫ আগস্ট ২০২৪ | অভ্যুত্থান | ঢাকা |
| সেপ্টেম্বর ২০২৪ | পররাষ্ট্র উপদেষ্টার আলোচনা | নিউইয়র্ক (জাতিসংঘ) |
| ডিসেম্বর ২০২৪ | পররাষ্ট্র সচিব বৈঠক | ঢাকা |
| এপ্রিল ২০২৫ | বিমসটেক ফ্রেমে শীর্ষ বৈঠক | ঢাকা |
সম্পর্কের অবনতি চূড়ান্ত আকার নেয় ক্রিকেটার মুস্তাফিজুর রহমানের আইপিএল নিলাম বিতর্ক, ভারতের গণমাধ্যমে বাংলাদেশবিরোধী প্রচারণা, এবং ভারতের ভূখণ্ডে বাংলাদেশের রাজনৈতিক নেতাদের সমালোচনাকে কেন্দ্র করে। ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক শরিফ ওসমান হাদি ও অন্যান্য হত্যাকাণ্ডের ঘটনা দুই দেশের মধ্যে নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে।
উল্লেখযোগ্য ঘটনা হিসেবে, বিজয় দিবসে ঢাকায় একটি গুরুত্বপূর্ণ সড়কের নাম ‘ফেলানী এভিনিউ’ রাখা হয়, যা বিএসএফের হাতে নিহত কিশোরী ফেলানী খাতুনের স্মরণে। এছাড়া ভারতের হিন্দুত্ববাদী সংগঠনের হামলার পর ঢাকায় ভিসা ও কনস্যুলার সেবা স্থগিত করা হয়।
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, আসন্ন জাতীয় নির্বাচন পর্যন্ত ভারতের সঙ্গে বর্তমান অন্তর্র্বর্তী সরকারের সম্পর্ক স্বাভাবিক হওয়ার সম্ভাবনা কম। তবে নির্বাচিত সরকার ক্ষমতায় এলে নতুন কৌশলের মাধ্যমে দুই দেশের সম্পর্ক পুনরায় গড়ে তোলা সম্ভব। অধ্যাপক ইমতিয়াজ আহমেদ বলেন, “নির্বাচনের আগে সম্পর্কের কোনো বড় পরিবর্তন সম্ভব নয়, তবে রুটিন কূটনৈতিক কাজ সচল রাখা জরুরি।”