খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: শুক্রবার, ৯ জানুয়ারি ২০২৬
জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রস্তুতি ও কার্যক্রমে তীব্র অস্থিরতা দেখা দিয়েছে, কারণ নির্বাচন কমিশন (ইসি) গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি বিষয়ে বারবার সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করছে। বিশেষ করে সংসদীয় আসনের সীমানা নির্ধারণ ও প্রার্থীর যোগ্যতা–অযোগ্যতা নির্ধারণে এ প্রতিষ্ঠান একাধিকবার ভিন্ন ভিন্ন পদক্ষেপ নিয়েছে। এমনকি রিটার্নিং কর্মকর্তাদের আনঅফিশিয়াল নির্দেশনা ভিত্তিক সিদ্ধান্তও পরে পরিবর্তন করার নজির রয়েছে। এর ফলে জাতীয় নির্বাচন ও গণভোট আয়োজন প্রক্রিয়ায় জটিলতা সৃষ্টি হচ্ছে।
সর্বশেষ পরিস্থিতিতে পাবনা-১ ও পাবনা-২ আসনের নির্বাচন ‘আপাতত’ স্থগিত করা হয়েছে। দুটি আসনের সীমানা সংক্রান্ত আইনি জটিলতা এ সিদ্ধান্তের প্রধান কারণ। বিষয়টি হাইকোর্টের রায়ের সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত। নির্বাচন কমিশন আপিল বিভাগের রায়ের পরিপ্রেক্ষিতে ৫ জানুয়ারি এই পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, কমিশন পূর্বে হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করলেও হঠাৎ তা প্রত্যাহার করে নিয়েছে।
২৪ ডিসেম্বর হাইকোর্টের রায়ের ভিত্তিতে কমিশন পাবনা-১, পাবনা-২ এবং ফরিদপুর-২ আসনের সীমানায় পরিবর্তন এনেছিল এবং সংশোধিত গেজেট বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছিল। নতুন সীমানার বিন্যাস নিম্নরূপ:
| আসন | অন্তর্ভুক্ত এলাকা | বাদ দেওয়া এলাকা |
|---|---|---|
| পাবনা-১ | সাথিয়া উপজেলা, বেড়া পৌরসভা, ৪টি ইউনিয়ন | নেই |
| পাবনা-২ | সুজানগর উপজেলা | বেড়া পৌরসভা, ৪টি ইউনিয়ন |
| ফরিদপুর-২ | পূর্বের সীমানা অনুযায়ী | – |
পরবর্তীতে আপিল বিভাগ ২৪ ডিসেম্বরের সংশোধিত বিজ্ঞপ্তির অংশ স্থগিত করেন। স্থগিতাদেশটি লিভ টু আপিল (আপিলের অনুমতি চেয়ে আবেদন) দায়ের করা পর্যন্ত কার্যকর থাকবে। ফলে, নির্বাচনের জন্য নির্ধারিত সীমানা হাইকোর্টের রায়ের আলোকে স্থগিত অবস্থায় থাকছে।
নির্বাচন কমিশনের নাম প্রকাশ না করার শর্তে একাধিক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, বাগেরহাট ও গাজীপুর আসনের সীমানা সংক্রান্ত মামলার আপিল নিষ্পত্তি হলেও, জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মনোনয়নপত্র দাখিলের সময় শেষ হওয়ার আগে পাবনা-১ ও ২ আসনের সীমানায় ফের পরিবর্তন আনা হয়েছে। এই প্রক্রিয়ায় আপিল নিষ্পত্তি পর্যন্ত কমিশন অপেক্ষা করেনি।
নির্বাচন কমিশনার আব্দুর রহমানেল মাছউদ যুগান্তরকে জানিয়েছেন, “পাবনা-১ ও ২ আসনের নির্বাচন পুরোপুরি স্থগিত হয়নি। আপাতত স্থগিত রাখা হয়েছে। সুপ্রিমকোর্টের পরবর্তী নির্দেশনা না আসা পর্যন্ত এই অবস্থাই থাকবে।”
পাবনা-১ ও ২ আসনের নির্বাচন স্থগিত হওয়ায় ভোটগ্রহণের পূর্বপ্রস্তুতি, প্রার্থীর মনোনয়ন প্রক্রিয়া এবং স্থানীয় প্রশাসনিক ব্যবস্থা সকল ক্ষেত্রেই সাময়িক স্থবিরতা দেখা দিয়েছে। ভোটার এবং স্থানীয় রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে।