খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: শুক্রবার, ৯ জানুয়ারি ২০২৬
ডেনমার্কের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় সতর্ক করে বলেছে, যুক্তরাষ্ট্র যদি গ্রিনল্যান্ডে আক্রমণ করার চেষ্টা করে, তবে ডেনিশ সেনারা “আগে গুলি চালাবে, পরে প্রশ্ন করবে।” এটি ১৯৫২ সালের সেনাবাহিনীর একটি নিয়মের সরাসরি প্রতিফলন, যা বলে, কোনো অনুপ্রবেশকারীকে প্রতিহত করতে সেনাদের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের অনুমোদনের জন্য অপেক্ষা করার প্রয়োজন নেই।
ডেনিশ সংবাদপত্র বার্লিংস্কে যখন এই নির্দেশের বর্তমান প্রযোজ্যতা সম্পর্কে জানতে চেয়েছে, প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় স্পষ্টভাবে জানিয়েছে, এটি এখনও কার্যকর এবং বলবৎ।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যখন ন্যাটো-সদস্য অঞ্চলের গ্রিনল্যান্ড দখলের পরিকল্পনা পুনর্বার শুরু করেছেন, ঠিক তখনই ডেনমার্কের পক্ষ থেকে এই কড়া মন্তব্য এসেছে। হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারি ক্যারোলিন লেভিট জানান, ট্রাম্প পরিষ্কার করেছেন, “গ্রিনল্যান্ড দখল করা যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় নিরাপত্তার জন্য অগ্রাধিকার। আর্কটিক অঞ্চলে শত্রুদের রুখতে এটি অত্যন্ত জরুরি।”
মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওও জানান, তিনি আগামী সপ্তাহে ডেনমার্ক ও গ্রিনল্যান্ডের কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করবেন। তবে তিনি স্পষ্ট করেছেন, ট্রাম্প দ্বীপটি কিনতে চান, সামরিক শক্তি ব্যবহার নয়। ডেনমার্ক এই সংলাপকে ‘প্রয়োজনীয়’ হিসেবে স্বাগত জানিয়েছে।
তবে মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স বুধবার বলেন, “ডেনমার্ক গ্রিনল্যান্ডের নিরাপত্তায় স্পষ্টভাবেই সফল হয়নি,” এবং যুক্তরাষ্ট্র আর্কটিক অঞ্চলে স্বার্থ রক্ষায় “যত দূর প্রয়োজন, তত দূর যেতে প্রস্তুত।”
ডেনমার্ক বারবার জোর দিয়ে বলেছে, গ্রিনল্যান্ড বিক্রয়ের জন্য নয়। ইউরোপীয় নেতারা গত মঙ্গলবার যৌথ বিবৃতিতে ট্রাম্পকে সতর্ক করেছেন, এই দ্বীপ ও ডেনমার্কের আঞ্চলিক অখণ্ডতাকে সম্মান করতে হবে।
ডেনিশ প্রধানমন্ত্রী মেটে ফ্রেডেরিকসেনও সোমবার হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন, “গ্রিনল্যান্ডে কোনো মার্কিন আক্রমণ ন্যাটো জোটের সমাপ্তি এবং দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর থেকে প্রতিষ্ঠিত নিরাপত্তার অবসানের সমান।”
ট্রাম্পের যুক্তি হলো, চীন ও রাশিয়ার ক্রমবর্ধমান প্রভাবের কারণে আর্কটিক অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বিশ্বের বৃহত্তম এই দ্বীপটি নিজেদের নিয়ন্ত্রণে রাখা অপরিহার্য।
গ্রিনল্যান্ড সম্পর্কিত প্রধান তথ্য:
| বিষয় | বিবরণ |
|---|---|
| অবস্থান | আর্কটিক মহাসাগরের পূর্বাংশ, ডেনমার্কের স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চল |
| আয়তন | ২,১৬৬,৮৬০ বর্গ কিমি (বিশ্বের বৃহত্তম দ্বীপ) |
| জনসংখ্যা | প্রায় ৫৬,০০০ |
| রাজনৈতিক অবস্থা | ডেনমার্কের অন্তর্গত স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চল |
| অর্থনীতি | খনিজ সম্পদ, মাছ ধরার শিল্প, সামান্য পর্যটন |
| সামরিক নিয়ম | ১৯৫২ সাল থেকে অনুপ্রবেশ রোধে সেনাদের স্বাধীনতা |