খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: শনিবার, ১০ জানুয়ারি ২০২৬
বাংলাদেশের কর্পোরেট খাতে বিদেশি বিনিয়োগে উল্লেখযোগ্য হ্রাস দেখা দিয়েছে, যা অর্থনীতিবিদ এবং বাজার বিশ্লেষকদের মধ্যে দেশের অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা নিয়ে উদ্বেগ বৃদ্ধি করেছে। ২০২৫ সালের নভেম্বর মাস পর্যন্ত ব্যক্তিগত খাতের স্বল্পমেয়াদি বৈদেশিক ঋণ মাত্র ৯.৮০ বিলিয়ন ডলারে নেমে এসেছে। এটি কেবল কর্পোরেট সংস্থাগুলোর সংযমী অবস্থার প্রতিফলন নয়, বরং বৈদেশিক বিনিয়োগে অনিশ্চয়তার প্রতিও ইঙ্গিত প্রদান করছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, ব্যক্তিগত খাতের স্বল্পমেয়াদি বৈদেশিক ঋণ ২০২৩ সালের মাঝামাঝি থেকে ধীরে ধীরে কমছে। মে ২০২৩-এ এটি ১৩.৯৫ বিলিয়ন ডলারে অবস্থান করলেও, ২০২৫ সালের মার্চে কমে ১০.১৩ বিলিয়ন ডলারে নেমে আসে এবং নভেম্বর ২০২৫-এ তা আবারও ৯.৮০ বিলিয়ন ডলারে নামেছে।
স্বল্পমেয়াদি কর্পোরেট বৈদেশিক ঋণের প্রবণতা (বিলিয়ন মার্কিন ডলার)
| মাস / বছর | স্বল্পমেয়াদি বৈদেশিক ঋণ (বিলিয়ন USD) |
|---|---|
| মে ২০২৩ | ১৩.৯৫ |
| জানুয়ারি ২০২৫ | ৯.৮০ |
| মার্চ ২০২৫ | ১০.১৩ |
| জুন ২০২৫ | ১০.২২ |
| নভেম্বর ২০২৫ | ৯.৮০ |
| ডিসেম্বর ২০২৫* | ৯.৮৫ |
*প্রক্ষেপিত
এই হ্রাসের পেছনে কয়েকটি কারণ কাজ করেছে। শিল্পাঞ্চলে স্থায়ী বিদ্যুৎ সংকট, মুদ্রার অবমূল্যায়ন এবং ২০২৪ সালের আগস্টে সরকারের পরিবর্তনের পর রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা বৃদ্ধি কর্পোরেট ঋণের চাহিদা সীমিত করেছে।
দেশগুলোর মধ্যে সংযুক্ত আরব আমিরাত সর্বাধিক স্বল্পমেয়াদি ঋণ দিয়েছে, যার পরিমাণ ১.৭১ বিলিয়ন ডলার, এরপর আসে সিঙ্গাপুর (১.৬৪ বিলিয়ন), চীন (০.৯৩ বিলিয়ন), হংকং (০.৭৭ বিলিয়ন) এবং যুক্তরাজ্য (০.৫২ বিলিয়ন)।
বাংলাদেশ ব্যাংকের একজন সিনিয়র কর্মকর্তা গোপনীয়তার শর্তে বলেন, “বৈদেশিক ঋণের হ্রাস কিছুটা বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের ওপর চাপ কমাতে পারে। তবে রেকর্ড রেমিট্যান্স আগেই আমাদের রিজার্ভকে শক্তিশালী করেছে।”
বাংলাদেশ চেম্বার অব ইন্ডাস্ট্রিজের (BCI) সভাপতি আনোয়ার-উল আলম চৌধুরী বলেন, “চলমান বিদ্যুৎ সংকট, আইন-শৃঙ্খলার উদ্বেগ এবং উচ্চ সুদের কারণে ব্যবসায়ীরা তাদের উৎপাদনের অর্ধেকও ধরে রাখতে পারছে না। এই প্রেক্ষাপটে বিদেশি ঋণের হ্রাস বিস্ময়কর নয়।”
অর্থনীতিবিদরা সতর্ক করেছেন যে, স্বল্পমেয়াদি কর্পোরেট ঋণের হ্রাস সাময়িকভাবে ব্যালান্স-অফ-পেমেন্ট চাপ কমাতে সাহায্য করতে পারে, তবে দীর্ঘমেয়াদে বিদেশি তহবিলের ধারাবাহিক সংকোচন ব্যক্তিগত খাতের নেতৃত্বে অর্থনৈতিক বৃদ্ধিকে ব্যাহত করতে পারে। এই সময়ে অভ্যন্তরীণ বিনিয়োগ দেশের অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধার এবং দীর্ঘমেয়াদী উন্নয়নের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।