খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: মঙ্গলবার, ১৩ জানুয়ারি ২০২৬
কক্সবাজারের সাগরদ্বীপ মহেশখালী উপজেলায় এক হৃদয়বিদারক ঘটনার অবতারণা হয়েছে। উপজেলার কুতুবজোম ইউনিয়নের নয়াপাড়া এলাকায় আজ রোববার বিকেলে নিজ বসতবাড়ি থেকে মা ও তাঁর চার বছর বয়সী শিশুপুত্রের নিথর দেহ উদ্ধার করেছে স্থানীয় পুলিশ। একই পরিবারের দুই সদস্যের এমন মর্মান্তিক মৃত্যুতে এলাকায় গভীর শোক ও চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
ঘটনার বিবরণ ও লাশের প্রাথমিক অবস্থা
নিহতরা হলেন ইসমত আরা (২৬) এবং তাঁর একমাত্র সন্তান আবরার (৪)। স্থানীয়দের মাধ্যমে খবর পেয়ে পুলিশ বিকেলে ঘটনাস্থলে পৌঁছায় এবং মা ও ছেলের মরদেহ উদ্ধার করে। পুলিশের প্রাথমিক সুরতহাল প্রতিবেদনে ইসমত আরার মাথা ও গলায় গুরুতর আঘাতের চিহ্ন পাওয়ার কথা জানানো হয়েছে। অধিকন্তু, লাশের পাশ থেকে একটি রক্তমাখা ইট উদ্ধার করা হয়েছে, যা এই মৃত্যুকে ঘিরে রহস্য আরও ঘনীভূত করেছে।
নিচে নিহতদের পরিচয় ও ঘটনার প্রাথমিক তথ্য সংক্ষেপে তুলে ধরা হলো:
| বিষয়ের ক্ষেত্র | বিস্তারিত তথ্য |
|---|---|
| নিহতদের নাম | ইসমত আরা (২৬) ও আবরার (৪)। |
| সম্পর্ক | মা এবং শিশুপুত্র। |
| ঘটনাস্থল | নয়াপাড়া, কুতুবজোম ইউনিয়ন, মহেশখালী। |
| উদ্ধারকৃত আলামত | রক্তমাখা ইট ও আঘাতের চিহ্ন। |
| পারিবারিক অবস্থা | বিচ্ছেদপ্রাপ্ত (বাবার বাড়িতে অবস্থান)। |
| তদন্তকারী কর্মকর্তা | মজিবুর রহমান (ওসি, মহেশখালী থানা)। |
| মরদেহের বর্তমান অবস্থা | ময়নাতদন্তের জন্য জেলা সদর হাসপাতালে প্রেরিত। |
পারিবারিক পটভূমি ও পুলিশের প্রাথমিক ধারণা
মহেশখালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মজিবুর রহমান জানিয়েছেন যে, নিহত ইসমত আরার জীবন ছিল বেশ দীর্ঘশ্বাসে ভরা। কয়েক বছর আগে স্বামী আনসার হোসেন তাঁকে ত্যাগ করে চলে যান। এরপর থেকে তিনি সন্তানকে নিয়ে বাবার বাড়ির পাশেই একটি ঝুপড়ি ঘরে অত্যন্ত কষ্টে দিনাতিপাত করতেন। পরিবারের সদস্য ও জনপ্রতিনিধিদের বরাত দিয়ে ওসি আরও জানান, ইসমত আরা দীর্ঘদিন ধরে মানসিক ভারসাম্যহীনতায় ভুগছিলেন। এর আগে তিনি নিজের গায়ে আগুন দিয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করেছিলেন এবং প্রায়ই নিজের মাথা দেয়ালে আঘাত করে জখম করতেন।
প্রাথমিকভাবে পুলিশের ধারণা, মানসিকভাবে বিপর্যস্ত মা হয়তো প্রথমে শিশুপুত্র আবরারকে গলা টিপে হত্যা করেছেন এবং পরবর্তীতে নিজের মাথায় ইট দিয়ে আঘাত করে আত্মহননের পথ বেছে নিয়েছেন। তবে আঘাতের ধরণ ও পারিপার্শ্বিক অবস্থা বিবেচনা করে এটি কেবলই আত্মহত্যা নাকি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড, তা নিয়ে ধোঁয়াশা রয়ে গেছে।
রহস্যের জাল ও ময়নাতদন্ত
স্থানীয় ইউপি সদস্য জয়নাল আবেদীন জানিয়েছেন, ঝুপড়ি ঘর থেকে রক্তমাখা ইট উদ্ধার এবং মায়ের শরীরে আঘাতের চিহ্ন থাকার বিষয়টি এলাকাবাসীর মনে নানা প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে। এটি কি কেবলই মানসিক বিকারগ্রস্ততার ফল, নাকি এর পেছনে অন্য কোনো পারিবারিক বিবাদ বা তৃতীয় পক্ষের হাত রয়েছে—তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। পুলিশ জানিয়েছে, মরদেহ দুটি ময়নাতদন্তের জন্য কক্সবাজার সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্তের পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন হাতে পেলেই মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত হওয়া যাবে।
বর্তমানে এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে মহেশখালী থানায় একটি অপমৃত্যু মামলার প্রস্তুতি চলছে। পুলিশ ঘটনা তদন্তে নিহতের পরিবারের অন্যান্য সদস্যদের জিজ্ঞাসাবাদ করছে।