খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: মঙ্গলবার, ১৩ জানুয়ারি ২০২৬
ইরানে চলমান সরকারবিরোধী বিক্ষোভে সহিংসতা ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস অ্যাকটিভিস্টস নিউজ এজেন্সি (এইচআরএএনএ)-এর তথ্য অনুযায়ী, এ পর্যন্ত দেশটিতে বিক্ষোভ ও দমন-পীড়নের ঘটনায় নিহত হয়েছেন ৫০০ জনেরও বেশি মানুষ। রোববার সংস্থাটি এই পরিসংখ্যান প্রকাশ করে জানায়, ইরানের ভেতরে ও বাইরে অবস্থানরত নিজস্ব নেটওয়ার্ক এবং মাঠপর্যায়ের কর্মীদের কাছ থেকে পাওয়া তথ্য যাচাই করেই এই হিসাব প্রস্তুত করা হয়েছে।
এইচআরএএনএ জানিয়েছে, গত দুই সপ্তাহে অন্তত ৪৯০ জন বিক্ষোভকারী এবং ৪৮ জন নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্য নিহত হয়েছেন। একই সময়ে ১০ হাজার ৬০০ জনের বেশি মানুষকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে দাবি করা হয়। গ্রেপ্তারদের মধ্যে শিক্ষার্থী, শ্রমিক, নারী অধিকারকর্মী ও সামাজিক আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিরাও রয়েছেন। তবে ইরান সরকার এখন পর্যন্ত হতাহত বা গ্রেপ্তারের কোনো আনুষ্ঠানিক সংখ্যা প্রকাশ করেনি।
এই পরিস্থিতি এমন এক সময়ে সামনে এলো, যখন যুক্তরাষ্ট্র প্রকাশ্যে ইরানের বিক্ষোভকারীদের পক্ষে অবস্থান নিয়ে সম্ভাব্য হস্তক্ষেপের হুঁশিয়ারি দিয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প একাধিক বক্তব্যে বলেছেন, শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভকারীদের ওপর অতিরিক্ত বলপ্রয়োগ করা হলে যুক্তরাষ্ট্র বিষয়টি উপেক্ষা করবে না। এর জবাবে তেহরান কড়া প্রতিক্রিয়া জানিয়ে বলেছে, কোনো বিদেশি হামলা হলে তার শক্ত জবাব দেওয়া হবে।
বিশ্লেষকদের মতে, ২০২২ সালের পর এটিই ইরানে সবচেয়ে বড় ও বিস্তৃত সরকারবিরোধী আন্দোলন। শুরুতে দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধি ও জীবনযাত্রার ব্যয় বেড়ে যাওয়ার প্রতিবাদ হিসেবে গত ২৮ ডিসেম্বর এই বিক্ষোভ শুরু হয়। কিন্তু অল্প সময়ের মধ্যেই তা রাজনৈতিক দাবি ও শাসনব্যবস্থার পরিবর্তনের আহ্বানে রূপ নেয়। বিভিন্ন শহর ও প্রদেশে ছড়িয়ে পড়া এই আন্দোলন ইরানের শাসকগোষ্ঠীর জন্য নতুন করে বড় চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে।
ইরান সরকারের অভিযোগ, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল এই বিক্ষোভে ইন্ধন জোগাচ্ছে এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের মাধ্যমে উসকানি দেওয়া হচ্ছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে গত বৃহস্পতিবার থেকে দেশটিতে প্রায় সব ধরনের ইন্টারনেট সেবা সীমিত বা বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। ফলে দেশটির ভেতরের প্রকৃত পরিস্থিতি সম্পর্কে নির্ভরযোগ্য ও তাৎক্ষণিক তথ্য পাওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে।
| বিষয় | তথ্য |
|---|---|
| বিক্ষোভ শুরুর তারিখ | ২৮ ডিসেম্বর |
| নিহত বিক্ষোভকারী | প্রায় ৪৯০ জন |
| নিহত নিরাপত্তা সদস্য | প্রায় ৪৮ জন |
| মোট নিহত | ৫০০+ |
| গ্রেপ্তার | ১০,৬০০+ |
| ইন্টারনেট অবস্থা | ব্যাপকভাবে সীমিত |
মানবাধিকার সংগঠনগুলো আশঙ্কা করছে, পরিস্থিতি দ্রুত নিয়ন্ত্রণে না এলে হতাহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের দৃষ্টি এখন ইরানের দিকে, যেখানে অভ্যন্তরীণ অস্থিরতা ও বৈদেশিক চাপ—দুটোই দেশটির ভবিষ্যৎ রাজনীতি ও নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে গভীর অনিশ্চয়তার দিকে ঠেলে দিচ্ছে।