খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: মঙ্গলবার, ১৩ জানুয়ারি ২০২৬
রাজধানী ও আশপাশের এলাকায় শীতের শুরুতেই সরকারি পাইপলাইনের গ্যাস সংকট শুরু হয়েছে। মাসের পর মাস নিয়মিত বিল পরিশোধ করেও অনেক বাসিন্দাই ন্যূনতম গ্যাস পাচ্ছেন না। অন্যদিকে এলপিজি (তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস) সিলিন্ডারের অভাব এবং দামের ঊর্ধ্বগতি সাধারণ মানুষকে আরও ভোগান্তিতে ফেলেছে। বহু পরিবার বাধ্য হয়ে মাটির চুলা অথবা ইলেকট্রিক ও ইন্ডাকশন চুলার ওপর নির্ভর করছেন।
মোহাম্মদপুরের কাদেরিয়া মাদ্রাসা রোডে বসবাসকারী গৃহিণী পারভীন আক্তার বলেন, “আমাদের বাসায় সরকারি পাইপলাইনের সংযোগ থাকলেও শীতকালে চুলায় গ্যাসের চাপ একেবারেই কমে গেছে। সারাদিন গ্যাস না থাকলেও রাত ১২টার পর সামান্য গ্যাস আসে, কিন্তু এতে রান্না ঠিকমতো করা যায় না। বাধ্য হয়ে এলপিজি সিলিন্ডার কিনতে হয়।” মিরপুরের বেসরকারি চাকরিজীবী আসাদ আবেদীনও জানান, “শীতকালে পাইপলাইন গ্যাস একেবারেই থাকে না। মাঝরাতে কিছুটা গ্যাস এলে তখনই রান্না করতে হয়, যা যথেষ্ট নয়।”
টঙ্গী এলাকার মোস্তফা পাটোয়ারী বলেন, “এলপিজি সিলিন্ডার কিনতেও বাজারে নেই, আর যে দামে বিক্রি হচ্ছে, তা আমাদের জন্য অসম্ভব। তাই বিকল্প হিসেবে মাটির চুলায় রান্না করছি।”
দেশে প্রায় ৫ কোটি ৫০ লাখ সিলিন্ডার থাকা সত্ত্বেও বর্তমানে মাত্র ১ কোটি ২৫ লাখ সিলিন্ডারই রিফিল হচ্ছে। বড় এলপিজি কোম্পানিগুলোর আমদানি বন্ধ থাকায় ঘাটতি পূরণ করা সম্ভব হচ্ছে না। এলপিজি অপারেটরস এসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের সহ-সভাপতি হুমায়ুন রশিদ জানান, আন্তর্জাতিক সরবরাহে বিঘ্ন এবং ইউরোপে বেড়ে যাওয়া চাহিদার কারণে বাংলাদেশেও এলপিজির সংকট তীব্র হচ্ছে।
পেট্রোবাংলার তথ্য অনুযায়ী, তিন মাস আগে দৈনিক ২,৭০০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ করলেও চলতি মাসে তা কমে এসেছে ২,৫০০ মিলিয়ন ঘনফুটে। এর মধ্যে ৮৩২ মিলিয়ন ঘনফুট এলএনজি থেকে সরবরাহ করা হচ্ছে। দেশের এলএনজি টার্মিনালের সর্বোচ্চ সক্ষমতা ১,০০০ মিলিয়ন ঘনফুট, বাকিটা আসে দেশীয় কূপ থেকে। অক্টোবর থেকে জানুয়ারি পর্যন্ত দেশীয় কূপ থেকে সরবরাহ কমেছে ৪০ মিলিয়ন ঘনফুট।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শীতকালে চাহিদা বেড়ে গেলেও সরবরাহ কমে যাওয়ায় সংকট আরও তীব্র হয়েছে। অবৈধ সংযোগ বেড়ে যাওয়ায় বৈধ গ্রাহকরা গ্যাস পাচ্ছেন না। পেট্রোবাংলার পরিচালক মো. রফিকুল ইসলাম জানান, নতুন কূপ খনন করা হচ্ছে, নতুন এলএনজি টার্মিনাল স্থাপন প্রক্রিয়াধীন এবং অবৈধ সংযোগের বিরুদ্ধে নিয়মিত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
| বিষয় | পরিমাণ / অবস্থা |
|---|---|
| দৈনিক চাহিদা (রাজধানী) | ২,১০০ মিলিয়ন ঘনফুট |
| সরবরাহ (বর্তমান) | ১,৫০০ মিলিয়ন ঘনফুট |
| পেট্রোবাংলার সরবরাহ | ২,৫০০ মিলিয়ন ঘনফুট |
| এলএনজি সরবরাহ | ৮৩২ মিলিয়ন ঘনফুট |
| রিফিল হওয়া এলপিজি | ১ কোটি ২৫ লাখ সিলিন্ডার |
| বাজারে এলপিজি সিলিন্ডারের দাম | ২,২০০ টাকা (সরকারি ১,৩০৬ টাকা) |
| পাইপলাইন গ্যাস বিল | ১,০৮০ টাকা প্রতি মাস |
বিশেষজ্ঞদের মতে, সরকারের দ্রুত হস্তক্ষেপ ও দীর্ঘমেয়াদি নীতি ছাড়া বাসিন্দাদের জন্য গ্যাস সংকট এ মৌসুমে আরও বাড়তে পারে। এলপিজি সরবরাহ নিশ্চিত করা এবং পাইপলাইন গ্যাসের চাপ বৃদ্ধি করা এখন জরুরি।