খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: সোমবার, ১২ জানুয়ারি ২০২৬
মালয়েশিয়ার জোহর রাজ্যের পেকান নেনাস ইমিগ্রেশন ডিটেনশন ডিপো সোমবার (১২ জানুয়ারি) ১৮ জন বাংলাদেশিসহ মোট ২০১ অভিবাসীকে তাদের নিজ নিজ দেশে ফেরত পাঠিয়েছে। জোহর রাজ্য ইমিগ্রেশন বিভাগ জানায়, নতুন বছরের শুরুতেই বিদেশি বন্দিদের প্রত্যাবাসন কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে। এটি অবৈধভাবে দেশে অবস্থানরত বিদেশি নাগরিকদের নিয়ন্ত্রণে রাখতে এবং ডিটেনশন ডিপোর উপর অতিরিক্ত চাপ কমাতে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
ফেরত পাঠানো অভিবাসীদের মধ্যে রয়েছে ১৬০ জন ইন্দোনেশিয়ার, ১৮ জন বাংলাদেশের, ১৩ জন পাকিস্তানের, ৪ জন কম্বোডিয়ার এবং ৩ জন করে ভারত ও সিঙ্গাপুরের নাগরিক। প্রত্যাবাসন কার্যক্রম কুয়ালালামপুর আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর (KLIA-1 ও KLIA-2) এবং স্টুলাং লাউট ফেরি টার্মিনালের মাধ্যমে সম্পন্ন করা হয়েছে। প্রত্যেক বন্দিকে ফেরতের আগে তাদের পরিচয় যাচাই করা হয়েছে এবং যথাযথ কাগজপত্র প্রস্তুত করা হয়েছে।
| দেশ | সংখ্যা | প্রত্যাবাসন মাধ্যম |
|---|---|---|
| ইন্দোনেশিয়া | 160 | কেএলআইএ-১, কেএলআইএ-২ |
| বাংলাদেশ | 18 | কেএলআইএ-২ |
| পাকিস্তান | 13 | কেএলআইএ-১ |
| কম্বোডিয়া | 4 | স্টুলাং লাউট ফেরি টার্মিনাল |
| ভারত | 3 | কেএলআইএ-২ |
| সিঙ্গাপুর | 3 | স্টুলাং লাউট ফেরি টার্মিনাল |
| মোট | 201 | – |
জোহর রাজ্য ইমিগ্রেশন বিভাগ জানিয়েছে, প্রত্যাবাসনের পর সকল অভিবাসীকে মালয়েশিয়া ইমিগ্রেশন সিস্টেমে ব্ল্যাকলিস্ট করা হয়েছে। এর ফলে তারা নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কোনো উদ্দেশ্যেই মালয়েশিয়ায় পুনঃপ্রবেশ করতে পারবেন না। এই ব্যবস্থা মূলত দেশের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং আইন অমান্যকারীদের জন্য সতর্কবার্তা হিসেবে কাজ করছে।
পেকান নেনাস ইমিগ্রেশন ডিটেনশন ডিপোর প্রধান কার্যক্রমগুলির মধ্যে বন্দি প্রত্যাবাসন অন্যতম। ডিপোর কর্মকর্তা জানান, বন্দি প্রত্যাবাসনের জন্য নির্ধারিত সার্ভিস কাউন্টার ব্যবহার করতে হবে এবং কোনো অতিরিক্ত সার্ভিস চার্জ নেই। তারা মধ্যস্বত্বভোগী বা অনৈতিক উপায়ে ফি নেওয়ার চেষ্টা করলে তা কঠোরভাবে দমন করা হবে।
এছাড়া, প্রত্যাবাসন সংক্রান্ত যে কোনো তথ্য বা জিজ্ঞাসার জন্য পেকান নেনাস ইমিগ্রেশন ডিপোর রেকর্ডস ও ট্রান্সফার ইউনিটে ফোন (০৭-৬৯৯৩৫৪০) বা অনলাইন অনুসন্ধান সিস্টেম (SPO) ব্যবহার করে যোগাযোগ করা সম্ভব। ডিপো সূত্র জানায়, এই ধরণের কার্যক্রম নিয়মিতভাবে চলবে যাতে সাজাপ্রাপ্ত বা অবৈধ অভিবাসীরা দেশে অবস্থান করতে না পারে।
মালয়েশিয়ার ইমিগ্রেশন বিভাগের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, দেশে বৈধভাবে না থাকা বিদেশি নাগরিকদের নিয়ন্ত্রণ রাখা এবং জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সরকারের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার। এই ধরণের অভিযানের ফলে অভিবাসীদের আইন মানা ও নিয়ন্ত্রণে রাখা সহজ হয়।
সর্বশেষ এই কার্যক্রমে বাংলাদেশিসহ ২০১ জন অভিবাসী তাদের নিজ দেশে ফিরেছেন, যা মালয়েশিয়ার অভিবাসন নীতির কার্যকর বাস্তবায়ন হিসেবে ধরা হচ্ছে। অভিবাসন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, নিয়মিত প্রত্যাবাসন কার্যক্রমে বিদেশি নাগরিকদের অবৈধ অবস্থান নিয়ন্ত্রণে রাখতে এবং ডিটেনশন সেন্টারে অপ্রয়োজনীয় চাপ কমাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।