খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: বুধবার, ১৪ জানুয়ারি ২০২৬
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন চলাকালে রাজধানীর ধানমন্ডিতে সংগঠিত একটি হত্যাচেষ্টা মামলায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ ১১৩ জন আসামিকে সম্প্রতি অব্যাহতি প্রদান করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। এই অব্যাহতিকে কেন্দ্র করে দেশজুড়ে আলোচনা ও বিতর্কের সৃষ্টি হলে সংস্থাটি মঙ্গলবার (১৩ জানুয়ারি) বিকেলে এক আনুষ্ঠানিক সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এর পেছনের কারণগুলো বিস্তারিতভাবে ব্যাখ্যা করেছে। পিবিআই জানিয়েছে, মামলার তথ্য ও ভিকটিমের অস্তিত্ব নিয়ে গুরুতর অসংগতি পাওয়ায় চূড়ান্ত প্রতিবেদন দাখিল করা হয়েছে।
পিবিআই-এর ভাষ্যমতে, ধানমন্ডি থানায় গত ৩ সেপ্টেম্বর ২০২৪ তারিখে শরিফ (৩৭) নামক এক ব্যক্তি একটি মামলা (মামলা নম্বর-০১) দায়ের করেন। এতে অভিযোগ করা হয় যে, ৪ আগস্ট ধানমন্ডি-২৭ এলাকায় সাহেদ আলী (২৭) নামে তার এক ছোট ভাই গুলিবিদ্ধ হয়েছেন। মামলার এজাহারে ১১৩ জন রাজনৈতিক নেতা-কর্মীকে আসামি করা হলেও তদন্তে নেমে পিবিআই বিস্ময়কর সব তথ্য পায়।
তদন্ত প্রতিবেদনে সংস্থাটি কয়েকটি প্রধান কারণ উল্লেখ করেছে:
ভিকটিমের অস্তিত্বহীনতা: এজাহারে সাহেদ আলীর যে ঠিকানা ও পরিচয় দেওয়া হয়েছে, সেই এলাকায় তার কোনো অস্তিত্ব পাওয়া যায়নি।
ভুয়া পরিচয়পত্র: ভিকটিমের নামে দাখিলকৃত জাতীয় পরিচয়পত্রটি পরীক্ষা করে দেখা গেছে সেটি সম্পূর্ণ ভুয়া এবং উক্ত এনআইডি-র বিপরীতে কোনো নিবন্ধিত মোবাইল নম্বর পাওয়া যায়নি।
মিথ্যা আত্মীয়তা: তদন্তে প্রমাণিত হয়েছে যে, বাদী শরিফ ও তথাকথিত ভিকটিম সাহেদ আলী কোনোভাবেই ভাই নন।
ভুয়া ব্যবসা প্রতিষ্ঠান: সাহেদ আলীর ব্যবসা প্রতিষ্ঠান হিসেবে ‘সীমান্ত স্কয়ার’-এর নাম উল্লেখ করা হলেও মার্কেট কমিটি লিখিতভাবে জানিয়েছে যে এই নামে কোনো ব্যবসায়ী বা কর্মচারী সেখানে নেই।
পিবিআই জানিয়েছে যে তারা বৈষম্যবিরোধী আন্দোলন সংশ্লিষ্ট সব মামলা অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দেখছে। তবে কোনো মামলায় প্রমাণের অভাব থাকলে বা তথ্য অসংগতিপূর্ণ হলে সেখানে আইনি ধারা বজায় রাখা সম্ভব হয় না। নিচে বৈষম্যবিরোধী আন্দোলন সংশ্লিষ্ট মামলার তদন্তের একটি চিত্র তুলে ধরা হলো:
| মামলার ধরন | তদন্তের সংখ্যা | বর্তমান অবস্থা |
| জিআর (GR) মামলা | ১৭টি | অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় চার্জশিট দাখিল। |
| সিআর (CR) মামলা | ৬৭টি | অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় প্রতিবেদন দাখিল। |
| ধানমন্ডি হত্যাচেষ্টা মামলা | ০১টি | অসংগতির কারণে চূড়ান্ত প্রতিবেদন (অব্যাহতি)। |
এই মামলায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ছাড়াও তার ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয়সহ শীর্ষস্থানীয় ১১৩ জনকে অব্যাহতির সুপারিশ করা হয়েছে। ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের সাধারণ নিবন্ধন কর্মকর্তা এসআই আবুল বাশার জানান, পিবিআই-এর দেওয়া এই চূড়ান্ত প্রতিবেদনের ওপর ভিত্তি করে আগামী ৩ ফেব্রুয়ারি পরবর্তী শুনানির দিন নির্ধারণ করা হয়েছে। ওই দিন আদালত ঠিক করবেন প্রতিবেদনটি গ্রহণ করা হবে কি না।
পিবিআই সদর দপ্তর জানিয়েছে, যথাযথ তথ্য-প্রমাণ ও সুনির্দিষ্ট ঠিকানার অভাবে এবং ভিকটিমের অস্তিত্ব খুঁজে না পাওয়ায় ন্যায়বিচারের স্বার্থে তারা এই সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে। সংস্থাটি আরও আশ্বস্ত করেছে যে, উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বা হয়রানিমূলক মামলা শনাক্ত করে আইনি স্বচ্ছতা বজায় রাখতে তারা বদ্ধপরিকর।