খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ১৫ জানুয়ারি ২০২৬
২০২৫ সালে প্রাকৃতিক দুর্যোগ বিশ্ব অর্থনীতিতে গভীর অভিঘাত সৃষ্টি করেছে, যার মধ্যে এশিয়া–প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চল সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত হয়েছে। আন্তর্জাতিক পুনর্বীমা খাতের তথ্য অনুযায়ী, ওই বছরে বিশ্বব্যাপী প্রাকৃতিক দুর্যোগজনিত মোট আর্থিক ক্ষতি প্রায় ২২৪ বিলিয়ন মার্কিন ডলার, যার মধ্যে এশিয়া–প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের ক্ষতি প্রায় ৭৩ বিলিয়ন ডলার—যা বৈশ্বিক মোট ক্ষতির প্রায় এক-তৃতীয়াংশ। এটি গত দশ বছরের গড় বাৎসরিক ক্ষতির প্রায় ৬৬ বিলিয়ন ডলারের চেয়ে অনেক বেশি, যা ২০২৫ সালের অর্থনৈতিক প্রভাবকে অত্যন্ত ব্যয়সাপেক্ষ হিসেবে চিহ্নিত করেছে।
ক্ষতির পরিমাণ বৃদ্ধি পেতে মূল ভূমিকা রেখেছে সীমিত আর্থিক সুরক্ষা। এশিয়ায় ৭৩ বিলিয়ন ডলারের ক্ষতির মধ্যে মাত্র প্রায় ৯ বিলিয়ন ডলার বীমা দ্বারা কভার হয়েছে। অর্থাৎ, অধিকাংশ ক্ষতি সরাসরি পরিবারের, ক্ষুদ্র ও মাঝারি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান এবং সরকারি কোষাগারে বহন করতে হয়েছে। অনেক নিম্ন ও মধ্যম আয়ের দেশে বীমার প্রবেশযোগ্যতা এখনও ৫ শতাংশের নিচে, যা দুর্যোগ পরবর্তী পুনরুদ্ধার প্রক্রিয়াকে দীর্ঘায়িত করছে, দারিদ্র্যঝুঁকি বৃদ্ধি করছে, সরকারি ঋণের ওপর চাপ বাড়াচ্ছে এবং দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক দুর্বলতা সৃষ্টি করছে।
বিশ্বব্যাপী ২০২৫ সালে বিপর্যয় ঝুঁকির প্রকৃতি ও বীমার পরিসরেও পরিবর্তন লক্ষ্য করা গেছে। মোট ক্ষতি আগের বছরের তুলনায় সামান্য কমলেও, বীমা কৃত ক্ষতি প্রায় ১০৮ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে। এটি দ্বিতীয়বারের মতো যে বীমা কৃত দুর্যোগ ক্ষতি ১০০ বিলিয়ন ডলারের উপরে গেছে, যা ক্ষতিকর ঘটনা বৃদ্ধির সঙ্গে বীমাকৃত সম্পদের পরিসর বৃদ্ধির প্রতিফলন।
চরম আবহাওয়ার ঘটনা ক্ষতির প্রধান চালিকা শক্তি ছিল। প্রায় ৯২ শতাংশ বৈশ্বিক আর্থিক ক্ষতি এবং প্রায় ৯৭ শতাংশ বীমা কৃত ক্ষতি বন্যা, ভারি বৃষ্টিপাত, ঘূর্ণিঝড়, ঝড় ও তুষারপাতে সৃষ্ট। একক কোনো বড় ধ্বংসাত্মক ঘটনার পরিবর্তে বারবার ঘটে যাওয়া বিস্তৃত চরম আবহাওয়া অর্থনৈতিক ক্ষতির মূল কারণ হিসেবে প্রমাণিত হয়েছে।
এশিয়ার মধ্যে কয়েকটি প্রধান দুর্যোগ উল্লেখযোগ্য প্রভাব ফেলেছে। এর মধ্যে রয়েছে মিয়ানমারে শক্তিশালী ভূমিকম্প, একাধিক দেশে মৌসুমি বন্যা, উত্তর-পূর্ব চীনে বড়সড় জলাবদ্ধতা, এবং উত্তর ভারত মহাসাগরে ঘূর্ণিঝড় যা শ্রীলঙ্কা ও ভারতের কিছু অংশে ব্যাপক মানবিক ও অর্থনৈতিক ক্ষতি সৃষ্টি করেছে। এইসব ঘটনায় বীমা কভারেজ সীমিত ছিল, যা অঞ্চলের ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থাকে আরও প্রকাশ করছে।
মানবিক ক্ষতিও ব্যাপক। বিশ্বব্যাপী ২০২৫ সালে প্রাকৃতিক দুর্যোগে প্রায় ১৭,০০০ মানুষ প্রাণ হারিয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শুধুমাত্র জরুরি ত্রাণ নির্ভরতা যথেষ্ট নয়; দীর্ঘমেয়াদি স্থায়িত্বের জন্য ঝুঁকি পূর্বাভাস, জলবায়ু সহনশীল অবকাঠামো, পরিকল্পিত নগর উন্নয়ন এবং বিস্তৃত বীমা ও ঝুঁকি-শেয়ারিং ব্যবস্থা অপরিহার্য।
২০২৫ সালের প্রাকৃতিক দুর্যোগ ক্ষতির সারসংক্ষেপ
| সূচক | বৈশ্বিক মোট | এশিয়া–প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চল |
|---|---|---|
| মোট আর্থিক ক্ষতি | USD 224 বিলিয়ন | USD 73 বিলিয়ন |
| বীমা কৃত ক্ষতি | USD 108 বিলিয়ন | USD 9 বিলিয়ন |
| আবহাওয়া-সংক্রান্ত ক্ষতির অংশ | ৯২% | প্রধান অংশ |
| আনুমানিক মৃত্যুর সংখ্যা | ~১৭,০০০ | গুরুত্বপূর্ণ অংশ |
২০২৫ সালের দুর্যোগ চিত্র এশিয়া ও বিশ্বব্যাপী অর্থনৈতিক ও মানবিক প্রভাব হ্রাসের জন্য শক্তিশালী আর্থিক সুরক্ষা, দুর্যোগ প্রস্তুতি এবং জলবায়ু অভিযোজন কৌশল গ্রহণের জরুরি প্রয়োজনীয়তা নির্দেশ করে।