খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: শুক্রবার, ১৬ জানুয়ারি ২০২৬
রাজধানীর উত্তরা এলাকায় ছয়তলা একটি আবাসিক ভবনে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে, যা সকাল ৭টা ৫০ মিনিটে শুরু হয়। ফায়ার সার্ভিস ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, আগুনে এখনও পর্যন্ত ছয়জন নিহত হয়েছে। প্রথমে ঘটনাস্থলেই তিনজনের মৃত্যু হয়েছে এবং পরে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আরও তিনজন মারা গেছেন।
নিহতদের মধ্যে দুইজন নারী, একজন পুরুষ এবং একজন শিশু রয়েছেন। বাকিদের পরিচয় এখনো নিশ্চিত করা যায়নি।
ফায়ার সার্ভিসের জনসংযোগ কর্মকর্তা তালহা বিন জসিম জানান, আগুন উত্তরার ১১ নম্বর সেক্টরের ১৮ নম্বর সড়কের একটি ছয়তলা ভবনের দ্বিতীয় তলায় লেগেছিল। ধোঁয়ার প্রভাবে অসুস্থ হয়ে ১৩ জনকে কুয়েত মৈত্রী হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আরও তিনজন মারা যান।
পুলিশ উত্তরা বিভাগের উপ–কমিশনার শাহরিয়ার আলী দুপুরে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে নিহতের সংখ্যা নিশ্চিত করেন।
ফায়ার সার্ভিসের ঢাকা জোন–৩-এর উপ-সহকারী পরিচালক মো. আব্দুল মান্নান জানান, সম্ভবত বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিট থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়েছে। আগুন দ্বিতীয় তলা থেকে তৃতীয় তলা পর্যন্ত দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে।
অগ্নিকাণ্ডের কারণ ও ক্ষয়ক্ষতি সংক্রান্ত প্রাথমিক তথ্য নিচের টেবিলে দেওয়া হলো:
| বিষয় | তথ্য |
|---|---|
| আগুন লাগার সময় | ৭:৫০ AM, ১৬ জানুয়ারি ২০২৬ |
| স্থান | উত্তরার ১১ নম্বর সেক্টর, ১৮ নম্বর সড়ক |
| ভবনের তলা সংখ্যা | ৬ তলা |
| আগুনের প্রাথমিক স্থান | দ্বিতীয় তলা |
| নিহত সংখ্যা | ৬ জন (২ নারী, ১ পুরুষ, ১ শিশু, ২ অজ্ঞাত) |
| আহত ও হাসপাতালে ভর্তি | ১৩ জন, কুয়েত মৈত্রী হাসপাতালে পাঠানো |
| আগুন নিয়ন্ত্রণে আসার সময় | ৮:২৫ AM |
| আগুন সম্পূর্ণ নিভেছে | ১০:০০ AM |
| সম্ভাব্য কারণ | বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিট এবং বাড়িতে প্রচুর আসবাবপত্র |
ফায়ার সার্ভিসের কর্মকর্তা জানান, বাড়িতে প্রচুর আসবাবপত্র থাকায় আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে এবং তৎক্ষণাৎ নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন হয়ে পড়ে। উদ্ধারকাজে ফায়ার সার্ভিস ও পুলিশ যৌথভাবে কাজ করেছে।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, আগুনের লাফানো শিখা এবং ধোঁয়ার ফলে সকালেই আশেপাশের এলাকা ধোঁয়ায় ঢেকে যায়। ফায়ার সার্ভিসের দ্রুত পদক্ষেপে অন্যান্য তলাগুলোর ক্ষয়রোধ করা সম্ভব হয়।
প্রত্যক্ষদর্শীরা বলছেন, আগুনের শিখা দেখেই পরিবারগুলি বাইরে পালানোর চেষ্টা করেছে, তবে তাণ্ডব এত দ্রুত ছড়িয়ে পড়ায় সকলকে নিরাপদে বের করা সম্ভব হয়নি।