খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: শুক্রবার, ১৬ জানুয়ারি ২০২৬
উত্তরাখণ্ড রাজ্যের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য আর জীববৈচিত্র্যের জন্য পরিচিত ‘ভ্যালি অফ ফ্লাওয়ার্স’ ও নন্দাদেবী জাতীয় উদ্যান সংলগ্ন বিস্তীর্ণ বনাঞ্চল বর্তমানে ভয়াবহ দাবানলের কবলে। পরিস্থিতি এতটাই শঙ্কাজনক যে ভারতীয় বিমানবাহিনীর হেলিকপ্টার ময়দানে নামিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা শুরু হয়েছে। মহাকাশ থেকে পাঠানো স্যাটেলাইট চিত্রেও আগুনের লেলিহান শিখা স্পষ্ট দেখা যাচ্ছে।
স্থানীয় সূত্রের খবর অনুযায়ী, দাবানলের সূত্রপাত জানুয়ারি মাসের শুরু থেকেই। আবহাওয়াবিদ ও বনদপ্তরের কর্মকর্তা জানিয়েছেন, এ বছরের শীতে হিমালয়ের এই অংশে প্রায় কোনো তুষারপাত বা বৃষ্টি হয়নি। শুষ্ক আবহাওয়ার কারণে বনাঞ্চলের মাটি ও গাছপালা প্রায় সম্পূর্ণরূপে শুকিয়ে গিয়েছে, যা এক প্রকার ‘বারুদপাতার’ মতো পরিবেশ তৈরি করেছে। দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় দ্রুত ছড়িয়ে পড়ার কারণে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে।
‘ফরেস্ট সার্ভে অফ ইন্ডিয়া’ ইতোমধ্যেই উত্তরাখণ্ডের জন্য ১,৬০০-এর বেশি সতর্কবার্তা জারি করেছে। পরিবেশ বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে শীতকাল ক্রমশ উষ্ণ ও শুষ্ক হয়ে উঠছে, যা এই ধরনের দাবানলের প্রধান কারণ। এই আগুনে হিমালয়ের অমূল্য জীববৈচিত্র্য বিপন্ন হওয়ার পাশাপাশি ভূমিক্ষয় ও ধসের ঝুঁকি বহুগুণ বেড়ে গেছে।
উত্তরাখণ্ডে দাবানলের বিস্তার ও ক্ষয়ক্ষতির একটি সংক্ষিপ্ত তথ্য নিম্নরূপ:
| তারিখ | অঞ্চল | পরিস্থিতি | পদক্ষেপ |
|---|---|---|---|
| ২০২৫ সালের ৯ ডিসেম্বর | নন্দাদেবী বায়োস্ফিয়ার রিজার্ভ | স্যাটেলাইটে দাবানল শনাক্ত | জরুরি সতর্কতা জারি |
| ২০২৬ সালের জানুয়ারি | ভ্যালি অফ ফ্লাওয়ার্স ও আশেপাশের বনাঞ্চল | আগুনের বিস্তার | ভারতীয় বিমানবাহিনী হেলিকপ্টার ব্যবহার |
| ২০২৬ সালের জানুয়ারি | উত্তরাখণ্ডের অন্যান্য বনাঞ্চল | কিছু অংশ নতুন করে আগুনে আক্রান্ত | বনকর্মী ও স্থানীয় উদ্ধারকর্মী মোতায়েন |
বিশেষজ্ঞরা আশঙ্কা করছেন, যদি অবিলম্বে কার্যকর পদক্ষেপ না নেওয়া হয়, তবে বনাঞ্চলের ক্ষতি বহুগুণ বৃদ্ধি পেতে পারে। ইতিমধ্যেই ক্ষতিগ্রস্ত অঞ্চলে অগ্নিনির্বাপন, জল সরবরাহ ও উদ্ধারকাজ ত্বরান্বিত করা হয়েছে।
উত্তরাখণ্ডের এই দাবানল শুধু স্থানীয় মানুষ ও বনজীবনের জন্যই হুমকি নয়, এটি হিমালয়ের পরিবেশ ও জলবায়ুর ভারসাম্যকে হুমকির মুখে ফেলে দিয়েছে। স্থানীয় প্রশাসন ও কেন্দ্রীয় বাহিনী যৌথভাবে পরিস্থিতি মোকাবেলায় রাতদিন এক করে কাজ করছে, যাতে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ কমানো যায়।