খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: শুক্রবার, ১৬ জানুয়ারি ২০২৬
গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলার মাওনা বাজার এলাকায় পিয়ার আলী কলেজ সংলগ্ন পুকুর থেকে শুক্রবার সকালে একাধিক ককটেল উদ্ধার করা হয়েছে। স্থানীয় সূত্র ও পুলিশ তথ্য অনুযায়ী, এই ঘটনা স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি করেছে এবং প্রশাসন সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।
স্থানীয়রা জানান, শুক্রবার সকাল প্রায় ৮টায় তিনজন মাছ ব্যবসায়ী—জাহাঙ্গীর, রফিক ও মনির—মাওনা বাজারের পিয়ার আলী কলেজ পুকুরে মাছ ধরার জন্য জাল ফেলেন। জালে একটি অস্বাভাবিক ব্যাগ ওঠে, যা তারা টানার পর লক্ষ্য করেন যে এতে বোমার মতো বস্তু রয়েছে। বিষয়টি অবিলম্বে পুলিশের নিকট জানানো হয়।
শ্রীপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাস্মদ নাসির আহমদ জানান, “ঘটনাস্থল থেকে বেশ কয়েকটি ককটেল উদ্ধার করা হয়েছে। পুলিশ ও বোম ডিসপোজাল ইউনিট দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছেছে। উদ্ধারকৃত ককটেলগুলো নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের খুঁজে বের করতে এবং আইনগত ব্যবস্থা নিতে কাজ চলছে।”
বোম ডিসপোজাল ইউনিট জানিয়েছে যে, উদ্ধারকৃত ককটেলগুলো পরীক্ষা করা হয়েছে এবং তা নিরাপদভাবে নিষ্ক্রিয় করা হয়েছে। এ ধরণের ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে স্থানীয়দের সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
স্থানীয়রা বলছেন, সম্প্রতি বিভিন্ন স্থানে এই ধরনের ঘটনা বাড়ার কারণে জনসাধারণকে আরও সচেতন হতে হবে। পুলিশও জানিয়েছে যে, কেউ যদি সন্দেহজনক বস্তু বা প্যাকেজ দেখে, তা স্পর্শ না করে সরাসরি থানায় বা পুলিশকে জানানো উচিত।
উল্লেখযোগ্য তথ্যসমূহ নিম্নলিখিত টেবিলে উপস্থাপন করা হলো:
| তথ্যের ধরণ | বিবরণ |
|---|---|
| ঘটনা স্থান | পিয়ার আলী কলেজ পুকুর, মাওনা বাজার, শ্রীপুর |
| ঘটনা সময় | শুক্রবার সকাল ৮টা |
| উদ্ধারকৃত বস্তু | একাধিক ককটেল |
| ঘটনা সূচনা | মাছ ধরার সময় জালে ব্যাগ ওঠা |
| পুলিশ পদক্ষেপ | ঘটনাস্থলে পুলিশ মোতায়েন, আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ |
| বোম ডিসপোজাল পদক্ষেপ | ককটেল নিরাপদভাবে নিষ্ক্রিয় করা |
| স্থানীয়দের মন্তব্য | জনসচেতনতা প্রয়োজন, আতঙ্ক ও নিরাপত্তা বিষয়ক সতর্কতা |
| প্রশাসনের বার্তা | সন্দেহজনক বস্তু স্পর্শ না করে পুলিশের কাছে জানান |
এ ঘটনায় প্রশাসন বলেছে, নিরাপত্তা সবসময় সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার। স্থানীয় প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী জনসাধারণের সহযোগিতা কামনা করছে। তারা আরও বলেছেন, কেউ যদি আরও অস্বাভাবিক বা সন্দেহজনক বস্তু দেখতে পায়, তা অবিলম্বে পুলিশকে জানাতে হবে এবং নিজেদের নিরাপত্তার বিষয়ে সতর্ক থাকতে হবে।
এছাড়া, স্থানীয় স্কুল ও কলেজগুলোতে এই ধরণের ঘটনার প্রতিক্রিয়া বিষয়ক সচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালনার পরিকল্পনা করা হচ্ছে। স্থানীয়দের দাবি, এ ধরনের ঘটনা শুধু আতঙ্কই সৃষ্টি করছে না, বরং সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধির ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।