খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: রবিবার, ১৮ জানুয়ারি ২০২৬
ইন্টারমিটেন্ট ফাস্টিং বা বিরতিযুক্ত উপবাস আজকের দিনে বিপাকীয় স্বাস্থ্য উন্নয়নের একটি জনপ্রিয় পদ্ধতি হিসেবে পরিচিত। বিশেষ করে টাইপ–২ ডায়াবেটিস রোগীদের ক্ষেত্রে এটি ওজন কমানো, ইনসুলিন সংবেদনশীলতা বাড়ানো এবং রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখতে সহায়ক হতে পারে। একাধিক গবেষণায় দেখা গেছে, সঠিকভাবে ব্যবহৃত হলে ইন্টারমিটেন্ট ফাস্টিং HbA1c হ্রাস এবং শরীরের মোট ওজন কমাতে কার্যকর হতে পারে।
নির্দিষ্ট সময় ধরে উপবাস রাখলে মোট ক্যালোরি গ্রহণ কমে আসে এবং শরীরের বিপাকীয় নমনীয়তা বৃদ্ধি পায়। এর ফলে দীর্ঘমেয়াদে রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে থাকে এবং HbA1c উন্নত হয়। চিকিৎসকের তত্ত্বাবধানে ইন্টারমিটেন্ট ফাস্টিং অনুশীলন করলে এটি টাইপ–২ ডায়াবেটিসের ব্যবস্থাপনায় সহায়ক হতে পারে।
নিচের টেবিলে কিছু প্রধান সুবিধা দেখানো হলো:
| উপকারিতা | বিস্তারিত ব্যাখ্যা |
|---|---|
| ওজন নিয়ন্ত্রণ | উপবাসকালীন সময়ে মোট ক্যালোরি কমে ওজন হ্রাস ঘটে |
| ইনসুলিন সংবেদনশীলতা | শরীরের কোষগুলো ইনসুলিনের প্রতি আরও সংবেদনশীল হয় |
| রক্তে শর্করার স্থিতিশীলতা | HbA1c ও খাবারের পর রক্তে শর্করার ওঠানামা হ্রাস পায় |
| বিপাকীয় নমনীয়তা | লিভার ও পেশির ক্যালোরি ব্যবহার আরও কার্যকর হয় |
তবে বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলেছেন, ইন্টারমিটেন্ট ফাস্টিং সঠিক পরিকল্পনা ছাড়া ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য বিপজ্জনক হতে পারে। ভুল সময়ে বা দীর্ঘ উপবাসে হাইপোগ্লাইসেমিয়া (রক্তে শর্করা বিপজ্জনকভাবে কমে যাওয়া) এবং হাইপারগ্লাইসেমিয়া (রক্তে শর্করা বেড়ে যাওয়া) দুটোই ঘটতে পারে। বিশেষ করে যারা ইনসুলিন বা শক্তিশালী গ্লুকোজ-নিয়ন্ত্রণকারী ওষুধ গ্রহণ করেন, তাদের ঝুঁকি আরও বেশি।
অনেকেই দীর্ঘ উপবাসের পরে অতিরিক্ত খাওয়া বা পরিশোধিত কার্বোহাইড্রেট গ্রহণ করেন, যা রক্তে শর্করার হঠাৎ বৃদ্ধি ঘটিয়ে উপবাসের কাঙ্ক্ষিত উপকারিতা নষ্ট করতে পারে। এছাড়া, টাইপ–১ ডায়াবেটিস রোগী, গর্ভবতী বা স্তন্যদানকারী নারী এবং যাদের মানসিক বা শারীরিক কারণে হাইপোগ্লাইসেমিয়ার উপসর্গ বোঝার ক্ষমতা কম, তাদের জন্য এই পদ্ধতি বিপজ্জনক।
ইন্টারমিটেন্ট ফাস্টিং শুরু করার আগে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া আবশ্যক। প্রয়োজনে ওষুধের ডোজ সমন্বয় করতে হতে পারে। নিয়মিত রক্তে শর্করা পরীক্ষা হাইপোগ্লাইসেমিয়া শনাক্ত ও খাদ্য ও ওষুধ সমন্বয় করার ক্ষেত্রে সহায়ক। কন্টিনিউয়াস গ্লুকোজ মনিটরিং (CGM) ব্যবস্থা উপবাসকালীন সময়কে নিরাপদ করে তোলে।
সারসংক্ষেপে, ইন্টারমিটেন্ট ফাস্টিং কিছু ডায়াবেটিস রোগীর জন্য বিপাকীয় সুবিধা আনতে পারে, কিন্তু এটি সবার জন্য সর্বজনীন সমাধান নয়। সঠিক পরিকল্পনা, ব্যক্তিভিত্তিক নিয়মাবলী এবং চিকিৎসকের তত্ত্বাবধান ছাড়া এ পদ্ধতি বিপজ্জনক রক্তে শর্করার ওঠানামার কারণ হয়ে উঠতে পারে।