খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: মঙ্গলবার, ২০ জানুয়ারি ২০২৬
চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড উপজেলার জঙ্গল সলিমপুরে র্যাব সদস্যদের ওপর ভয়াবহ হামলার ঘটনা ঘটেছে। সোমবার সন্ধ্যায় এই হামলায় নায়েব সুবেদার মোঃ মোতালেব হোসেন ভূঁইয়া নিহত হন এবং আরও তিন র্যাব সদস্য গুরুতর আহত হন। ঘটনার সময় হামলাকারীরা মাইকে ঘোষণা দিয়ে এলাকায় র্যাবের উপস্থিতি টের পেয়ে তাদের ওপর হামলা চালায়।
র্যাব-৭, চট্টগ্রামের সহকারী পরিচালক (গণমাধ্যম) এ আর এম মোজাফফর হোসেন জানান, ৪৩ জন র্যাব সদস্য অস্ত্রধারী সন্ত্রাসীদের ধরতে অভিযানে যায়। এই অভিযানের সময় ৪০০–৫০০ জন সন্ত্রাসী লাঠিসোঁটা, ইটপাটকেল নিয়ে র্যাব সদস্যদের ওপর ধাওয়া দেয় এবং র্যাবের দুটি মাইক্রোবাসের কাঁচ ভাঙচুর করে। আহতদের পুলিশ সহযোগিতায় চট্টগ্রামের সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে (সিএমএইচ) পাঠানো হয়।
পুলিশ সূত্রে পাওয়া সিসিটিভি ফুটেজে দেখা গেছে, র্যাব সদস্যদের গাড়ি লক্ষ্য করে হামলাকারীরা কৌশলে মাইকে ঘোষণা দিচ্ছিলেন এবং ফটক আটকানোর জন্য স্থানীয়দের নির্দেশ দিচ্ছিলেন। আরেকটি ভিডিওতে আহত র্যাব সদস্যরা কক্ষের মেঝেতে রক্তাক্ত অবস্থায় বসে আছেন, মাথা ও শরীরের বিভিন্ন অংশে ব্যান্ডেজ দেখা যাচ্ছে।
চার দশক ধরে সরকারি পাহাড় কেটে জঙ্গল সলিমপুরে কয়েক হাজার অবৈধ বসতি গড়ে উঠেছে। এই এলাকায় অবৈধ প্লট–বাণিজ্য ও দখল রক্ষার জন্য ভূমিদস্যুদের সশস্ত্র সন্ত্রাসী বাহিনী গড়ে উঠেছে। এলাকাটি দুর্গম পাহাড়ি হওয়ায় সন্ত্রাসীরা দীর্ঘদিন ধরে নিরাপদ আশ্রয় পেয়ে আসছে।
জঙ্গল সলিমপুর ও পার্শ্ববর্তী এলাকা সম্পর্কে তথ্য নিম্নরূপ:
| এলাকা | অবস্থান | পরিমাণ জমি | উল্লেখযোগ্য বিষয় |
|---|---|---|---|
| জঙ্গল সলিমপুর | সীতাকুণ্ড, চট্টগ্রাম | ৩,১০০ একর | অবৈধ বসতি ও প্লট বাণিজ্য, সশস্ত্র সন্ত্রাসী উপস্থিতি |
| সীমানা | পূর্বে হাটহাজারী উপজেলা, দক্ষিণে বায়েজিদ থানা | – | নগরের ভেতরের দুর্গম পাহাড়ি এলাকা |
| প্রধান কেন্দ্র | বায়েজিদ বোস্তামী থেকে ২ কিমি পশ্চিমে, এশিয়ান উইমেন ইউনিভার্সিটির বিপরীতে | – | সন্ত্রাসীদের নিয়ন্ত্রণে, প্রবেশে পরিচয়পত্র প্রয়োজন |
গত কয়েক বছরে এই এলাকায় র্যাব ও প্রশাসনের সঙ্গে সন্ত্রাসীদের সংঘর্ষের ঘটনা বহুবার ঘটেছে। ২০২২ সালের ৪ ফেব্রুয়ারি র্যাবের সঙ্গে গোলাগুলি সংঘটিত হয়। ২০২৩ সালের ১৪ সেপ্টেম্বর অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদের পর হামলায় জেলা প্রশাসনের অন্তত ২০ জন আহত হন।
এ আর এম মোজাফফর হোসেন জানিয়েছেন, “আহত তিনজন বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। হামলার প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটন এবং জড়িতদের শনাক্তকরণের কাজ অব্যাহত রয়েছে।” স্থানীয়রা জানান, এলাকায় বাসিন্দা ছাড়া কেউ প্রবেশ করতে পারেন না, এমনকি পুলিশ বা জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তা প্রবেশ করলে হামলার শিকার হন।
এই ঘটনায় দেশের নিরাপত্তা সংস্থাগুলো সতর্ক এবং সন্ত্রাসীদের কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে।