খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: মঙ্গলবার, ২০ জানুয়ারি ২০২৬
শহীদ আসাদের ৫৭তম শাহাদাত বার্ষিকী উপলক্ষে গভীর শ্রদ্ধা ও মর্যাদার সঙ্গে স্মরণ করেছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা। গণতন্ত্র, ন্যায়বিচার ও স্বৈরশাসনবিরোধী সংগ্রামের প্রতীক শহীদ আসাদের আত্মত্যাগকে স্মরণ করে সংগঠনটি তাঁর স্মৃতির প্রতি আনুষ্ঠানিক শ্রদ্ধাঞ্জলি অর্পণ করে।
মঙ্গলবার (২০ জানুয়ারি) সকাল ৯টায় ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগ সংলগ্ন শহীদ আসাদ স্মৃতিস্তম্ভে এই শ্রদ্ধাঞ্জলি অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। কর্মসূচির শুরুতে পুষ্পস্তবক অর্পণের মাধ্যমে শহীদ আসাদের প্রতি সম্মান জানানো হয়। এরপর এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয় এবং তাঁর আত্মার মাগফিরাত কামনায় দোয়া অনুষ্ঠিত হয়।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সভাপতি গণেশ চন্দ্র রায় সাহস। তাঁর সঙ্গে ছিলেন সহ-সভাপতি আব্দুল্লাহ আল নাঈম, সাধারণ সম্পাদক নাহিদুজ্জামান শিপন, সিনিয়র যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক মো. নাছির উদ্দীন শাওন, যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক হোসাইন মো. সাদ্দাম মীর, ফেরদৌস আলম ও নূরুল আমিন নূর। আরও উপস্থিত ছিলেন দপ্তর সম্পাদক মল্লিক ওয়াসি উদ্দিন তামী, প্রচার সম্পাদক মো. তানভীর হাসান, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিষয়ক সম্পাদক আলফি লাম, সংস্কৃতি বিষয়ক সম্পাদক উবাইদুল্লাহ রিদওয়ানসহ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন হল ও ইউনিট কমিটির নেতাকর্মীরা।
শ্রদ্ধাঞ্জলি শেষে সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে সভাপতি গণেশ চন্দ্র রায় সাহস বলেন, “১৯৬৯ সালের আইয়ুববিরোধী গণআন্দোলনে শহীদ আসাদ এ দেশের মানুষের গণতান্ত্রিক অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য যে আত্মত্যাগ করে গেছেন, তা ইতিহাসের অবিচ্ছেদ্য অংশ। তাঁর রক্তে রঞ্জিত সংগ্রাম আমাদের আজও অন্যায় ও স্বৈরশাসনের বিরুদ্ধে দাঁড়ানোর সাহস জোগায়।” তিনি আরও বলেন, শহীদ আসাদের আদর্শ ধারণ করেই ছাত্রদল গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ বিনির্মাণে নিরলসভাবে কাজ করে যাবে।
তিনি উল্লেখ করেন, শহীদ আসাদের আত্মত্যাগ কেবল একটি রাজনৈতিক ঘটনার স্মৃতি নয়, বরং এটি নতুন প্রজন্মের শিক্ষার্থীদের প্রতিবাদী, সচেতন ও গণতন্ত্রকামী হয়ে ওঠার চিরন্তন প্রেরণা। বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস থেকে শুরু করে জাতীয় পরিসরে গণতন্ত্র রক্ষার আন্দোলনে তাঁর আদর্শ অনুসরণ করা আজও সময়ের দাবি।
শহীদ আসাদের জীবন ও অবদান সম্পর্কে সংক্ষিপ্ত তথ্য তুলে ধরতে নিচে একটি তথ্যছক দেওয়া হলো—
| বিষয় | তথ্য |
|---|---|
| নাম | শহীদ আসাদ |
| শাহাদাতের বছর | ১৯৬৯ |
| আন্দোলনের ধরন | আইয়ুববিরোধী গণআন্দোলন |
| মূল অবদান | গণতান্ত্রিক অধিকার প্রতিষ্ঠায় আত্মত্যাগ |
| স্মৃতিস্তম্ভের অবস্থান | ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল সংলগ্ন এলাকা |
অনুষ্ঠানের শেষে নেতারা দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন যে, শহীদ আসাদের আদর্শ ও চেতনা ধারণ করে ছাত্রসমাজ গণতন্ত্র, ন্যায় ও অধিকার প্রতিষ্ঠার সংগ্রাম অব্যাহত রাখবে।