খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: বুধবার, ২১ জানুয়ারি ২০২৬
গভর্নর বলেছেন, দেশের ব্যাংক খাতের সবচেয়ে বড় সমস্যা হলো গভর্নেন্স ফেইলর। তাঁর মতে, সরকার এবং প্রভাবশালী ব্যক্তি বা পরিবারের নির্দেশে বিভিন্ন ব্যাংকে ঋণ দেওয়া হয়েছে, যার পেছনে বাংলাদেশ ব্যাংকসহ সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর অবহেলার অবদান অস্বীকার করা যায় না। বর্তমানে ব্যাংকের দুরাবস্থার মূল কারণ হলো ব্যক্তিগত মালিকানার অতিরিক্ত নিয়ন্ত্রণ। উদাহরণস্বরূপ, ইসলামী fiveটি ব্যাংক একত্রিত করা হলেও সব ব্যাংক ব্যক্তিদের নিয়ন্ত্রণে ছিল। ব্যাংকগুলোর চেক অ্যান্ড ব্যালেন্সের অভাবের কারণে প্রায় ৩ লাখ কোটি টাকা দেশ থেকে চলে গেছে, যা অর্থনীতির জন্য বিশাল ক্ষতি।
গভর্নর আরও বলেন, “পৃথিবীর চারটি প্রধান খাতের মধ্যে ব্যাংকিং খাত তৃতীয় স্থানে থাকলেও বাংলাদেশে এটি শীর্ষে রয়েছে। ফলে অন্যান্য আর্থিক খাত ক্ষতির মুখে। এখন আমাদের দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা ও কার্যক্রমের মাধ্যমে এই খাতকে পুনরায় শক্তিশালী করতে হবে।”
তিনি ব্যাংকের সংখ্যার বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, দেশে ১০ থেকে ১৫টি ব্যাংক থাকলেই যথেষ্ট হতো। কিন্তু বর্তমানে ৬৪টি ব্যাংক কার্যক্রম চালাচ্ছে। অতিরিক্ত ব্যাংকের কারণে প্রশাসনিক জটিলতা ও ব্যয় বেড়েছে। ব্যাংকের সংখ্যা কমলে ব্যয় কমবে এবং লাভজনকতা বাড়বে। উদাহরণ হিসেবে তিনি উল্লেখ করেন, সিঙ্গাপুরের একটি ব্যাংকের আয় সমান বাংলাদেশের সব ব্যাংকের সম্মিলিত আয়ের।
নিচের টেবিলে বাংলাদেশে ব্যাংকের অবস্থা এবং অন্যান্য দেশের তুলনামূলক তথ্য সংক্ষেপে তুলে ধরা হলো:
| বিষয় | বাংলাদেশ | সিঙ্গাপুর (উদাহরণ) | মন্তব্য |
|---|---|---|---|
| ব্যাংকের সংখ্যা | ৬৪ | ১ | অতিরিক্ত ব্যাংকের কারণে প্রশাসনিক ব্যয় বেড়ে গেছে |
| মোট অর্থসম্পদ ক্ষতি | ≈৩ লাখ কোটি টাকা | – | চেক অ্যান্ড ব্যালেন্সের অভাবে অর্থ লোপ হয়েছে |
| ব্যাংকিং খাতের অবস্থান | ১ম | তৃতীয় | বাংলাদেশে অন্যান্য খাত ক্ষতির মুখে |
| সম্ভাব্য ব্যাংক সংখ্যা | ১০–১৫ | ১ | লাভজনকতা বাড়াতে ব্যাংক সংখ্যা কমানো প্রয়োজন |
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. রেজাউল করিম বলেন, “বর্তমান গভর্নর ধ্বংসপ্রাপ্ত ব্যাংক খাতকে পুনর্গঠন করতে সক্ষম হয়েছেন। অর্থের সঙ্গে আমাদের সম্পর্ক নিবিড়, এবং দীর্ঘদিন ধরে যা অনর্থ ঘটেছিল তা শিক্ষার্থীদের সচেতনতা ও সহায়তায় নিয়ন্ত্রণে এসেছে। ব্যাংকিং খাত ধ্বংসপ্রাপ্ত হলেও এখন ধাপে ধাপে উন্নয়নের ইতিবাচক ধারা বজায় থাকবে।”
এ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন অর্থনীতি সমিতির আহ্বায়ক অধ্যাপক ড. মাহবুব উল্লাহ এবং সদস্য সচিব ড. মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন, যারা ব্যাংক খাতের সংকট নিরসনে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণে গুরুত্বারোপ করেন।