খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: শুক্রবার, ২৩ জানুয়ারি ২০২৬
ওপার বাংলার জনপ্রিয় অভিনেতা এবং রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব হিরণ চট্টোপাধ্যায়ের দ্বিতীয় বিয়ের সংবাদে বর্তমানে টলিউড উত্তাল। বেনারসের পুণ্যভূমিতে গঙ্গার ঘাটে হিরণের সঙ্গে মেদিনীপুরের তরুণী হৃতিকা গিরির বিয়ের ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়তেই শুরু হয়েছে তোলপাড়। নেটিজেনদের কৌতূহলের কেন্দ্রবিন্দুতে এখন হৃতিকা। একসময়ের ‘পার্সোনাল অ্যাসিস্ট্যান্ট’ বা ব্যক্তিগত সহকারী থেকে কীভাবে তিনি অভিনেতার ঘরণী হলেন, তা নিয়ে চলছে চুলচেরা বিশ্লেষণ।
হৃতিকা গিরি মূলত পশ্চিমবঙ্গের পূর্ব মেদিনীপুরের বাসিন্দা। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও তাঁর ব্যক্তিগত প্রোফাইল থেকে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, হৃতিকা কেবল রূপসী নন, বরং মেধাবীও বটে। তিনি আইনের ছাত্রী ছিলেন এবং আইন বিষয়ে তাঁর স্নাতক ডিগ্রি রয়েছে। পড়াশোনার পাশাপাশি শরীরচর্চা ও খেলাধুলায় তিনি বিশেষ পারদর্শী। যোগব্যায়ামে তিনি জাতীয় পর্যায়ে স্বর্ণপদক (গোল্ড মেডেল) অর্জন করেছিলেন। এছাড়া গ্ল্যামার জগতেও তাঁর পদচারণা ছিল চোখে পড়ার মতো। ২০১৯ এবং ২০২২ সালে তিনি দুটি ভিন্ন সুন্দরী প্রতিযোগিতায় বিজয়ীর মুকুট অর্জন করেন। হিরণের প্রথম স্ত্রী অনিন্দিতার দাবি অনুযায়ী, হৃতিকার বর্তমান বয়স মাত্র ২১ বছর।
হৃতিকা গিরির জীবনবৃত্তান্ত এক নজরে:
| বিষয় | বিস্তারিত তথ্য |
| জন্মস্থান | পূর্ব মেদিনীপুর, পশ্চিমবঙ্গ। |
| শিক্ষাগত যোগ্যতা | আইন বিভাগে স্নাতক (LL.B)। |
| ক্রীড়া সাফল্য | জাতীয় স্তরের স্বর্ণপদক জয়ী (যোগব্যায়াম)। |
| অন্যান্য অর্জন | ২০১৯ ও ২০২২ সালের সুন্দরী প্রতিযোগিতার শিরোপাধারী। |
| পেশাগত যাত্রা | অভিনেতা হিরণের ব্যক্তিগত সহকারী হিসেবে শুরু। |
| বর্তমান পরিচয় | অভিনেতা ও রাজনীতিবিদ হিরণের দ্বিতীয় স্ত্রী। |
হিরণের দ্বিতীয় বিয়ের খবরে সবচেয়ে বেশি আঘাত পেয়েছেন তাঁর প্রথম স্ত্রী অনিন্দিতা। দীর্ঘ ২৫ বছরের দাম্পত্য জীবনের ইতি না ঘটতেই হিরণের এই নতুন পথচলায় তিনি স্তম্ভিত। অনিন্দিতার দাবি, হৃতিকাকে তিনি হিরণের ব্যক্তিগত সহকারী হিসেবেই চিনতেন। হৃতিকা হিরণের প্রতিটি কর্মসূচিতে ছায়ার মতো সঙ্গে থাকতেন। কিন্তু সেই পেশাদার সম্পর্ক যে গোপনে পরিণয়ে রূপ নেবে, তা তিনি কল্পনাও করতে পারেননি।
অনিন্দিতা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “আমাদের বিচ্ছেদ বা ডিভোর্স হয়নি। দীর্ঘ ২৫ বছর ধরে মেয়ে ও আমার ওপর মানসিক অত্যাচার চালানো হয়েছে। মেয়ের ক্যারিয়ারের কথা ভেবে এতদিন চুপ ছিলাম। কিন্তু হিরণ যে কতটা অভদ্র হতে পারে, তা তাঁর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পোস্ট দেখলেই বোঝা যায়। সে নিজের মেয়ের ছবি কোনোদিন পোস্ট করেনি, অথচ দ্বিতীয় বিয়ের ছবি সগৌরবে প্রচার করছে।” অনিন্দিতার এই বক্তব্যের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে হিরণের নৈতিকতা নিয়ে সমালোচনার ঝড় উঠেছে।
টলিউডে কান পাতলে শোনা যাচ্ছে, হিরণের রাজনৈতিক ও পেশাগত জীবনের সব হিসাব-নিকাশ হৃতিকাই সামলাতেন। ব্যক্তিগত সহকারী হওয়ার সুবাদে হিরণের অত্যন্ত কাছাকাছি আসার সুযোগ পান তিনি। সেখান থেকেই প্রেমের সম্পর্ক এবং শেষ পর্যন্ত বেনারসের ঘাটে গোপন বিয়ের এই আয়োজন। আইনের স্নাতক হয়েও কীভাবে হৃতিকা একজন বিবাহিত ও কন্যাসন্তানের জনকের সঙ্গে এই সম্পর্কে জড়ালেন, তা নিয়ে অনেকে বিস্ময় প্রকাশ করেছেন।
হিরণ ও হৃতিকার এই বিয়ে কেবল ব্যক্তিগত সম্পর্কের বিষয় হয়ে থাকেনি, বরং এটি এখন টলিউডের আইনি ও নৈতিক বিতর্কের অংশ। প্রথম স্ত্রীর সঙ্গে বিবাহবিচ্ছেদ না করে দ্বিতীয় বিয়ে করা নিয়ে হিরণ বড় ধরনের আইনি জটিলতায় পড়তে পারেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। অন্যদিকে, হৃতিকার এই উল্কাসম উত্থান সাধারণ মানুষের কাছে যেমন বিস্ময়ের, তেমনি বিনোদন জগতের পর্দার ওপারের অন্ধকার সম্পর্কের এক জ্বলন্ত উদাহরণ।