খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: সোমবার, ২৬ জানুয়ারি ২০২৬
চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে পেশাগত দায়িত্ব পালনকালে সন্ত্রাসীদের বর্বরোচিত হামলায় র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়নের (র্যাব) ডিএডি আবদুল মোতালেব নিহতের ঘটনায় দায়ের করা মামলার অন্যতম এজাহারভুক্ত আসামি আলীরাজ হাসান ওরফে সাগরকে (৩০) গ্রেফতার করা হয়েছে। শনিবার দিবাগত গভীর রাতে পর্যটন নগরী কক্সবাজারের সুগন্ধা পয়েন্ট এলাকায় এক ঝটিকা অভিযান চালিয়ে তাকে আটক করে র্যাব। চাঞ্চল্যকর এই হত্যাকাণ্ড এবং সরকারি কাজে বাধা প্রদানের ঘটনায় অভিযুক্ত এই আসামিকে গ্রেফতারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছে র্যাব-৭।
গত ১৯ জানুয়ারি ২০২৬ তারিখে চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড থানাধীন সলিমপুর এলাকায় এক দুর্ধর্ষ সন্ত্রাসীবিরোধী অভিযানে যায় র্যাবের একটি চৌকস দল। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে চিহ্নিত অপরাধীদের ধরতে গেলে সেখানে অবস্থানরত প্রায় ৪০০ থেকে ৫০০ জনের একটি সঙ্ঘবদ্ধ সন্ত্রাসী দল অতর্কিতে র্যাব সদস্যদের ওপর সশস্ত্র হামলা চালায়। সন্ত্রাসীদের এলোপাতাড়ি হামলা ও ধারালো অস্ত্রের আঘাতে ঘটনাস্থলেই চারজন র্যাব সদস্য গুরুতর আহত হন।
আহতদের দ্রুত উদ্ধার করে চট্টগ্রাম সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে (সিএমএইচ) নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসকরা ডিএডি আবদুল মোতালেবকে মৃত ঘোষণা করেন। এই ঘটনায় আহত অন্য তিনজন সদস্য এখনো নিবিড় পর্যবেক্ষণে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। উক্ত নির্মম হত্যাকাণ্ডের পর র্যাব-৭ এর পক্ষ থেকে সীতাকুণ্ড থানায় একটি হত্যা মামলা ও সরকারি কাজে বাধা দেওয়ার অভিযোগে মামলা দায়ের করা হয়।
ঘটনা ও গ্রেফতার সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ তথ্যাদি:
| তথ্যের বিবরণ | বিস্তারিত তথ্য ও পরিসংখ্যান |
| নিহত কর্মকর্তা | ডিএডি আবদুল মোতালেব (র্যাব-৭)। |
| আক্রান্ত সদস্য সংখ্যা | ৪ জন (১ জন শহীদ, ৩ জন চিকিৎসাধীন)। |
| হামলাকারীর সংখ্যা | আনুমানিক ৪০০ থেকে ৫০০ জন। |
| গ্রেফতারকৃত আসামি | আলীরাজ হাসান ওরফে সাগর (৩০)। |
| গ্রেফতারের স্থান | সুগন্ধা পয়েন্ট, কক্সবাজার সদর। |
| মামলার ধারা | দণ্ডবিধি অনুযায়ী হত্যা ও সরকারি কাজে বাধা। |
| তদন্তকারী সংস্থা | সীতাকুণ্ড থানা ও র্যাব-৭ এর সমন্বয়। |
ডিএডি আবদুল মোতালেব হত্যার পর থেকেই ছায়া তদন্ত শুরু করে র্যাবের গোয়েন্দা ইউনিট। গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে জানা যায় যে, মামলার অন্যতম প্রধান আসামি আলীরাজ হাসান সাগর সীতাকুণ্ড থেকে পালিয়ে কক্সবাজারে আত্মগোপন করেছে। এই তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত হওয়ার পর শনিবার রাতে কক্সবাজার সদর থানার সুগন্ধা পয়েন্ট এলাকায় বিশেষ অভিযান চালায় র্যাব-৭ এর একটি দল। অভিযানে কোনো প্রতিরোধের সুযোগ না দিয়েই তাকে কবজায় নেওয়া হয়। র্যাব-৭ এর সিনিয়র সহকারী পরিচালক (মিডিয়া) এআরএম মোজাফ্ফর হোসেন জানান, ধৃত আসামিকে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ শেষে সীতাকুণ্ড থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।
সীতাকুণ্ডের সলিমপুর ও জঙ্গল সলিমপুর এলাকাটি দীর্ঘকাল ধরে অপরাধীদের অভয়ারণ্য হিসেবে পরিচিত। বিশাল জনবল নিয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ওপর এই ধরণের সংঘবদ্ধ হামলা রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তার জন্য বড় ধরণের চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা হচ্ছে। এই হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত মূল হোতা এবং পলাতক অন্যান্য আসামিদের ধরতে সাঁড়াশি অভিযান অব্যাহত রাখার ঘোষণা দিয়েছে প্রশাসন। র্যাবের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, আবদুল মোতালেবের মতো একজন দক্ষ কর্মকর্তার মৃত্যু অপূরণীয় ক্ষতি, এবং এই হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত কাউকেই ছাড় দেওয়া হবে না।
পেশাগত দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে প্রাণ বিসর্জন দেওয়া ডিএডি আবদুল মোতালেবের মৃত্যুতে গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে বাহিনীটির ভেতরে। আলীরাজ হাসান সাগরের গ্রেফতার এই মামলার বিচারে একটি বড় সাফল্য হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। তবে এই ঘটনার নেপথ্যে থাকা গডফাদারদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনাই এখন সময়ের দাবি। সীতাকুণ্ডের সলিমপুর এলাকায় শান্তি বজায় রাখতে চিরুনি অভিযান আরও জোরদার করা হয়েছে।