খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: মঙ্গলবার, ২৭ জানুয়ারি ২০২৬
কক্সবাজারের উপকূলে মাদকবিরোধী এক বিশাল অভিযানে চাঞ্চল্যকর সাফল্য অর্জন করেছে র্যাব-১৫। শহরের উত্তর নুনিয়াছড়া এলাকার সাগর উপকূলবর্তী প্যারাবন থেকে প্রায় ২৪ কোটি টাকা সমমূল্যের বিশাল এক মাদক চালান উদ্ধার করা হয়েছে। সোমবার (২৬ জানুয়ারি, ২০২৬) র্যাবের এক বিশেষ অভিযানে এই বিপুল পরিমাণ ইয়াবা ও হেরোইন জব্দ করা হয়। এই ঘটনায় মাদক সিন্ডিকেটের সঙ্গে জড়িত দুই সক্রিয় কারবারিকে হাতেনাতে আটক করা হয়েছে।
র্যাব-১৫ সূত্রে জানা গেছে, গোপন সংবাদ আসে যে সাগরপথে মিয়ানমার থেকে মাদকের একটি বড় চালান বাংলাদেশে প্রবেশ করেছে এবং সেটি উত্তর নুনিয়াছড়ার প্যারাবনে গোপন করা হয়েছে। এই তথ্যের ভিত্তিতে র্যাব-১৫-এর একটি চৌকস দল সোমবার ভোরে নুনিয়াছড়া এলাকায় অবস্থান নেয়। র্যাবের উপস্থিতি টের পেয়ে দুজন ব্যক্তি ঝোপের আড়ালে পালানোর চেষ্টা করলে ধাওয়া করে তাদের আটক করা হয়।
আটকের পর ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদের একপর্যায়ে তারা স্বীকার করে যে, প্যারাবনের বালির নিচে মাদকের বস্তাগুলো লুকিয়ে রাখা হয়েছে। তাদের দেওয়া তথ্যানুযায়ী বালির নিচ থেকে প্লাস্টিকের চটের দুটি বিশাল বস্তা উদ্ধার করা হয়। বস্তাগুলো খুলে দেখা যায় ভেতরে সুকৌশলে লুকানো রয়েছে ৬ লাখ ৩০ হাজার পিস ইয়াবা বড়ি এবং ১০ কেজি উচ্চমাত্রার হেরোইন।
অভিযানের সংক্ষিপ্ত পরিসংখ্যান ও আটকদের তথ্য:
| বিষয়ের বিবরণ | বিস্তারিত তথ্য ও উপাত্ত |
| জব্দকৃত ইয়াবার পরিমাণ | ৬,৩০,০০০ (ছয় লাখ ত্রিশ হাজার) পিস |
| জব্দকৃত হেরোইনের ওজন | ১০ (দশ) কেজি |
| মাদকের আনুমানিক বাজারমূল্য | প্রায় ২৪ কোটি টাকা |
| আটককৃত ১ (মো. ইসমাইল) | বয়স: ৪৩, গ্রাম: চরণদ্বীপ, চকরিয়া |
| আটককৃত ২ (নজরুল ইসলাম) | বয়স: ৪২, গ্রাম: পালংখালী, উখিয়া |
| অভিযান পরিচালনাকারী দল | র্যাব-১৫, কক্সবাজার ব্যাটালিয়ন |
সোমবার বিকেলে র্যাব-১৫-এর কক্সবাজার ক্যাম্পে আয়োজিত এক জনাকীর্ণ সংবাদ সম্মেলনে বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরেন ব্যাটালিয়ন অধিনায়ক লেফটেনেন্ট কর্নেল নিয়ামুল হালিম খান। তিনি জানান, জব্দকৃত ইয়াবার বাজারমূল্য প্রায় ১৮ কোটি ৯০ লাখ টাকা এবং হেরোইনের মূল্য প্রায় ৫ কোটি টাকা। অর্থাৎ এই চালানের মোট আর্থিক মূল্য ২৪ কোটি টাকার কাছাকাছি।
তিনি আরও উল্লেখ করেন, আটককৃত ইসমাইল ও নজরুল ইসলাম দীর্ঘ দিন ধরে সীমান্তবর্তী এলাকা থেকে মাদক এনে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে সরবরাহের কাজ করত। তারা মূলত সাগরপথ ব্যবহার করে এই চালানটি এনেছিল এবং প্যারাবনে বালিচাপা দিয়ে রেখেছিল যাতে পরিস্থিতি বুঝে তা অন্যত্র সরিয়ে নেওয়া যায়। র্যাবের দ্রুত ও সাহসী পদক্ষেপের ফলে এই বিশাল চালানটি দেশের যুবসমাজের হাতে পৌঁছানোর আগেই ধ্বংস করা সম্ভব হয়েছে।
আটককৃত দুই মাদক কারবারিকে উদ্ধারকৃত আলামতসহ কক্সবাজার সদর থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে একটি নিয়মিত মামলা দায়ের করার প্রক্রিয়া চলছে। র্যাব অধিনায়ক আরও জানান, এই চক্রের পেছনে বড় কোনো গডফাদার বা অর্থদাতা রয়েছে কি না, তা খুঁজে বের করতে তদন্ত জোরদার করা হয়েছে। সীমান্তবর্তী নাফ নদী ও সাগরপথে মাদকের আনাগোনা বন্ধ করতে র্যাব এবং অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী বর্তমানে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতিতে কাজ করছে।
কক্সবাজারের এই সফল অভিযান মাদক নির্মূলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সক্ষমতারই বহিঃপ্রকাশ। তবে বালিচাপা দিয়ে বা প্যারাবনের নির্জনতাকে কাজে লাগিয়ে মাদক মজুত করার এই নতুন কৌশল সাধারণ মানুষের মধ্যে উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে। মাদক সিন্ডিকেটের শেকড় উপড়ে ফেলতে হলে স্থানীয় জনগণের সচেতনতা ও সঠিক সময়ে তথ্য প্রদান অত্যন্ত জরুরি।