খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: বুধবার, ২৮ জানুয়ারি ২০২৬
বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর আহসান এইচ. মনসুরকে লেখা একটি চিঠিতে অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকারস বাংলাদেশ (এবিবি) ঋণখেলাপীদের বিরুদ্ধে কড়াকড়ি ও শৃঙ্খলা পুনঃপ্রতিষ্ঠার জন্য একাধিক প্রস্তাব পেশ করেছে। এবিবি প্রধান মাশরুর আরেফিন বলেন, বর্তমান ব্যাংকিং খাতে ঋণ পুনরুদ্ধার ও নগদ প্রবাহ বাড়াতে এসব উদ্যোগ জরুরি।
প্রস্তাবনার মূল বিষয় হলো ঋণখেলাপীদের নাম, ছবি ও অন্যান্য তথ্য জনসমক্ষে প্রকাশের অনুমতি দেওয়ার জন্য কেন্দ্রীয় ব্যাংকের অনুমোদন। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে ঋণখেলাপীদের সামাজিক ও আর্থিক দায়বোধ বাড়ানো এবং ব্যাংকিং খাতে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা সম্ভব হবে।
এবিবি প্রস্তাবনায় আরও বলা হয়েছে যে, ঋণখেলাপীরা কোনও আদালত বা ব্যাংকের অনুমতি ছাড়া বিদেশ ভ্রমণে যেতে পারবে না। এছাড়া, যারা ঋণ খেলাপ করেছেন, তাদের কোনও ব্যবসায়িক সমিতি বা বাণিজ্যিক সংস্থার নির্বাচনে অংশগ্রহণে আইনি বাধা আরোপ করতে হবে।
চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে, প্রস্তাবনাগুলি ১২ নভেম্বর ২০২৫ তারিখে ডেপুটি গভর্নর মোহাম্মদ কবির আহমদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত বৈঠকের পর প্রস্তুত করা হয়েছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৫ পর্যন্ত ব্যাংকিং খাতে শ্রেণিবদ্ধ (ক্লাসিফায়েড) ঋণের পরিমাণ ৬.৪৪ লাখ কোটি টাকা, যা মোট ঋণ ১৮.০৪ লাখ কোটি টাকার ৩৫.৭৩%। এটি জুনের ৬.০৮ লাখ কোটি এবং মার্চের ৪.২০ লাখ কোটি টাকার তুলনায় ব্যাপক বৃদ্ধি, যা মূলত ঋণ শ্রেণিবিভাগের কঠোর মানদণ্ড ও পূর্বে গোপন করা খারাপ ঋণের স্বীকৃতির কারণে।
এ বিষয়ে মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও সিইও সৈয়দ মাহবুবুর রহমান বলেন, “১৯৯০-এর দশকে বিদেশি ব্যাংক এবং সংসদেও ঋণখেলাপীদের জনসমক্ষে প্রকাশ করা হতো। এটি যৌক্তিক এবং অত্যন্ত প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ। ঋণ খেলাপীরা কীভাবে ব্যবসায়িক ও সামাজিক প্রোগ্রামে অংশ নিতে পারে? এটি শুধু আর্থিক নয়, সামাজিক বিষয়ও।”
প্রস্তাবনাগুলোর মূল বিষয়বস্তু সংক্ষেপে নিচের টেবিলে তুলে ধরা হলো—
| প্রস্তাবনা | বিস্তারিত তথ্য |
|---|---|
| জনসমক্ষে ঋণখেলাপীর প্রকাশ | নাম, ছবি ও তথ্য প্রকাশের অনুমতি কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মাধ্যমে |
| বিদেশ ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা | ঋণখেলাপীরা আদালত বা ব্যাংকের অনুমতি ছাড়া বিদেশ যেতে পারবে না |
| ব্যবসায়িক সংস্থা ও নির্বাচনে অংশগ্রহণ | ঋণখেলাপীরা নির্বাচনে অংশগ্রহণে অযোগ্য |
| শ্রেণিবদ্ধ ঋণ (৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৫) | ৬.৪৪ লাখ কোটি টাকা (মোট ঋণের ৩৫.৭৩%) |
| ব্যাংকিং খাতে ঋণ বৃদ্ধি | মার্চ ৪.২০ → জুন ৬.০৮ → সেপ্টেম্বর ৬.৪৪ লাখ কোটি টাকা |
| সামাজিক দায়বোধের উদ্দীপনা | ঋণখেলাপীদের অবস্থা জনসমক্ষে প্রকাশের মাধ্যমে নৈতিক ও সামাজিক শিক্ষা প্রদান |
এবিবি আশা করছে, এই পদক্ষেপগুলো ব্যাংকিং খাতে ঋণ পুনরুদ্ধার ত্বরান্বিত করবে, নন-পারফর্মিং লোন কমাবে এবং ঋণখেলাপীদের আর্থিক ও সামাজিক দায়িত্ববোধ জাগ্রত করবে।