খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ২৯ জানুয়ারি ২০২৬
গুলশান থানার প্রবেশপথে দীর্ঘদিন ধরে পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে থাকা একটি ব্যয়বহুল গাড়ি চাক্ষুষ করছে পথচারী ও স্থানীয়দের কৌতূহল। ধুলোয় ঢাকা গাঢ় নীল রঙের এই গাড়ি হলো টয়োটার ল্যান্ডক্রুজার পাজেরো ভিایট (জেডএক্স) মডেল। প্রায় ৪ কোটি ৫০ লাখ টাকার এই বিলাসবহুল গাড়ি এখন অবহেলিত অবস্থায় থানা প্রাঙ্গণে দাঁড়িয়ে আছে।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, গাড়িটি সাবেক আইনমন্ত্রী আনিসুল হকের মালিকানাধীন। ২০২৪ সালের জুলাই মাসে সরকারি পতনের পর তিনি কিছুদিন আত্মগোপনে থাকেন। এরপর ১৩ আগস্ট আনিসুল হক এবং তার ঘনিষ্ঠ শিল্পপতি সালমান এফ রহমান নৌপথে পালানোর চেষ্টা করেন, কিন্তু রাজধানীর সদরঘাট থেকে কোস্ট গার্ডের হাতে ধরা পড়েন।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গাড়িটি প্রথমে ইউনাইটেড হাসপাতালের বেইজমেন্ট পার্কিং এ রাখা হয়েছিল। ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৪ সালে অভিযান চালিয়ে গাড়িটি উদ্ধার করা হয়। তবে দরজা লক থাকায় তা সরানো সম্ভব হয়নি। পরে গাড়িটি হাসপাতালের নিরাপত্তাকর্মীদের তত্ত্বাবধানে রাখা হয়।
পুলিশ গাড়ির মালিকানা যাচাইয়ের জন্য বিআরটিএ-তে চিঠি পাঠালে জানা যায়, গাড়িটি আনিসুল হকের নামে ২০২২ সালের ৪ অক্টোবর রেজিস্ট্রেশনকৃত এবং ২০২৫ সালের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত বৈধ। এটি এমপি কোটায় শুল্কমুক্ত আমদানি করা হয়েছিল।
সেপ্টেম্বর ২০২৪ সালে গুলশান থানার পুলিশ আদালতে আবেদন করে গাড়িটি থানার কাজে ব্যবহারের অনুমতি চায়। আবেদনপত্রে উল্লেখ করা হয়, জব্দকৃত গাড়ি খোলা আকাশের নিচে রাখা আছে এবং ডিএমপি’র গাড়ির চাহিদার তুলনায় সংখ্যা কম। আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় এটি ব্যবহারে কাজের গতি বৃদ্ধি পাবে এবং গাড়ি সচল থাকবে।
গাড়িটি থানায় আনার সময় দুটি পুলিশি ওয়াকিটকি, ট্যাক্স টোকেন, রেজিস্ট্রেশন ও কিছু আইন মন্ত্রণালয়ের কাগজপত্র উদ্ধার করা হয়। ওয়াকিটকি দুটি পরে সাবেক আইনমন্ত্রীর গানম্যান হিসাবে নিযুক্ত কনস্টেবল মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ-এর জিম্মায় ফেরত দেওয়া হয়।
বৃহস্পতিবার বিকেলে গুলশান থানার প্রাঙ্গণে গাড়িটি পরিদর্শন করলে দেখা যায়, ধুলোয় ঢাকা গাড়ির আসল রঙ বোঝা যায় না। সামনে ও পেছনের চাকা বসে আছে, এবং গাড়ির গায়ে রাজনৈতিক স্লোগান লেখা আছে।
| বিষয় | তথ্য |
|---|---|
| গাড়ির মডেল | টয়োটা ল্যান্ডক্রুজার পাজেরো ভিایট (জেডএক্স) |
| রঙ | গাঢ় নীল |
| আনুমানিক মূল্য | ৪.৫ কোটি টাকা |
| মালিক | সাবেক আইনমন্ত্রী আনিসুল হক |
| রেজিস্ট্রেশন তারিখ | ৪ অক্টোবর ২০২২ |
| বৈধতার মেয়াদ | ৩১ ডিসেম্বর ২০২৫ পর্যন্ত |
| জব্দের স্থান | ইউনাইটেড হাসপাতাল বেইজমেন্ট পার্কিং |
| পুলিশের ব্যবহারের অনুমোদন | আদালতের মাধ্যমে আবেদন করা হয়েছে |
পুলিশের আবেদন থাকলেও বিশেষজ্ঞদের মতে, কোটি টাকার এ ধরনের গাড়ি সাধারণ পুলিশের কাজে ব্যবহার করা হয় না। বাহিনী প্রধানরাও সাধারণত এ ধরনের গাড়ি ব্যবহার করেন না। ফলে গাড়িটি কোন পর্যায়ের কর্মকর্তার কাজে বরাদ্দ দেওয়া হবে, তা এখনও অজানা।