খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: শুক্রবার, ৩০ জানুয়ারি ২০২৬
২০২৫ সাল ব্যাংকিং খাতের জন্য ছিল বড় ধরনের পরিবর্তনের বছর। একদিকে মার্জার ও অধিগ্রহণের (এমঅ্যান্ডএ) সংখ্যা দ্রুত বেড়েছে, অন্যদিকে নতুন ব্যাংক গঠনের আবেদনও উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, ২০২৬ সাল এই প্রবণতাগুলোরই ধারাবাহিকতা নয়—বরং আরও বিস্তৃত ও গভীর রূপ নিতে পারে। অনেকেই একে ২০২৫ সালের ‘সিক্যুয়েল’ হিসেবে দেখছেন, যেখানে আগের বছরের ঘটনাগুলো আরও বড় পরিসরে ফিরে আসবে।
তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে ব্যাংকিং খাতে মোট ১৮১টি মার্জার ও অধিগ্রহণ সম্পন্ন হয়েছে। আর্থিক পরামর্শক প্রতিষ্ঠান ক্লারোস গ্রুপের সহপ্রতিষ্ঠাতা ব্রায়ান গ্রাহামের ধারণা, ২০২৬ সালে এই সংখ্যা দ্বিগুণের কাছাকাছি পৌঁছাতে পারে। এর পেছনে রয়েছে আগের দশকের শুরুতে ধীরগতির কার্যক্রম থেকে জমে থাকা চাপ এবং নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলোর তুলনামূলক দ্রুত মূল্যায়ন প্রক্রিয়া। পাশাপাশি রাজনৈতিক অনিশ্চয়তাও বড় ভূমিকা রাখছে। বিশ্লেষকদের একাংশ মনে করছেন, মধ্যবর্তী নির্বাচন বা ২০২৮ সালের নির্বাচনের আগে সম্ভাব্য নীতিগত পরিবর্তনের আশঙ্কায় অনেক ব্যাংক আগেভাগেই চুক্তি সম্পন্ন করতে চাইবে।
তবে এই তৎপরতার প্রভাব সব ব্যাংকের জন্য সমান নয়। ছোট ব্যাংকগুলো আশঙ্কার মুখে পড়তে পারে, কারণ যেসব মধ্যম আকারের ব্যাংক আগে সম্ভাব্য ক্রেতা ছিল, তারাই এখন বড় ব্যাংকের অধিগ্রহণ লক্ষ্যে পরিণত হচ্ছে। ফলে ছোট ব্যাংকের জন্য ‘ক্রেতা বাজার’ সংকুচিত হওয়ার ঝুঁকি তৈরি হচ্ছে।
এমঅ্যান্ডএ ছাড়াও নতুন ব্যাংক গঠনের আবেদন বা ‘ডি নোভো’ চার্টারের ক্ষেত্রেও উল্লেখযোগ্য উত্থান দেখা যাচ্ছে। ২০২৫ সালে যুক্তরাষ্ট্রের অফিস অব দ্য কম্পট্রোলার অব দ্য কারেন্সির কাছে ১৮টি নতুন আবেদন জমা পড়ে। ক্লারোস গ্রুপের আরেক সহপ্রতিষ্ঠাতা মিশেল আল্টের পূর্বাভাস অনুযায়ী, ২০২৬ সালে এই সংখ্যা ২৫-এ পৌঁছাতে পারে। বছরের শুরুতেই কয়েকটি বড় নাম আবেদন করেছে, যা ইঙ্গিত দিচ্ছে যে নতুন খেলোয়াড়দের প্রবেশ অব্যাহত থাকবে।
নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থার ক্ষেত্রেও ২০২৬ সাল ভিন্ন চিত্র দেখাতে পারে। ২০২৫ সালে যেখানে আগের প্রশাসনের সময়কার কিছু কঠোর বিধিনিষেধ শিথিল করা হয়েছিল, সেখানে ২০২৬ সালে নতুন করে নিয়ন্ত্রণ কাঠামো শক্ত হতে পারে। ট্রাম্প নিয়োগপ্রাপ্ত নিয়ন্ত্রকেরা নিজেদের দৃষ্টিভঙ্গি অনুযায়ী নিয়ম-কানুন পুনর্গঠনে মনোযোগ দেবেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। ফলে ব্যাংকগুলোর জন্য সম্মতি ও ঝুঁকি ব্যবস্থাপনার ব্যয় বাড়ার সম্ভাবনাও রয়েছে।
২০২৬ সালে ব্যাংকিং খাতের সম্ভাব্য প্রধান প্রবণতাগুলো সংক্ষেপে নিচের সারণিতে তুলে ধরা হলো—
| ক্ষেত্র | ২০২৫ সালের চিত্র | ২০২৬ সালের সম্ভাব্য প্রবণতা |
|---|---|---|
| মার্জার ও অধিগ্রহণ | ১৮১টি চুক্তি | সংখ্যা দ্বিগুণের কাছাকাছি |
| নতুন ব্যাংক আবেদন | ১৮টি আবেদন | প্রায় ২৫টি আবেদন |
| ছোট ব্যাংকের অবস্থান | মধ্যম ব্যাংকের ওপর নির্ভরতা | ক্রেতা সংকুচিত হওয়ার ঝুঁকি |
| নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা | বিধিনিষেধ শিথিল | নতুন করে শক্ত কাঠামো |
সব মিলিয়ে, ২০২৬ সাল ব্যাংকিং খাতের জন্য একদিকে যেমন প্রবৃদ্ধি ও সম্প্রসারণের সুযোগ তৈরি করবে, অন্যদিকে তেমনি বাড়তি প্রতিযোগিতা ও নিয়ন্ত্রণের চ্যালেঞ্জও নিয়ে আসবে। বড় ব্যাংক, ছোট ব্যাংক এবং নতুন উদ্যোক্তা—সবার জন্যই এটি হতে যাচ্ছে কৌশল নির্ধারণের এক গুরুত্বপূর্ণ বছর।