খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: ৩১ই জানুয়ারি ২০২৬, ৫:৫১ এএম
দীর্ঘ প্রতীক্ষা ও আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের নিরন্তর চাপের মুখে অবশেষে গাজা উপত্যকা ও মিসরের মধ্যকার কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ রাফাহ সীমান্ত পারাপার বা ‘রাফাহ ক্রসিং’ আংশিকভাবে খুলে দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে ইসরায়েল। আগামী রবিবার থেকে এই সীমান্ত পথটি পুনরায় সচল হবে। তবে প্রাথমিক পর্যায়ে এটি কেবল ‘সীমিত পরিসরে মানুষের চলাচলের জন্য’ উন্মুক্ত রাখা হবে বলে জানানো হয়েছে। জাতিসংঘ এবং বিভিন্ন আন্তর্জাতিক মানবিক সহায়তা সংস্থা এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানালেও ত্রাণ সরবরাহের পূর্ণ প্রবেশাধিকার নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছে।
রাফাহ ক্রসিং পুনরায় খুলে দেওয়ার বিষয়টি যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় হওয়া বহুপাক্ষিক যুদ্ধবিরতি চুক্তির একটি অন্যতম শর্ত ছিল। ফিলিস্তিনি স্বাধীনতাকামী সংগঠন হামাস গত শুক্রবার এই চুক্তির দ্বিতীয় ধাপে দ্রুত অগ্রসর হওয়ার আহ্বান জানায়। এই ধাপের অধীনে কেবল রাফাহ ক্রসিং খোলাই নয়, বরং গাজা পরিচালনার জন্য একটি বিশেষজ্ঞ বা প্রযুক্তিবিদ-নির্ভর ফিলিস্তিনি কমিটি গঠনের বিষয়ও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
ইসরায়েল এর আগে স্পষ্ট জানিয়েছিল যে, গাজায় আটক জিম্মি র্যান গভিলির মরদেহ ফেরত না পাওয়া পর্যন্ত তারা এই সীমান্ত পথটি সচল করবে না। চলতি সপ্তাহের শুরুতে তাঁর মরদেহ উদ্ধার এবং বুধবার ইসরায়েলে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় দাফন সম্পন্ন হওয়ার পর ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ তাদের অবস্থানে পরিবর্তন আনে।
| বিষয়ের বিবরণ | বিস্তারিত তথ্য |
| কার্যকর হওয়ার তারিখ | আগামী রবিবার (ফেব্রুয়ারি ২০২৬) |
| চলাচলের প্রকৃতি | কেবল মানুষের সীমিত চলাচল (দ্বিমুখী) |
| তদারককারী সংস্থা | ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের সংস্থা ‘কোগ্যাট’ (COGAT) |
| আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষণ | ইউরোপীয় ইউনিয়নের (EU) বিশেষ মিশনের তত্ত্বাবধান |
| কৌশলগত গুরুত্ব | গাজার একমাত্র বহির্গমন পথ যা সরাসরি ইসরায়েল নিয়ন্ত্রিত নয় |
দখলকৃত ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে বেসামরিক বিষয়াবলি তদারককারী ইসরায়েলি সংস্থা ‘কোগ্যাট’ এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, মিসরের সঙ্গে পূর্ণ সমন্বয় এবং ইসরায়েলের পূর্ববর্তী নিরাপত্তা ছাড়পত্রের ভিত্তিতেই কেবল ব্যক্তিদের যাতায়াত অনুমোদিত হবে। পুরো প্রক্রিয়াটি ইউরোপীয় ইউনিয়নের বর্ডার অ্যাসিস্ট্যান্স মিশনের সরাসরি তত্ত্বাবধানে পরিচালিত হবে, যাতে কোনো ধরনের নিরাপত্তা বিঘ্নিত না হয়।
২০২৪ সালের মে মাসে ইসরায়েলি বাহিনী রাফাহ ক্রসিংয়ের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার পর থেকে এটি কার্যত বন্ধ ছিল। যদিও যুদ্ধবিরতি চুক্তির শর্ত অনুযায়ী ইসরায়েলি বাহিনীর ‘ইয়েলো লাইন’-এর পেছনে সরে যাওয়ার কথা, তথাপি বর্তমানেও সীমান্ত সংলগ্ন এলাকাটি ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর সরাসরি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।
গাজার সাধারণ মানুষের কাছে রাফাহ ক্রসিং কেবল একটি সীমান্ত নয়, বরং এটি তাদের জন্য বহির্বিশ্বের সাথে সংযোগকারী জীবনরেখা। মে মাস থেকে এটি বন্ধ থাকায় গাজায় খাদ্য, ওষুধ এবং জরুরি মানবিক সহায়তার প্রবেশ মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়েছে। ফিলিস্তিনিদের মতে, কেবল মানুষের চলাচল নয়, বরং ত্রাণের ট্রাক প্রবেশের জন্য এই পথটি পূর্ণাঙ্গভাবে খুলে দেওয়া এখন সময়ের দাবি। বিশেষ করে যারা চিকিৎসার জন্য বিদেশে যেতে চান, এই আংশিক খোলার সিদ্ধান্ত তাদের জন্য কিছুটা স্বস্তির বার্তা নিয়ে এসেছে।
ইসরায়েলি বাহিনী এখনো গাজার অর্ধেকেরও বেশি এলাকা নিয়ন্ত্রণ করছে এবং সামরিক কৌশল হিসেবে রাফাহ ক্রসিংকে ব্যবহারের অভিযোগও রয়েছে। আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই আংশিক পদক্ষেপ দীর্ঘমেয়াদী যুদ্ধবিরতি এবং স্থায়ী শান্তির পথে একটি ক্ষুদ্র কিন্তু গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হতে পারে।
মন্তব্য