খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: 18শে মাঘ ১৪৩২ | ৩১ই জানুয়ারি ২০২৬ | 1150 Dhu al-Hijjah 5
বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) বর্তমান সভাপতি আমিনুল ইসলামের বিরুদ্ধে ম্যাচ ফিক্সিংয়ের তদন্ত চলছে বলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া সংবাদটিকে সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন, মিথ্যা ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে উড়িয়ে দিয়েছে বিসিবি। আজ এক জরুরি সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে দেশের ক্রিকেটের সর্বোচ্চ নিয়ন্ত্রক সংস্থাটি এই বিভ্রান্তিকর তথ্যের তীব্র প্রতিবাদ জানায়। বোর্ড স্পষ্ট করেছে যে, বিসিবি সভাপতির ব্যক্তিগত ও পেশাগত ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার লক্ষ্যেই একটি বিশেষ মহল এ ধরনের অপপ্রচার চালাচ্ছে।
বিসিবি জানিয়েছে, বেশ কিছু সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও অনলাইন প্ল্যাটফর্মে দাবি করা হচ্ছিল যে, আইসিসির অ্যান্টি-করাপশন ইউনিটের (আকু) সাবেক প্রধান বা বর্তমান ইন্টিগ্রিটি সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা অ্যালেক্স মার্শাল বিসিবি সভাপতি আমিনুল ইসলামের বিরুদ্ধে তদন্ত করছেন। তবে বিসিবির পক্ষ থেকে এই অভিযোগের সত্যতা যাচাই করতে গিয়ে দেখা গেছে, খোদ অ্যালেক্স মার্শালই এই তথ্যটিকে ‘মনগড়া’ বলে অভিহিত করেছেন।
অ্যালেক্স মার্শাল এক বিবৃতিতে জানিয়েছেন:
“আমি বিসিবি সভাপতি আমিনুল ইসলামের ফিক্সিং সংশ্লিষ্টতা নিয়ে কোনো তদন্ত করছি না। এই অভিযোগগুলো কেবল অসত্যই নয়, বরং পুরোপুরি বানোয়াট।”
ক্রিকেট বোর্ড মনে করে, এ ধরনের বিভ্রান্তিকর তথ্য কেবল একজন ব্যক্তির সম্মানহানি করে না, বরং দেশের ক্রিকেটের আন্তর্জাতিক ভাবমূর্তিও সংকটে ফেলে। তাই এই অপপ্রচারের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিয়েছে বিসিবি। ইতোমধ্যে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) মিরপুর থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়েছে।
বিসিবির পদক্ষেপ ও সংশ্লিষ্ট তথ্যের সারণি:
| বিষয় | বিস্তারিত তথ্য |
| কেন্দ্রীয় চরিত্র | আমিনুল ইসলাম (সভাপতি, বিসিবি) |
| অভিযোগের ধরন | ম্যাচ ফিক্সিং সংক্রান্ত অপপ্রচার |
| প্রধান সাক্ষী | অ্যালেক্স মার্শাল (ইন্টিগ্রিটি বিশেষজ্ঞ) |
| গৃহীত ব্যবস্থা | মিরপুর থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) ভুক্তি |
| বিসিবির অবস্থান | শূন্য সহনশীলতা (জিরো টলারেন্স) |
| উদ্দেশ্য | ক্রিকেট ও দেশের ভাবমূর্তি রক্ষা |
বিসিবির সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে আরও উল্লেখ করা হয়েছে যে, বর্তমান সময়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভুল তথ্য ছড়িয়ে দেওয়ার প্রবণতা বেড়েছে। বিশেষ করে জনপ্রিয় ক্রিকেটার বা ক্রিকেট সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের টার্গেট করে ভিউ বাড়ানোর নেশায় অনেক পেজ এই ধরনের কুৎসা রটায়। বিসিবি জানিয়েছে, যারা এই অপপ্রচারের সঙ্গে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে জড়িত, তাদের শনাক্ত করার কাজ চলছে। সাইবার নিরাপত্তা আইনের অধীনে সংশ্লিষ্ট পেজ এবং ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়াও শুরু হয়েছে।
বোর্ডের পক্ষ থেকে সাধারণ দর্শক ও ক্রিকেটপ্রেমীদের প্রতি অনুরোধ জানানো হয়েছে যেন তারা যাচাই না করে কোনো তথ্যে বিশ্বাস না করেন এবং অপপ্রচারে কান না দেন। বিসিবি জোর দিয়ে বলেছে যে, দেশের ক্রিকেটের স্বচ্ছতা ও নৈতিকতা বজায় রাখতে তারা বদ্ধপরিকর। যেকোনো ধরনের দুর্নীতির বিরুদ্ধে বিসিবির অবস্থান সব সময়ই ‘জিরো টলারেন্স’। তবে মিথ্যা অভিযোগের মাধ্যমে কাউকে হেয় করার চেষ্টাকেও বোর্ড কোনোভাবেই ছাড় দেবে না।
এই ঘটনার মধ্য দিয়ে আবারও প্রমাণিত হলো যে, প্রযুক্তির অপব্যবহার করে জনমনে বিভ্রান্তি ছড়ানো ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া এখন সময়ের দাবি। বিসিবি সভাপতির বিরুদ্ধে ওঠা এই ভিত্তিহীন অভিযোগটি ক্রিকেটের সুস্থ পরিবেশ নষ্ট করার একটি অপচেষ্টা ছাড়া আর কিছুই নয়।