ভারতের কলকাতার ইডেন গার্ডেন্সে অনুষ্ঠিত ২০২৬ সালের টি২০ বিশ্বকাপের উদ্বোধনী ম্যাচে ইউরোপীয় দল স্কটল্যান্ড ক্যারিবীয় শক্তিধর উইন্ডিজের কাছে ৩৫ রানে হেরে যায়। উন্ডিজের দ্রুতগতির বোলার রোমারিও শেফার্ডের হ্যাটট্রিকসহ ৫ উইকেট স্কটিশদের স্বপ্নে জল ঢেলে দেয়। দলের সংগ্রহ ১৮২ রানের জবাবে স্কটিশরা গুটিয়ে যায় মাত্র ১৪৭ রানে।
এই ম্যাচে উইন্ডিজকে শক্তিশালী শুরু এনে দেন ওপেনার শিমরন হেটমায়ার। ২২ বলে ৬৪ রানের তাঁর ইনিংসের মধ্যে ছিল ৬টি ছয়, যা উইন্ডিজের হয়ে টি২০ বিশ্বকাপে দ্রুততম হাফ সেঞ্চুরির রেকর্ড গড়ে। এর আগে এই রেকর্ডটি ছিল ক্রিস গেইলের হাতে, যিনি ২০০৯ সালে ২৩ বলে ফিফটি করেছিলেন। হেটমায়ারের সঙ্গে রোভম্যান পাওয়েল ও রাদারফোর্ডও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেন।
স্কটল্যান্ডের রান তাড়া শুরু মাত্র দ্বিতীয় ওভারে উইকেট হারায়। পাওয়ার প্লের মধ্যে আরও দুই ব্যাটসম্যান আউট হন, তবে রিচি বেরিংটন ও টম ব্রুস চতুর্থ উইকেটে ৭৮ রানের জুটি গড়ে কিছুটা আশা জাগান। কিন্তু পরপর উইকেটের পতনের পর স্কটিশরা ধাক্কা খায়। এরপর ১৭তম ওভারে শেফার্ড হ্যাটট্রিকসহ ৪ উইকেট নিয়ে স্কটিশদের দ্রুত গুটিয়ে দেন। ৩ ওভারে মাত্র ২০ রান দিয়ে ৫ উইকেট নেওয়ায় তাঁর বোলিংটি টি২০ বিশ্বকাপে দ্বিতীয় সেরা হিসেবে তালিকাভুক্ত হয়।
শেফার্ডের হ্যাটট্রিকটি টি২০ বিশ্বকাপে দশম এবং প্রথম ক্যারিবীয় হিসেবে এই কৃতিত্ব তাঁর। এর আগে এই মাইলফলকটি অস্ট্রেলিয়ার কিংবদন্তি পেসার ব্রেট লি অর্জন করেছিলেন ২০০৭ সালের বিশ্বকাপে বাংলাদেশের বিপক্ষে।
স্কটিশ ব্যাটিংয়ের দৃশ্যপট: পাওয়ার প্লেতে দ্রুত উইকেট হারানো সত্ত্বেও বেরিংটন ও ব্রুস কিছুটা প্রতিরোধ গড়ে তোলেন। তবে পরবর্তী ওভারগুলোতে শেফার্ডের বোলিংতে ধস নেমে আসে। অন্যদিকে উইন্ডিজের ইনিংস শুরুতে ওপেনার ব্রেন্ডন কিং ও শাই হোপ ৫৪ রানের জুটি গড়ে দলকে শক্ত ভিত্তি দেন। হেটমায়ার ৩৭ বলে ৮১ রান যোগ করে দলের স্কোরকে বিশাল আকৃতিতে নিয়ে যান।
সংক্ষিপ্ত স্কোর:
| দল | ইনিংস | ব্যাটসম্যান | রান | বোলার | ওভার | উইকেট/রান |
|---|---|---|---|---|---|---|
| উইন্ডিজ | ২০ ওভার | হেটমায়ার ৬৪, কিং ৩৫, রাদারফোর্ড ২৬, পাওয়েল ২৪ | ১৮২/৫ | কুরি ২/২৩, ডেভিসন ১/২৩ | ২০ | ৫ উইকেট |
| স্কটল্যান্ড | ১৮.৫ ওভার | বেরিংটন ৪২, ব্রুস ৩৫, মানসি ১৯ | ১৪৭ | শেফার্ড ৫/২০, হোল্ডার ৩/৩০ | ১৮.৫ | ৫ উইকেট |
| ফলাফল | – | – | – | – | – | উইন্ডিজ ৩৫ রানে জয়ী |
ম্যাচে প্রভাবশালী পারফরম্যান্সের জন্য ম্যাচসেরা নির্বাচিত হন হেটমায়ার। একই দিনে কলম্বোর মাঠে পাকিস্তানও ডাচদের ৩ উইকেটে হারিয়ে টুর্নামেন্টের শুরুতে জোরালো প্রভাব রাখে।
উন্ডিজের এই জয় দলকে আত্মবিশ্বাসীভাবে ২০২৬ সালের টি২০ বিশ্বকাপে তাদের লড়াকু রূপ প্রদর্শনের ইঙ্গিত দিয়েছে।



