খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: রবিবার, ৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রাক্কালে লক্ষ্মীপুর-৩ (সদর) আসনের জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী ড. রেজাউল করিমকে নির্বাচন কমিশন (ইসি) কঠোর সতর্কবার্তা দিয়েছে। কমিশন জানিয়েছে, তিনি যদি পুনরায় নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘন করেন, তবে তার প্রার্থিতা বাতিলও হতে পারে।
ইসি সচিবালয়ের উপসচিব (আইন-১) মোহাম্মদ দিদার হোসাইনের স্বাক্ষরিত চিঠির মাধ্যমে এ তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে। চিঠিটি স্বাক্ষরিত হয় গত শুক্রবার এবং প্রার্থীর কাছে আজ রোববার তা প্রেরণ করা হয়েছে।
চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে, ড. রেজাউল করিম নির্ধারিত সময়ের আগে নির্বাচনী প্রচারণা চালানো এবং ভোটারদের নগদ টাকা ও ঘর নির্মাণের প্রতিশ্রুতি দিয়ে ভোট চাওয়ার অভিযোগে প্রাথমিকভাবে দোষী সাব্যস্ত হয়েছেন। এই অভিযোগ বিএনপির প্রার্থী প্রধান নির্বাচনী সমন্বয়ক ওয়াহিদ উদ্দিন চৌধুরী হ্যাপি দ্বারা লিখিতভাবে ইলেক্টোরাল ইনকোয়ারি অ্যান্ড এডজুডিকেশন কমিটিতে দাখিল করা হয়। তদন্ত শেষে কমিটি অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা প্রমাণিত হয় এবং ২৭ জানুয়ারি নির্বাচন কমিশনে প্রতিবেদন জমা দেয়।
ঘটনার সংক্ষিপ্ত বিবরণ টেবিলে:
| তারিখ | স্থান | অভিযোগকারীর নাম | অভিযোগের বিষয়বস্তু | প্রার্থী প্রতিশ্রুতি / আচরণ |
|---|---|---|---|---|
| ৯ জানুয়ারি | লক্ষ্মীপুর-৩, ৮ নম্বর ওয়ার্ড, একাডেমি রোড | মাহফুজা খাতুন (৮৫) | ভোটপ্রভাবক আচরণ | নগদ টাকা প্রদান ও ঘর নির্মাণের প্রতিশ্রুতি |
| ২৭ জানুয়ারি | নির্বাচন কমিশন, ঢাকা | ওয়াহিদ উদ্দিন চৌধুরী হ্যাপি (বিএনপি) | লিখিত অভিযোগ দাখিল | তদন্ত শেষে প্রাথমিক সত্যতা রিপোর্ট প্রদান |
নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, এই কর্মকাণ্ড সংসদ নির্বাচনে রাজনৈতিক দল ও প্রার্থীর আচরণ বিধিমালা, ২০২৫-এর ৪(১) ও ১৮ বিধি লঙ্ঘন করেছে। সতর্কবার্তায় বলা হয়েছে, ভবিষ্যতে পুনরায় আচরণবিধি লঙ্ঘন করলে গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ, ১৯৭২-এর ৯১ক (৬গ) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী প্রার্থীর বিরুদ্ধে জরিমানা আরোপ বা তার প্রার্থিতা বাতিল করা হতে পারে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পদক্ষেপ নির্বাচনী নৈতিকতা রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ, কারণ এটি ভোটারদের উপর অবৈধ প্রভাব প্রয়োগের প্রভাব কমাবে এবং সুষ্ঠু প্রতিযোগিতা নিশ্চিত করবে। ইসি সতর্কবার্তার মাধ্যমে প্রার্থীদের মনে করিয়ে দিয়েছে যে নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘন করলে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে, যা ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচনের স্বচ্ছতা ও ন্যায়সংগত প্রতিযোগিতার জন্য অপরিহার্য।
তবে স্থানীয় রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা মনে করেন, সতর্কবার্তার পাশাপাশি প্রশাসনিক তদারকি আরও জোরদার করতে হবে যাতে নির্বাচন প্রক্রিয়া সর্বোচ্চ স্বচ্ছতা বজায় রাখে। লঙ্ঘনকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ ভোটারদের আস্থা পুনরুদ্ধারে সহায়ক হবে এবং প্রতিটি প্রার্থীকে আইনের অধীনে প্রতিযোগিতার সুযোগ নিশ্চিত করবে।