খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: সোমবার, ৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
নাটোরের গুরুদাসপুরে আগুনে পুড়ে মা ও মেয়ের মর্মান্তিক মৃত্যু ঘটেছে। এ ঘটনায় আরও একজন গুরুতর দগ্ধ অবস্থায় উদ্ধার হয়েছেন। প্রাথমিক ধারণা অনুযায়ী, বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিট থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়েছে।
সোমবার (৯ ফেব্রুয়ারি) ভোর ৩টা ৪০ মিনিটে উপজেলার ধারাবারিষা ইউনিয়নের ঝাউপাড়া বিন্নাবাড়ী এলাকায় এ দুঃখজনক ঘটনা ঘটে। নিহতরা হলেন স্থানীয় কৃষক রান্টুর স্ত্রী আতিয়া (২৮) এবং তাদের এক বছর বয়সী মেয়ে রওজা। একই ঘটনায় রান্টুর মা মর্জিনা বেগম গুরুতর দগ্ধ হন এবং বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
স্থানীয়দের এবং ফায়ার সার্ভিসের তথ্য অনুযায়ী, রান্টুর বাড়ির মোট চারটি বসতঘর এবং পাশের একটি মুদিদোকান আগুনে সম্পূর্ণ পুড়ে গেছে। এছাড়া অগ্নিকাণ্ডে তাদের ১২টি ছাগলও মারা গেছে। স্থানীয়দের ধারণা অনুযায়ী, এতে প্রায় ১০ থেকে ১২ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।
গুরুদাসপুর ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন অফিসার আতাউর রহমান বলেন, “ভোর ৪টা ৪৫ মিনিটে আমরা অগ্নিকাণ্ডের খবর পাই। খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা হয়। তবে এর আগে মা ও মেয়ের মৃত্যু ঘটে গেছে।” তিনি আরও জানান, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিট থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়েছে।
অগ্নিকাণ্ডের প্রাথমিক তথ্য ও ক্ষয়ক্ষতির হিসাব নিম্নে দেওয়া হলো:
| ক্ষতিগ্রস্ত স্থান ও বস্তু | সংখ্যা | আনুমানিক ক্ষয়ক্ষতি (টাকা) |
|---|---|---|
| বসতঘর | ৪ | ৫–৬ লাখ |
| মুদিদোকান | ১ | ৩–৪ লাখ |
| ছাগল | ১২ | প্রায় ৫০ হাজার |
| মোট | – | ১০–১২ লাখ |
স্থানীয়রা জানিয়েছেন, ঝাউপাড়া বিন্নাবাড়ীর বাসিন্দারা দগ্ধদের উদ্ধারে এবং আগুন নিয়ন্ত্রণে দ্রুত কাজ করেছেন। তাদের সহায়তায় ফায়ার সার্ভিস আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হয়। তবে এরকম দুঃখজনক ঘটনার পুনরাবৃত্তি না ঘটানোর জন্য বৈদ্যুতিক ব্যবস্থা ও নিরাপত্তা ব্যবস্থার তদারকি জরুরি বলে মনে করছেন এলাকার মানুষরা।
এই মর্মান্তিক ঘটনা স্থানীয় সমাজে শোকের ছাপ ফেলেছে। কর্তৃপক্ষও ভুক্তভোগীদের জন্য জরুরি সহায়তা প্রদানের ব্যবস্থা করছে এবং ঘটনার সঠিক কারণ নির্ণয়ের জন্য তদন্ত শুরু করেছে।