খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: সোমবার, ৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
ভারত ফ্রান্সের সঙ্গে একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতিরক্ষা চুক্তির মাধ্যমে ১১৪টি রাফাল যুদ্ধবিমান কেনার প্রক্রিয়া শুরু করেছে। এ সংক্রান্ত প্রাথমিক বাজেট ধরা হয়েছে ৩.২৫ লাখ কোটি রুপির বেশি। সূত্রের বরাতে জানা গেছে, এই বৃহৎ ডিফেন্স প্রকল্পের সব আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম শেষ হবে ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ-এর ভারতের সফরের আগে।
ভারতে আগামী ১৮ থেকে ২০ ফেব্রুয়ারি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স)-ভিত্তিক আন্তর্জাতিক সম্মেলন অনুষ্ঠিত হবে। এই সম্মেলনে অংশ নিতে ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ আসবেন। প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের সূত্র জানায়, ম্যাক্রোঁ-এর আগমনের আগে রাফাল বিমান ক্রয় সংক্রান্ত চূড়ান্ত প্রস্তাবনা ও ডকুমেন্টেশন সম্পন্ন করার লক্ষ্য রয়েছে।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সমরাস্ত্র ক্রয় বিষয়ক অঙ্গসংস্থা, ডিফেন্স অ্যাকুইজিশন কাউন্সিল (ডিএকে), আগামী সপ্তাহে একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক করবে। ওই বৈঠকে চেয়ারম্যান হিসেবে উপস্থিত থাকবেন প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং। বৈঠকে চূড়ান্ত দিকনির্দেশনা এবং সময়সূচি নির্ধারণ করা হবে।
প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের সূত্রে জানা গেছে, মোট ১১৪টি রাফাল বিমানের মধ্যে ১৮টি প্রস্তুত অবস্থায় (ফ্লাইং কন্ডিশন) সরাসরি ফ্রান্স থেকে ভারত পাবে, বাকি বিমানগুলি ভারতের মধ্যে তৈরি হবে। এই বিমানগুলিতে ভারতের প্রযুক্তিগত অবদানও থাকবে। ১১৪টির মধ্যে ৮৮টি একসিটের এবং ২৬টি দু’সিটের।
ফ্রান্সের তৈরি রাফাল যুদ্ধবিমান বিশ্বমানের আধুনিক বিমানগুলোর মধ্যে অন্যতম। এটি সর্বোচ্চ ৩,৭০০ কিমি/ঘণ্টা গতিতে চলতে সক্ষম এবং সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে ৫০,০০০ ফুট পর্যন্ত উড়তে পারে। রাফালে একসঙ্গে বিভিন্ন ধরনের ক্ষেপণাস্ত্র, ভারী মেশিনগান এবং আধুনিক সেন্সর বহন করতে সক্ষম, যা যেকোনো সামরিক অপারেশনে কার্যকর।
২০১২ সালে ভারত প্রথম রাফাল চুক্তি কার্যকর করে। এরপর ২০২০ সালের জুলাই থেকে পর্যায়ক্রমে ৩৬টি রাফাল বিমান ভারতে পৌঁছেছে। এর মধ্যে ৮টি দু’আসনবিশিষ্ট প্রশিক্ষণ বিমান অন্তর্ভুক্ত।
নীচের টেবিলে সম্প্রতি কেনা এবং আসা রাফাল বিমানের সংখ্যা প্রদর্শিত হলো:
| বিমান ধরন | সংখ্যা | মন্তব্য |
|---|---|---|
| একসিটের ফ্লাইং কন্ডিশন | ৮৮ | একক পাইলট বসার ব্যবস্থা |
| দু’সিটের ফ্লাইং কন্ডিশন | ২৬ | প্রশিক্ষণ ও কম্ব্যাট ব্যবহার |
| ইতোমধ্যে পৌঁছানো বিমান | ৩৬ | এর মধ্যে ৮টি দু’আসনবিশিষ্ট |
ভারতের এই রাফাল প্রকল্প শুধু বিমান বাহিনীর সক্ষমতা বৃদ্ধি করবে না, বরং দেশে অগ্রাধিকারভিত্তিক প্রযুক্তি ও প্রতিরক্ষা শিল্পের জন্যও বড় ধাক্কা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।