খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: রবিবার, ১৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়া উপজেলায় যুবদল নেতার ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনায় জামায়াত ইসলামীর দুই স্থানীয় নেতা গ্রেপ্তার হয়েছেন। উল্লাপাড়া থানার ওসি সাকিউল আজম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
গ্রেপ্তাররা হলেন:
আব্দুল আলিম সরদার, উধুনিয়া ইউনিয়ন জামায়াতের আমির
আব্দুল কাদের খন্দকার, উধুনিয়া ইউনিয়ন জামায়াতের সেক্রেটারি
ঘটনার সূত্রপাত ঘটে শুক্রবার ভোরে, যখন উধুনিয়া ইউনিয়ন যুবদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আব্দুল লতিফ এর গজাইল বাজারের দোকানে হামলা চালানো হয়। হামলাকারীরা দোকানটি ভাঙচুর করে নগদ টাকা লুট করার অভিযোগ উঠেছে। এই ঘটনায় লতিফ উল্লাপাড়া মডেল থানায় ১০ থেকে ১২ জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন।
মামলার বিবরণ অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার সংসদ নির্বাচনে সিরাজগঞ্জ-৪ আসনে জামায়াত ইসলামের মনোনীত প্রার্থী রফিকুল ইসলাম খান জয়লাভ করেন। এর প্রেক্ষিতে ‘পূর্বশক্রতার জের’ হিসেবে হামলাটি সংঘটিত হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। হামলাকারীরা দোকানটি ভেঙে ফেলে, অগ্নিপর্যাপ্ত না হলেও নগদ অর্থসহ কিছু মূল্যবান জিনিস লুট করে নেয়।
উল্লাপাড়া থানার ওসি সাকিউল আজম বলেন, “শনিবার সন্ধ্যায় উধুনিয়া ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে দুই প্রধানকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। রোববার সকালে তাদের আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে। পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখছে এবং বাকিদের ধরতে অভিযান অব্যাহত আছে।”
| ঘটনা | বিবরণ |
|---|---|
| আক্রান্ত ব্যক্তি | আব্দুল লতিফ, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক, উধুনিয়া ইউনিয়ন যুবদল |
| হামলাকারী | উধুনিয়া ইউনিয়ন জামায়াতের নেতাকর্মীরা |
| গ্রেপ্তারকৃত | আব্দুল আলিম সরদার (আমির), আব্দুল কাদের খন্দকার (সেক্রেটারি) |
| স্থান | গজাইল বাজার, উল্লাপাড়া, সিরাজগঞ্জ |
| সময় | শুক্রবার ভোর, নির্বাচন পরবর্তী দিন |
| ঘটনা কারণ | সংসদ নির্বাচনের ফলাফলের কারণে পূর্বশক্রতা |
| পুলিশ অভিযান | শনিবার সন্ধ্যায়, গ্রেপ্তার রোববার আদালতে প্রেরণ |
স্থানীয়রা জানায়, এই হামলার কারণে বাজারের ব্যবসা ও সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা বিঘ্নিত হয়েছে। নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে থানা এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। পুলিশও ব্যবসায়ীদের নিরাপত্তা এবং ভবিষ্যতে এমন ঘটনা রোধে সতর্ক অবস্থান নিয়েছে।
উল্লেখ্য, উল্লাপাড়া উপজেলার রাজনৈতিক উত্তেজনা নির্বাচনের আগে থেকেই তীব্র ছিল। ভোট পরবর্তী দিনগুলিতে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে সহিংসতার ঘটনা নতুন নয়, তবে এই ধরনের সরাসরি হামলা জনমনে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে।
এই ঘটনায় স্থানীয় প্রশাসন ও পুলিশের কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ রাজনৈতিক সহিংসতা নিয়ন্ত্রণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।