খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: সোমবার, ১৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
ম্যানচেস্টার সিটির গোলপোস্টের নিচে নাটকীয় পরিবর্তন এবং ইতালীয় তারকা জিয়ানলুইজি ডনারুমার আকস্মিক আগমনে কোণঠাসা হয়ে পড়েছেন তরুণ গোলরক্ষক জেমস ট্র্যাফোর্ড। গত গ্রীষ্মে বার্নলি থেকে মোটা অঙ্কের বিনিময়ে ইতিহাদে ফেরার পর ট্র্যাফোর্ড আশা করেছিলেন তিনি পেপ গার্দিওলার প্রথম পছন্দ হবেন। তবে দলবদলের শেষ মুহূর্তে ডনারুমার অন্তর্ভুক্তি ট্র্যাফোর্ডের সেই স্বপ্নকে ফিকে করে দিয়েছে। বর্তমানে সাইডবেঞ্চে থাকা এই গোলরক্ষক আগামী গ্রীষ্মেই ক্লাব ছাড়ার ইঙ্গিত দিয়েছেন।
২০২৪ সালের ৩১ জুলাই জেমস ট্র্যাফোর্ডকে ৩১ মিলিয়ন পাউন্ডের বিনিময়ে বার্নলি থেকে পুনরায় দলে ভেড়ায় ম্যানচেস্টার সিটি। ২০১২ সালে মাত্র ১২ বছর বয়সে সিটির একাডেমিতে যোগ দেওয়া এই গোলরক্ষকের জন্য এটি ছিল ঘরের মাঠে বড় প্রত্যাবর্তন। আগস্টে প্রিমিয়ার লিগের প্রথম তিনটি ম্যাচে তিনি শুরুর একাদশে ছিলেন এবং চমৎকার নৈপুণ্য প্রদর্শন করেছিলেন। তবে ২ সেপ্টেম্বর দলবদলের বাজার বন্ধ হওয়ার ঠিক আগে সবাইকে চমকে দিয়ে পিএসজি থেকে ২৬ মিলিয়ন পাউন্ডের বিনিময়ে ডনারুমাকে চুক্তিবদ্ধ করেন গার্দিওলা। এরপর থেকেই সিটির প্রধান গোলরক্ষকের জায়গাটি দখল করে নেন ইতালীয় এই তারকা।
চলতি মৌসুমে ট্র্যাফোর্ডের ম্যাচ খেলার সুযোগ অত্যন্ত সীমিত হয়ে পড়েছে। প্রিমিয়ার লিগের শুরুর তিনটি ম্যাচের পর তিনি আর লিগ ম্যাচে সুযোগ পাননি। কাপ টুর্নামেন্টগুলোই এখন তাঁর একমাত্র ভরসা। নিচে তাঁর এই মৌসুমের উপস্থিতির একটি চিত্র তুলে ধরা হলো:
টেবিল: ২০২৫-২৬ মৌসুমে জেমস ট্র্যাফোর্ডের পারফরম্যান্স পরিসংখ্যান
| প্রতিযোগিতার নাম | ম্যাচ সংখ্যা | ভূমিকা |
| প্রিমিয়ার লিগ (আগস্ট) | ০৩ | মূল গোলরক্ষক |
| এফএ কাপ | ০৩ | বিকল্প গোলরক্ষক |
| কারাবাও কাপ | ০৩ | বিকল্প গোলরক্ষক |
| চ্যাম্পিয়ন্স লিগ | ০২ | বিকল্প গোলরক্ষক |
| মোট | ১১ | – |
এফএ কাপের চতুর্থ রাউন্ডে স্যালফোর্ডের বিপক্ষে ২-০ ব্যবধানে জয়ের পর সাংবাদিকদের মুখোমুখি হন ট্র্যাফোর্ড। ডনারুমার আগমন সম্পর্কে তিনি বলেন, “পরিস্থিতিটি এমন হবে তা আমি আশা করিনি। তবে ফুটবল এমনই, এখানে প্রতিদিন কঠোর পরিশ্রম করে যেতে হয়। আমি বর্তমানে প্রতিটি দিনকে সুযোগ হিসেবে দেখছি এবং নিজের সেরাটা দেওয়ার চেষ্টা করছি।” যদিও তাঁর সাথে পাঁচ বছরের দীর্ঘমেয়াদি চুক্তি রয়েছে, তবে আগামী মৌসুমে তিনি ক্লাবে থাকবেন কি না, তা নিয়ে স্পষ্ট সংশয় প্রকাশ করেছেন। তিনি বলেন, “ভবিষ্যতে কী ঘটবে কেউ জানে না। আমি আপাতত দিনপ্রতি উন্নতির দিকে মনোযোগ দিচ্ছি।”
ইংল্যান্ডের অন্তর্বর্তীকালীন কোচ টমাস টুখেলের নজরে থাকলেও নিয়মিত খেলার সুযোগ না পাওয়ায় জাতীয় দলে ট্র্যাফোর্ডের অবস্থান কিছুটা নড়বড়ে। নভেম্বরে নিক পোপের ইনজুরির কারণে তিনি দলে ডাক পেয়েছিলেন, কিন্তু আগামী জুনে অনুষ্ঠিতব্য বিশ্বকাপ স্কোয়াডে জায়গা হবে কি না, তা নিয়ে কোচের সাথে কোনো আলোচনা হয়নি। ট্র্যাফোর্ড মনে করেন, ডনারুমার ছায়ায় থেকে ম্যাচ খেলার পর্যাপ্ত সুযোগ না পেলে জাতীয় দলের হয়ে বড় টুর্নামেন্টে যাওয়া কঠিন হতে পারে।
সব মিলিয়ে, সিটির একাডেমি থেকে উঠে আসা এই প্রতিভাবান গোলরক্ষক এখন ক্যারিয়ারের এক সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে। নিয়মিত খেলার সুযোগ না পেলে ইতিহাদের মায়া কাটিয়ে অন্য কোনো ক্লাবে পাড়ি জমানো এখন তাঁর জন্য সময়ের ব্যাপার মাত্র।