খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: মঙ্গলবার, ১৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
ফুটবল মাঠে যেখানে একসময় প্রতিপক্ষের গোলরক্ষার দায়িত্বে ছিলেন, আজ সেই আমিনুল হক দেশের ক্রীড়াঙ্গনের সর্বোচ্চ দায়িত্বে দাঁড়িয়েছেন। দীর্ঘ জল্পনা ও রাজনৈতিক ওঠাপড়ার পর তিনি ‘টেকনোক্র্যাট কোটায়’ যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন। বাংলাদেশে খেলোয়াড় থেকে মন্ত্রিপদে ওঠার নজির নতুন নয়; এর আগে মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ এবং আরিফ খান জয়ও একই পথ অতিক্রম করেছিলেন।
ভোলার ছেলে আমিনুল বড় হয়েছেন ঢাকার মিরপুরে। বড় ভাই মঈনুল হক ছিলেন তাঁর প্রথম ফুটবল শিক্ষক। কিশোর বয়সে পাইওনিয়ার লিগের এমএসপিসি সিটি ক্লাব থেকে হাতে পাওয়া প্রথম অর্থ—১৫০ টাকা—তাঁর খেলাধুলার প্রতিভা আরও দৃঢ় করেছিল।
নব্বইয়ের দশকে ঢাকার পাইওনিয়ার লিগে প্রথম ৯ ম্যাচে কোনো গোল হজম না করা এবং পরবর্তীতে মোহামেডান স্পোর্টিং ক্লাব ও ফরাশগঞ্জ এসসি তে খেলা তাঁকে দ্রুত জাতীয় পর্যায়ে পরিচিত করেছিল।
| বছর | ক্লাব | গুরুত্বপূর্ণ অর্জন/পর্যায় |
|---|---|---|
| ১৯৯৬ | ফরাশগঞ্জ এসসি | প্রিমিয়ার লিগে ষষ্ঠ, অবনমন এড়ানো |
| ১৯৯৭–২০১৩ | মুক্তিযোদ্ধা সংসদ ক্রীড়া চক্র | বহু ট্রফি জয়, দলকে নেতৃত্ব দেওয়া |
| ২০০৯ | মোহামেডান স্পোর্টিং ক্লাব | প্রথম সুপার কাপ বিজয়, সেরা গোলরক্ষক পুরস্কার |
| অন্যান্য | আবাহনী, মোহামেডান, শেখ জামাল | সমর্থকদের মধ্যে আস্থা বৃদ্ধি, গুরুত্বপূর্ণ খেলা রক্ষা |
জাতীয় দলে অভিষেক ১৯৯৮ সালে কাতারের বিপক্ষে প্রীতি ম্যাচে। দীর্ঘ সময় ২০১১ পর্যন্ত খেলেছেন, চোট ছাড়া কখনো বসেননি। বিশেষ করে ২০০৩ সালের সাফ চ্যাম্পিয়নশিপ-এ মালদ্বীপের বিপক্ষে টাইব্রেকার রুখে জাতীয় নায়ক হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেন।
| বছর | টুর্নামেন্ট | ফলাফল |
|---|---|---|
| ২০০১ | বিশ্বকাপ বাছাই (দাম্মাম) | ভিয়েতনামকে ড্র, মঙ্গোলিয়াকে জয়, সৌদি আরবের কাছে ০-৩ হার |
| ২০১০ | এসএ গেমস (U-23) | স্বর্ণপদক, টুর্নামেন্টে কোনো গোল হজম হয়নি |
ঢাকার ক্লাববদলেও আমিনুলকে ঘিরে নাটক কম হয়নি। ২০০৩ সালে আবাহনী-মুক্তিযোদ্ধা সংঘর্ষে ১২ দিন লুকিয়ে রাখতে হয় তাঁকে, পরে নিজে পালিয়ে মুক্তিযোদ্ধা সংসদে হাজির হন।
অবসর পর, আমিনুল রাজনীতির ময়দানে প্রবেশ করেন। বিএনপি’র সক্রিয় সদস্য হিসেবে তিনি রাজপথে নেমেও দেশের ক্রীড়াঙ্গনের উন্নয়নের জন্য কাজ করতে শুরু করেছেন। যদিও অতীতের রাজনৈতিক হয়রানি এবং নির্বাচন ব্যর্থতা তাঁর পথে বাধা হয়ে দাঁড়ায়, তবুও নতুন সরকারের সিদ্ধান্তে যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন।
ফুটবল মাঠে যেখানে কোনো বলকে জালে ঢুকতে দেননি, সেখানে দেশের ক্রীড়াঙ্গনেও আমিনুল হক কোনো ‘অনিয়মের গোল’ হতে দেবেন না—এই প্রত্যাশা সমর্থক ও ক্রীড়াপ্রেমীদের।