খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: বুধবার, ১৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে এক নতুন দিগন্তের সূচনা করে গঠিত হয়েছে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের নতুন মন্ত্রিসভা। মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬) বিকেলে বঙ্গভবনের দরবার হলে আয়োজিত এক জমকালো অনুষ্ঠানের মাধ্যমে ২৫ জন পূর্ণমন্ত্রী এবং ২৩ জন প্রতিমন্ত্রী শপথ গ্রহণ করেন। এই মন্ত্রিসভার সবচেয়ে আলোচিত বিষয়গুলোর মধ্যে অন্যতম হলো ঢাকা-১০ আসনের নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য শেখ রবিউল আলম রবি-এর তিনটি গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব প্রাপ্তি। তাঁরুণ্য ও অভিজ্ঞতার সমন্বয়ে গঠিত এই সরকারে তাঁকে দেশের যোগাযোগ খাতের মেরুদণ্ড হিসেবে বিবেচিত তিনটি দপ্তরের ভার প্রদান করা হয়েছে।
৪৮ বছর বয়সি শেখ রবিউল আলম রবিকে একযোগে সড়ক পরিবহণ ও সেতু মন্ত্রণালয়, রেলপথ মন্ত্রণালয় এবং নৌ-পরিবহণ মন্ত্রণালয়-এর দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। দেশের অবকাঠামোগত উন্নয়ন এবং যোগাযোগ ব্যবস্থার আমূল পরিবর্তনের লক্ষ্যে এই তিনটি মন্ত্রণালয়ের সমন্বয় অত্যন্ত জরুরি।
গত ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত নির্বাচনে ঢাকা-১০ (ধানমন্ডি, কলাবাগান ও নিউমার্কেট) আসন থেকে তিনি হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের পর বিজয়ী হন। তাঁর নির্বাচনী ফলাফলের সংক্ষিপ্ত চিত্র নিচে দেওয়া হলো:
| প্রার্থীর নাম | রাজনৈতিক দল | প্রতীক | প্রাপ্ত ভোট |
| শেখ রবিউল আলম | বিএনপি | ধানের শীষ | ৮০,৪৩৬ |
| জসীম উদ্দিন সরকার | জামায়াতে ইসলামী | দাঁড়িপাল্লা | ৭৭,১৩৬ |
| ভোটের ব্যবধান | — | — | ৩,৩০০ |
শেখ রবিউল আলম রবি মাঠপর্যায়ের রাজনীতি থেকে উঠে আসা একজন দক্ষ সংগঠক। বর্তমানে তিনি বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য এবং ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করছেন। দীর্ঘদিন ধানমন্ডি থানা বিএনপির সভাপতির দায়িত্ব পালনকালে তিনি স্থানীয় মানুষের মাঝে গভীর গ্রহণযোগ্যতা তৈরি করেছেন। রাজপথের আন্দোলনে তাঁর সক্রিয় ভূমিকা এবং সাংগঠনিক দক্ষতার পুরস্কার স্বরূপ দল তাঁকে এই গুরুদায়িত্ব অর্পণ করেছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
তারেক রহমানের নেতৃত্বে গঠিত এই মন্ত্রিসভায় অভিজ্ঞ রাজনীতিকদের পাশাপাশি নাগরিক সমাজের প্রতিনিধি এবং তরুণ নেতৃত্বের এক অনন্য সমন্বয় দেখা গেছে।
মন্ত্রিসভার কাঠামো:
পূর্ণমন্ত্রী: ২৫ জন (মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, সালাহউদ্দিন আহমদসহ অন্যান্য)।
প্রতিমন্ত্রী: ২৩ জন (অনিন্দ্য ইসলাম অমিত, শামা ওবায়েদ, জোনায়েদ সাকি, নুরুল হক নুরসহ অন্যান্য)।
বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য যে, এই মন্ত্রিসভায় গণতন্ত্র মঞ্চের নেতা জোনায়েদ সাকি এবং গণ-অধিকার পরিষদের নুরুল হক নুর (ভিপি নুর)-এর মতো ভিন্ন রাজনৈতিক ধারার তরুণ নেতাদের অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে, যা জাতীয় ঐক্যের একটি বার্তা বহন করে।
শেখ রবিউল আলমের অধীনে থাকা তিনটি মন্ত্রণালয় সরাসরি দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির সাথে যুক্ত। বিশেষ করে সড়ক ও সেতু মন্ত্রণালয়ের অধীনে চলমান মেগা প্রকল্পগুলোর সমাপ্তি, রেলওয়ের আধুনিকায়ন এবং নৌ-পথের নাব্যতা রক্ষা তাঁর জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াবে। শপথ গ্রহণের পর এক প্রতিক্রিয়ায় তিনি জানান, জনগণের ভোগান্তি লাঘবে দ্রুত যোগাযোগ ব্যবস্থার সংস্কার এবং দুর্নীতির মূলোৎপাটনই হবে তাঁর প্রাথমিক লক্ষ্য।