মুন্সীগঞ্জের গজারিয়ায় এক দীর্ঘদিনের তাণ্ডবকারী শীর্ষ সন্ত্রাসী সাজেদুল ইসলাম লালু ও তার তিন সহযোগীকে গ্রেপ্তার করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। অভিযানটি বুধবার (১৭ ডিসেম্বর) রাতে সম্পন্ন হয় এবং রাজধানী ঢাকা, নারায়ণগঞ্জ ও সোনারগাঁ এলাকায় বিস্তৃত খুঁজতে অভিযান পরিচালিত হয়। গ্রেপ্তার করা হয় হাতিরঝিল, ঢাকা, সিদ্ধিরগঞ্জ, নারায়ণগঞ্জ এবং কাঁচপুর বালুর মাঠ, সোনারগাঁ থানার এলাকা থেকে। এই অভিযান মূলত দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড ও হত্যার অভিযোগে লালু ও তার সহযোগীদের উপর নজরদারির ফল। গজারিয়া থানার ওসি মো. হাসান আলী সংবাদে জানান, “লালু গজারিয়ার ইমামপুর ইউনিয়নের হোগলাকান্দী গ্রামের বাসিন্দা। তার বিরুদ্ধে হত্যাসহ ২৩টি মামলা রয়েছে। বিশেষ করে গজারিয়ার আলোচিত হত্যাকাণ্ড—শুটার মান্নান হত্যা, হৃদয় বাঘ হত্যা, এবং জহিরুল ইসলাম জয় হত্যা—এগুলোর এজাহারনামীয় আসামি তিনি।” ওসি আরও জানান, জহিরুল ইসলাম জয় হত্যা মামলার অপর তিনজন আসামিও ধৃত হয়েছেন। তারা হলেন: আলাউদ্দিন (৬৫) – পিতা শাকিল (২৩) – ছেলে জসিম (৪৫) – ভাই তিনজনই বাউশিয়া ইউনিয়নের চৌদ্দকাহনিয়া গ্রামের বাসিন্দা। তাদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। গ্রেপ্তারকৃতদের তথ্য সংক্ষিপ্ত টেবিল: নাম বয়স ঠিকানা অভিযোগ গ্রেপ্তার এলাকা সাজেদুল ইসলাম লালু অজানা হোগলাকান্দী, ইমামপুর, গজারিয়া ২৩ মামলা, হত্যাসহ সন্ত্রাসী কার্যকলাপ হাতিরঝিল, ঢাকা; সিদ্ধিরগঞ্জ, নারায়ণগঞ্জ; কাঁচপুর বালুর মাঠ, সোনারগাঁ আলাউদ্দিন ৬৫ চৌদ্দকাহনিয়া, বাউশিয়া জহিরুল ইসলাম জয় হত্যা কাঁচপুর বালুর মাঠ, সোনারগাঁ শাকিল ২৩ চৌদ্দকাহনিয়া, বাউশিয়া জহিরুল ইসলাম জয় হত্যা কাঁচপুর বালুর মাঠ, সোনারগাঁ জসিম ৪৫ চৌদ্দকাহনিয়া, বাউশিয়া জহিরুল ইসলাম জয় হত্যা কাঁচপুর বালুর মাঠ, সোনারগাঁ ওসি হাসান আলী আরও বলেন, “গ্রেপ্তারকৃতরা দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় ভীতির বীজ বোনে আসছিল। তাদের গ্রেপ্তারের মাধ্যমে গজারিয়া ও আশপাশের এলাকায় সন্ত্রাস নির্মূল এবং সাধারণ জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।” পুলিশ জানিয়েছে, গ্রেপ্তারকৃতদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা দ্রুত গ্রহণ করা হবে। স্থানীয়রা গ্রেপ্তারের খবরকে স্বস্তিদায়ক বলে মন্তব্য করেছেন, কারণ দীর্ঘদিন ধরে লালু ও তার সহযোগীরা এলাকায় জনসাধারণের নিরাপত্তাকে হুমকির মুখে ফেলছিল।
Read more