খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ১৮ ডিসেম্বর ২০২৫
কুমিল্লায় পরিবহণ সমস্যাকে কেন্দ্র করে নতুন সংকট তৈরি হয়েছে। শহরের বাস মালিকদের বৃহৎ সংগঠন কুমিল্লা বাস মালিক সমিতি বৃহস্পতিবার থেকে নগরীর প্রায় ৪০টি সড়কে বাস চলাচল বন্ধ রাখার হুঁশিয়ারি দিয়েছে। সংগঠনটি জানিয়েছে, যদি তাদের দাবি না মানা হয়, তবে ধর্মঘট কার্যকর হবে এবং শহরের তিনটি প্রধান বাস স্টেশন থেকে কোনো বাস ছাড়বে না।
ধর্মঘটের মূল কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে আইদি পরিবহণ। জাঙ্গালিয়া বাস টার্মিনাল থেকে কুমিল্লা-চাঁদপুর রুটে তাদের সার্ভিস বন্ধ রাখার দাবি তুলে পরিবহণ মালিকরা কঠোর অবস্থান নিয়েছেন।
পরিবহণ নেতাদের তথ্য অনুযায়ী, কুমিল্লার জাঙ্গালিয়া, শাসনগাছা ও চকবাজার বাস টার্মিনাল থেকে চট্টগ্রাম, সিলেট, ঢাকা, চাঁদপুরসহ অভ্যন্তরীণ প্রায় ৪০টি রুটে কয়েক হাজার বাস ও মিনিবাস চলাচল করে।
| বিষয় | বিবরণ |
| পরিবহণ প্রতিষ্ঠান | আইদি পরিবহণ |
| রুট | কুমিল্লা–চাঁদপুর |
| অনুমতি | চাঁদপুর জেলা প্রশাসক থেকে অনুমোদিত; কুমিল্লা থেকে রুট পারমিট নেই |
| চলাচল পরিবর্তন | ফেব্রুয়ারি থেকে জাঙ্গালিয়া বাস টার্মিনাল বন্ধ, পদুয়ারবাজার থেকে সার্ভিস চালু |
| সাম্প্রতিক ঘটনা | ১৬ ডিসেম্বর কিছু বাস জাঙ্গালিয়া টার্মিনালে আনা হলে শ্রমিক নেতারা বাধা দেন; ধর্মঘটের হুমকি |
আইদি পরিবহণের চেয়ারম্যান মীর পারভেজ আলম অভিযোগ করেছেন, “চাঁদপুর জেলা প্রশাসক থেকে অনুমতি পেয়েও কুমিল্লা বাস মালিক গ্রুপ শুরু থেকেই আমাদের বাধা দিয়েছে। জেলা প্রশাসন রুট পারমিট না দেয়ায় আমাদের বাধ্য হয়ে পদুয়ারবাজার থেকে বাস সার্ভিস চালাতে হয়েছে। আইনি কোনো বাধা না থাকলেও অনাপত্তিপত্র দেওয়া হচ্ছে না।”
বাস মালিক সমিতির অবস্থান:
কার্যকরী সভাপতি মো. তাজুল ইসলাম বলেন, “আইদি পরিবহণ চাঁদপুর থেকে পারমিট পেলেও কুমিল্লা থেকে রুট-পারমিট পায়নি। এরপরও তারা বাস টার্মিনাল ব্যবহার করতে চায়। যদি বৃহস্পতিবার বাস টার্মিনালে আনা হয়, শহরের তিনটি স্টেশন থেকে কোনো বাস ছাড়বে না। আমরা জেলা প্রশাসকের সঙ্গে পরিস্থিতি জানিয়েছি।”
অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ জাফর সাদিক জানিয়েছেন, “আমরা দুইপক্ষের সঙ্গে কথা বলেছি। পরিবহণ নেতাদের একটিই দাবি, আইদি পরিবহণের বাস জাঙ্গালিয়া বাস টার্মিনালে ঢুকতে পারবে না। আমরা বিকল্পভাবে পদুয়ারবাজার থেকে বাস চালানোর নির্দেশ দিয়েছি। আদেশ না মানলে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
শহরের প্রায় ৪০টি সড়কে বাস চলাচল বন্ধ হলে প্রতিদিনের যাত্রী চলাচলে বিশাল সমস্যার সৃষ্টি হতে পারে। জেলা প্রশাসন দুইপক্ষের সঙ্গে সমন্বয় করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখার চেষ্টা করছে।