কবি মাহবুবউল আলম চৌধুরী

“কাঁদতে আসিনি, ফাঁসির দাবি নিয়ে এসেছি”—

যে কবিতায় একুশের আর্তি ও প্রতিবাদের জাগরণ

 

আজ কবি মাহবুব উল আলম চৌধুরী–এর প্রয়াণ দিবস।

ভাষা আন্দোলনের প্রথম ও সর্বাধিক আলোচিত কবিতা “কাঁদতে আসিনি, ফাঁসির দাবি নিয়ে এসেছি”–এর রচয়িতা তিনি—একজন অকৃত্রিম দেশপ্রেমিক, বিপ্লবী সাহিত্যিক ও মানবতাবাদী চিন্তক।

 

তিনি জন্মগ্রহণ করেন ১৯২৭ সালের ৭ নভেম্বর, চট্টগ্রাম জেলার পাটুয়া পাড়া মহল্লার এক শিক্ষানুরাগী পরিবারে।

শৈশব থেকেই তিনি সাহিত্য, সংস্কৃতি ও রাজনীতির প্রতি গভীর অনুরাগী ছিলেন। চট্টগ্রাম কলেজে অধ্যয়নকালেই যুক্ত হন ছাত্র ইউনিয়ন ও প্রগতিশীল সাংস্কৃতিক আন্দোলন–এর সঙ্গে।

 

১৯৪৮ সালে বাংলা ভাষার ওপর পাকিস্তান সরকারের আক্রমণ তাঁকে গভীরভাবে আলোড়িত করে। ১৯৫২ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি ঢাকায় ছাত্রদের রক্তে রঞ্জিত হয় রাজপথ। সেই রক্তের আহ্বানে প্রজ্বলিত হয়ে মাত্র কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই তিনি রচনা করেন ইতিহাসের অমর কবিতা

 

> “কাঁদতে আসিনি, ফাঁসির দাবি নিয়ে এসেছি।”

 

 

 

এটি ভাষা আন্দোলনের প্রথম প্রতিক্রিয়াশীল কবিতা,

যা পরবর্তীকালে পুরো জাতিকে প্রতিবাদের আগুনে উজ্জীবিত করেছিল।

কবিতাটি প্রথমে মুদ্রিত হয় চট্টগ্রামের “চট্টগ্রাম ছাত্রলীগ বুলেটিনে” এবং পরে বিভিন্ন পত্রিকা ও মঞ্চে প্রচারিত হয়ে সারা বাংলায় ছড়িয়ে পড়ে।

 

সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক অবদান চোখে পড়ার মত।

 

মাহবুব উল আলম চৌধুরী ছিলেন শুধু কবি নন,

তিনি ছিলেন একজন সাংবাদিক, নাট্যকার, প্রাবন্ধিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠক।

তিনি চট্টগ্রাম সাংস্কৃতিক কেন্দ্র, জাতীয় কবিতা পরিষদ চট্টগ্রাম শাখা ও বাংলা ভাষা আন্দোলন সংগ্রাম পরিষদ–এর সংগঠক ছিলেন।

বাংলা সাহিত্যের মানবতাবাদী ধারা ও বঞ্চিত মানুষের কণ্ঠস্বর হয়ে ওঠেন তাঁর কবিতা ও লেখায়।

 

তাঁর প্রকাশিত গ্রন্থগুলির মধ্যে রয়েছে বেশ কিছু –

 

কাঁদতে আসিনি, ফাঁসির দাবি নিয়ে এসেছি (কাব্য)

 

চিরকালের বাংলাদেশ

 

সময়ের অগ্নিশিখা

 

স্বাধীনতার সংগ্রাম ও চট্টগ্রাম

 

স্মৃতি, ইতিহাস ও বঙ্গবন্ধু

 

 

তারঁ রাজনৈতিক ও সামাজিক ভূমিকা ছিলো অনেক সম্বৃদ্ধ।

 

মাহবুব উল আলম চৌধুরী ছিলেন একুশের চেতনায় উদ্বুদ্ধ প্রজন্মের প্রতিনিধি।

তিনি সাংস্কৃতিক মুক্তি ও ভাষার মর্যাদা প্রতিষ্ঠার সংগ্রামে আজীবন সক্রিয় ছিলেন।

স্বাধীনতা যুদ্ধের সময়ও তিনি মুক্তিকামী চেতনার পক্ষে প্রচারণায় ভূমিকা রাখেন।

 

তিনি ছিলেন বিনয়ী, সহজ ও মানবিক।

রাজনীতি ও সাহিত্য একসঙ্গে বহন করলেও কখনো প্রচারের আলোয় নিজেকে আনেননি।

তাঁর জীবনজুড়ে ছিল আদর্শের প্রতি অবিচল নিষ্ঠা।

 

বাংলা ভাষা ও সাহিত্যের এই প্রণম্য কবি ২০০৭ সালের ২৩ ডিসেম্বর পরলোকগমন করেন।

চট্টগ্রামের পটিয়ায় তাঁকে চিরনিদ্রায় শায়িত করা হয়।

 

শ্রদ্ধাঞ্জলি

 

> “তিনি কাঁদতে আসেননি,

এসেছিলেন রক্তের দায় নিয়ে, ভাষার দাবি নিয়ে।

একুশের প্রতিটি অক্ষরে আজও তাঁর কবিতা জেগে আছে।”

 

সালাম ও শ্রদ্ধা কবি মাহবুব উল আলম  চৌধুরীর স্মৃতির প্রতি –

যিনি আমাদের শিখিয়েছেন, কবিতা কেবল অনুভব নয়,

কবিতা হতে পারে ইতিহাস, প্রতিবাদ ও জাতির আত্মমর্যাদার ঘোষণা।

Tags :

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

সর্বশেষ খবর

খবরওয়ালা একটি বিশ্বস্ত অনলাইন নিউজ পোর্টাল, যেখানে বাংলাদেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ ও আপডেট প্রকাশ করা হয়। রাজনীতি, জাতীয় ও স্থানীয় সংবাদ, শিক্ষা, খেলাধুলা, ব্যবসা, বিনোদন ও আন্তর্জাতিক অঙ্গনের গুরুত্বপূর্ণ খবর নিয়ে পাঠকদের জন্য রয়েছে নির্ভরযোগ্য ও সময়োপযোগী সংবাদ পরিবেশন।

© ২০২৬ খবরওয়ালা। সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত।