খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: 23শে কার্তিক ১৪৩২ | ৭ই নভেম্বর ২০২৫ | 1150 Dhu al-Hijjah 5
সবজির অস্বাভাবিক দাম কিছুটা কমে বাজারে স্বস্তি ফিরলেও হঠাৎ পেঁয়াজের দাম বেড়ে সেই স্বস্তি ম্লান হয়ে গেছে। এক সপ্তাহের ব্যবধানে পেঁয়াজের দাম ৫০ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধি পেয়েছে। বর্তমানে প্রতি কেজি পেঁয়াজ ১১০ থেকে ১২০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
রাজধানীর খুচরা বাজারে এক মাসের ব্যবধানে সবজিসহ কয়েকটি পণ্যের দাম ৭ থেকে ২৩৩ শতাংশ পর্যন্ত কমেছে। তবে পেঁয়াজের অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি বাজারে নতুন উদ্বেগ তৈরি করেছে।
বাজার বিশ্লেষকরা মনে করছেন, পেঁয়াজের বাজারে বড় ধরনের কারসাজি শুরু হয়েছে। সরবরাহে তেমন ঘাটতি না থাকলেও একটি চক্র কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করে দাম বাড়াচ্ছে। তাঁরা বলছেন, সরকারকে দ্রুত বাজার তদারকি বাড়াতে হবে।
রাজধানীর রামপুরা, বাড্ডা, মহাখালী ও জোয়ার সাহারা এলাকার খুচরা বাজার ঘুরে দেখা গেছে, শীতকালীন আগাম সবজির প্রাচুর্যে বাজারে ইতিবাচক প্রভাব পড়েছে। ডিম, মুরগিসহ কিছু পণ্যের দামও কমেছে।
এক মাস আগে প্রতি কেজি শিমের দাম ছিল ২০০ থেকে ২২০ টাকা, যা এখন কমে ৬০ থেকে ৮০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। বেগুন, করলা, ঢেঁড়স, লাউ, পটোল, বরবটি ও কাঁচা মরিচসহ বেশ কিছু সবজির দামও কমেছে। কৃষকরা জানিয়েছেন, অনুকূল আবহাওয়ার কারণে উৎপাদন ও সরবরাহ বেড়েছে।
সবজি বিক্রেতা মো. মাহাদী হাসান গণমাধ্যমকে বলেন, ‘শীতকালীন সবজির সরবরাহ বাড়ায় সব ধরনের সবজির দাম কমে এসেছে।’
রামপুরার ক্রেতা লিজা আক্তার ও মো. ফিরোজ বলেন, ‘অনেক দিন পর মানুষ স্বস্তিতে সবজি কিনতে পারছে। তবে পেঁয়াজের দাম অস্বাভাবিকভাবে বাড়ায় সেই সাশ্রয় পুষিয়ে যাচ্ছে।’
ভোক্তা স্বার্থ সংরক্ষণে স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা ভোক্তার নির্বাহী পরিচালক মো. খলিলুর রহমান সজল গণমাধ্যমকে বলেন, ‘পেঁয়াজের দাম কেজিতে ৪০ টাকা পর্যন্ত বেড়ে যাওয়া অস্বাভাবিক। সরবরাহ সংকট দেখিয়ে সিন্ডিকেট মুনাফা লুটছে। সরকারকে তদারকি বাড়িয়ে প্রকৃত কারণ জানাতে হবে এবং দোষীদের আইনের আওতায় আনতে হবে।’
বিক্রেতারা বলছেন, দেশি পেঁয়াজের সরবরাহ কমে যাওয়ায় দাম বেড়েছে। তবে বাজার বিশ্লেষকদের দাবি, সরবরাহে তেমন ঘাটতি নেই, পুরনো সিন্ডিকেটই বাজার অস্থিতিশীল করছে।
কারওয়ান বাজারের আড়তদার মো. জালাল উদ্দিন বলেন, ‘দেশি পেঁয়াজের সরবরাহ সংকট দেখিয়ে দাম কেজিতে ৩৫ থেকে ৪০ টাকা পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে।’
পেঁয়াজ আমদানিকারক ও শ্যামবাজার পেঁয়াজ আড়তদার সমিতির সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ আব্দুল মাজেদ বলেন, ‘দেশে কৃষকের হাতে পেঁয়াজ নেই। ভারতে এখন পেঁয়াজের দাম প্রায় ১৫ টাকা কেজি। তাই বাজার স্থিতিশীল রাখতে দ্রুত আমদানি জরুরি।’
পাবনা ও রাজবাড়ীসহ উৎপাদন এলাকাতেও পেঁয়াজের দাম বেড়েছে। পাবনায় এক সপ্তাহে কেজিতে ৬০-৭০ টাকা থেকে বেড়ে ১০৫-১১০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। রাজবাড়ীতে পাইকারি বাজারে প্রতি মণ পেঁয়াজ ৩,৭০০ থেকে ৪,১০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে, যার প্রভাব পড়েছে খুচরা বাজারেও।
খবরওয়ালা/টিএসএন