কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলায় দীর্ঘদিনের বিরোধের জের ধরে দুই পক্ষের মধ্যে তুমুল গোলাগুলির ঘটনা ঘটেছে, যার ফলে তিনজন গুলিবিদ্ধ হয়ে আহত হয়েছেন। পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, পরিস্থিতি এখন নিয়ন্ত্রণে আনা হয়েছে।
ঘটনা সোমবার (১৬ ফেব্রুয়ারি) দুপুর ২টার দিকে ফিলিপনগর ইউনিয়নের পশ্চিম দক্ষিণ ফিলিপনগর গ্রামে সংঘটিত হয়। স্থানীয়রা জানান, দীর্ঘদিনের বিরোধ এবং পূর্বশত্রুতার জের ধরে দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। একপর্যায়ে তা রূপ নেয় খোলামেলা সংঘর্ষে এবং উভয় পক্ষ একে অপরকে লক্ষ্য করে গুলি চালায়। গুলির আওয়াজে পুরো এলাকা আতঙ্কে ফেলে।
গুলিবিদ্ধদের পরিচয়
গুলিবিদ্ধরা হলেন—
| নাম | বয়স | অবস্থান/সম্পর্ক |
|---|---|---|
| আনিচুর রহমান | ৫৫ | স্থানীয় বাসিন্দা |
| নবাব মাস্টার | – | স্থানীয় শিক্ষক |
| আশরাফুল ইসলাম | – | স্থানীয় বাসিন্দা |
প্রাথমিকভাবে স্থানীয়রা আহতদের উদ্ধার করে স্থানীয়ভাবে চিকিৎসা দেয়। পরে তাদের দৌলতপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়।
স্থানীয়রা অভিযোগ করেছেন, এর আগে আনিচুর রহমানের বাড়ির টিন চুরির ঘটনাকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে বিরোধের সূত্রপাত হয়। ওই ঘটনার প্রতিশোধ ও উত্তেজনার ফলেই এই গোলাগুলি সংঘটিত হয়।
ঘটনায় অভিযুক্তদের তথ্য
স্থানীয়দের বক্তব্য অনুযায়ী, এই সংঘর্ষে অন্তত ১২–১৩ জন ব্যক্তি জড়িত থাকতে পারেন। তাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য ব্যক্তিরা হলেন—
| নাম | পিতা/পরিচয় | বয়স |
|---|---|---|
| রিন্টু | ময়জুদ্দিন দফাদার | ২৬ |
| দোয়েল | সোহরাব | ২৫ |
| সিহাব | তুয়বুদ্দি | ৫০ |
| জালাল | – | – |
অজ্ঞাতনামা আরও ৮–১০ জনেরও এই ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগ উঠেছে। তবে অভিযুক্তদের বক্তব্য এখনও পাওয়া যায়নি।
পুলিশি ব্যবস্থা
দৌলতপুর থানার ওসি আরিফুর রহমান কালবেলায় জানান, “পূর্ব শত্রুতার জেরে গোলাগুলি হয়েছে। ঘটনাস্থলে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে এবং পরিস্থিতি বর্তমানে নিয়ন্ত্রণে আছে। এখন পর্যন্ত কাউকে গ্রেপ্তার করা যায়নি। লিখিত অভিযোগও দায়ের করা হয়নি। তদন্ত শেষে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
এই ঘটনা স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে এবং প্রশাসন সতর্কতার সঙ্গে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে। এলাকাবাসী আশা করছেন দ্রুত বিচার প্রক্রিয়ার মাধ্যমে উত্তেজনা শিথিল হবে এবং এমন ঘটনা পুনরায় ঘটবে না।
এই ঘটনা কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে প্রাচীনভাবে বিরোধপূর্ণ সম্পর্কের একটি উদাহরণ হিসেবে ধরা হচ্ছে, যেখানে সামান্য ঘটনার কারণে বড় ধরনের উত্তেজনা সৃষ্টি হতে পারে।



