নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জ উপজেলায় বোনের শ্বশুরবাড়ি থেকে নিজ বাড়িতে ফেরার পথে ১৫ বছর বয়সী এক কিশোরীকে তুলে নিয়ে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনার অভিযুক্ত মূল আসামি নাজিম উদ্দিনকে (২২) পুলিশ অভিযান চালিয়ে গ্রেফতার করেছে। ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে স্বজনদের দায়ের করা মামলার পর পরই থানা পুলিশ তাকে আইনের আওতায় আনে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র নিশ্চিত করেছে, পুলিশ রোববার (২ আগস্ট) রাতে বিশেষ অভিযান চালিয়ে অভিযুক্ত নাজিমকে গ্রেফতার করে। এর আগে একই দিন সকালে নির্যাতনের শিকার কিশোরীর মা বাদী হয়ে কোম্পানীগঞ্জ থানায় নাজিমকে একমাত্র আসামি করে একটি নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা দায়ের করেন। চাঞ্চল্যকর এই নির্যাতনের ঘটনাটি ঘটেছিল গত বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) উপজেলার চরএলাহী ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের অন্তর্গত দূরবর্তী চর বালুয়া এলাকায়। গ্রেফতার হওয়া নাজিম উদ্দিন ওই চর বালুয়া গ্রামের মো. অদনের ছেলে।
মামলার বিবরণ ও এজাহার সূত্রে জানা গেছে, ঘটনার দিন ওই কিশোরী একই এলাকায় অবস্থিত তার বড় বোনের শ্বশুরবাড়ি থেকে নিজের বাড়ির উদ্দেশ্যে রওয়ানা হয়েছিল। পথিমধ্যে আগে থেকেই নির্জন স্থানে ওঁত পেতে ছিল স্থানীয় যুবক নাজিম উদ্দিন। কিশোরীটি তার বাড়ির কাছাকাছি পৌঁছানো মাত্রই নাজিম তার ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। মেয়েটির মুখ ওড়না দিয়ে শক্ত করে পেঁচিয়ে কোনো প্রকার চিৎকার করার সুযোগ না দিয়ে টেনে-হেঁচড়ে রাস্তার পাশের একটি নির্জন ঝোপঝাড়ে নিয়ে যায়। সেখানে তাকে জোরপূর্বক ধর্ষণ করা হয়।
ঠিক সেই মুহূর্তে রাস্তা দিয়ে আমজাদ হোসেন নামের এক স্থানীয় বাসিন্দা যাওয়ার সময় বিষয়টি টের পান। তিনি সন্দেহজনক শব্দ পেয়ে ঘটনাস্থলের দিকে দৌড়ে এগোলে উপস্থিতি টের পেয়ে অভিযুক্ত নাজিম পালিয়ে আত্মগোপন করে। পরবর্তীতে ভুক্তভোগী কিশোরীকে উদ্ধার করে স্বজনদের খবর দেওয়া হয় এবং চিকিৎসা ও আইনি সহায়তার প্রক্রিয়া শুরু করা হয়।
ঘটনার সত্যতা ও পুলিশি পদক্ষেপের বিষয়ে কোম্পানীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ নুরুল হাকিম জানান, লিখিত অভিযোগ পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই পুলিশ ঘটনাটি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে তদন্তে নেয়। অভিযুক্ত আসামির অবস্থান শনাক্ত করে অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেফতার করা হয়েছে। ভুক্তভোগী কিশোরীকে ডাক্তারি পরীক্ষার জন্য হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। এ বিষয়ে পরবর্তীতে প্রয়োজনীয় সমস্ত আইনি ও বিচারিক পদক্ষেপ নেওয়া হবে।



