নিহত ভ্যানচালকের নাম শহিদুল ইসলাম। তিনি কাশিয়ানী উপজেলার উত্তর চরভাটপাড়া গ্রামের আমিন শেখের ছেলে। দুর্ঘটনার সময় তিনি সড়কের পাশে অবস্থান করছিলেন বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।
স্থানীয় বাসিন্দা ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার সকালে খুলনা থেকে ঢাকাগামী ইমাদ পরিবহনের একটি যাত্রীবাহী বাস ভাটিয়াপাড়া গোলচত্বর এলাকায় পৌঁছালে বিপরীত দিক থেকে আসা গোপালগঞ্জগামী একটি কাভার্ডভ্যানের সঙ্গে মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। সংঘর্ষের পর যানবাহন দুটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে আশপাশে থাকা অন্য গাড়িগুলোর সঙ্গে ধাক্কা খায়। এ সময় দোলা পরিবহনের একটি বাস এবং গোপালগঞ্জের একটি লোকাল বাসও দুর্ঘটনার কবলে পড়ে।
এভাবে একের পর এক সংঘর্ষে এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। দুর্ঘটনায় সড়কের পাশে থাকা ভ্যানচালক শহিদুল ইসলাম গুরুতর আঘাত পান। ঘটনাস্থলেই তাঁর মৃত্যু হয়। একই ঘটনায় কাভার্ডভ্যানের চালকসহ আরও ১০ জন আহত হন।
দুর্ঘটনার খবর পেয়ে ভাটিয়াপাড়া ফায়ার সার্ভিসের কর্মী ও হাইওয়ে থানা পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছান। তাঁরা আহত ব্যক্তিদের উদ্ধার করে কাশিয়ানী উপজেলা ১০০ শয্যাবিশিষ্ট স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে তাঁদের চিকিৎসার জন্য ভর্তি করা হয়।
দুর্ঘটনার পর ঢাকা-খুলনা মহাসড়কের ওই অংশে যান চলাচল ব্যাহত হয়। একাধিক গাড়ি সংঘর্ষে জড়ানোয় দুর্ঘটনাকবলিত যানবাহন সরানো এবং আহতদের উদ্ধারে কিছুটা সময় লাগে। তবে যান চলাচল স্বাভাবিক করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়।
ভাটিয়াপাড়া হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুনতাসীর রহমান দুর্ঘটনায় একজন নিহত ও ১০ জন আহত হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, এ ঘটনায় আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।
মহাসড়কের গুরুত্বপূর্ণ মোড় ও গোলচত্বর এলাকায় যানবাহনের গতি নিয়ন্ত্রণ এবং সতর্কতার সঙ্গে চলাচল দুর্ঘটনা এড়াতে গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে বিপরীত দিক থেকে আসা যানবাহনের চলাচল, মোড় অতিক্রম এবং ভারী যানবাহন নিয়ন্ত্রণের ক্ষেত্রে চালকদের বাড়তি সতর্কতা প্রয়োজন। তবে কাশিয়ানীর এ দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ তদন্তের মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া যাবে।


