৪১ বছর বয়সে আরও একটি বিশ্বকাপ ফুটবল প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়ার দ্বারপ্রান্তে দাঁড়িয়ে আছেন পর্তুগিজ তারকা ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো। এবারের আসরে পর্তুগাল দলটিকে ঘিরে ফুটবলপ্রেমী ও সমর্থকদের প্রত্যাশার পারদ বেশ উঁচুতে। এমন একটি সময়ে পর্তুগালের লিসবনে অনুষ্ঠিত চিলির বিপক্ষে প্রীতি ম্যাচটিতে পাঁচবারের ব্যালন ডি’অরজয়ী এই ফুটবলারের বর্তমান ফর্ম ও শারীরিক ছন্দ পরখ করার সুযোগ তৈরি হয়েছিল। ঘরের মাঠ এস্তাদিও নাসিওনালে অনুষ্ঠিত এই ম্যাচে স্বাগতিক পর্তুগাল ২-১ ব্যবধানে চিলির বিরুদ্ধে জয়লাভ করলেও, ম্যাচের প্রথমার্ধে মাঠ মাতানো রোনালদোর পারফরম্যান্স পরিসংখ্যানের দিক থেকে খুব একটা স্বস্তিদায়ক ছিল না।
এস্তাদিও নাসিওনালে রোনালদোর ৪৫ মিনিটের পারফরম্যান্স
চিলির বিপক্ষে আন্তর্জাতিক প্রীতি ম্যাচটিতে ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো ম্যাচের প্রথমার্ধের পুরো ৪৫ মিনিট মাঠে উপস্থিত ছিলেন। তবে এই সময়ের মধ্যে তিনি কোনো গোল করতে পারেননি এবং সতীর্থদের কোনো গোলে সহায়তা (অ্যাসিস্ট) করতেও সক্ষম হননি। পুরো প্রথমার্ধে আক্রমণভাগে তাঁর বল স্পর্শের সংখ্যা ছিল মাত্র ১২ বার এবং চিলির পেনাল্টি বক্সের অভ্যন্তরে তিনি মাত্র ৩ বার বলের নিয়ন্ত্রণ নিতে পেরেছিলেন।
ম্যাচে তিনি সর্বমোট ৩টি শট নেন, যার মধ্যে ১টি শট গোলপোস্টের লক্ষ্যে (অন টার্গেট) ছিল, ১টি শট লক্ষ্যভ্রষ্ট হয় এবং অবশিষ্ট শটটি চিলির রক্ষণভাগ দ্বারা প্রতিহত (ব্লকড) হয়। ম্যাচের ৩৭তম মিনিটে রোনালদো বল জালে জড়িয়েছিলেন; তবে অহেতুক অফসাইড পজিশনে থাকার কারণে রেফারি গোলটি বাতিল ঘোষণা করেন, যা ছিল তাঁর জন্য গোল করার সবচেয়ে সহজ সুযোগ।
ম্যাচের ঘটনাপ্রবাহ, লাল কার্ড ও পর্তুগালের জয়
ম্যাচে রোনালদোর পারফরম্যান্সের কিছু ইতিবাচক দিকও ছিল। ম্যাচের ১১তম মিনিটে একটি বুদ্ধিদীপ্ত ব্যাকহিল পাসের মাধ্যমে তিনি সতীর্থ উইঙ্গার রাফায়েল লিয়াওকে বাঁ প্রান্ত দিয়ে বল বাড়িয়ে দিয়ে আক্রমণের সূচনা করেছিলেন, যদিও সেই আক্রমণটি শেষ পর্যন্ত গোলে রূপান্তরিত হতে পারেনি। প্রথমার্ধের খেলা শেষ হওয়ার ঠিক আগমুহূর্তে উইঙ্গার রাফায়েল লিয়াও মাঠের মধ্যে একটি হাতাহাতির ঘটনায় জড়িয়ে পড়েন, যার ফলশ্রুতিতে রেফারি তাঁকে লাল কার্ড (লাল কার্ড) দেখিয়ে মাঠ থেকে বহিষ্কার করেন।
১০ জনের দলে পরিণত হওয়া পর্তুগালের কোচ বিরতির সময়ে ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোকে মাঠ থেকে তুলে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। তাঁর পরিবর্তে বদলি খেলোয়াড় হিসেবে মাঠে নামেন ফরোয়ার্ড গনসালো গিদেস। ম্যাচের ৫৮তম মিনিটে এই গিদেসই পর্তুগালকে প্রথম গোলের স্বাদ এনে দেন। পরবর্তীতে ম্যাচের ৭৫তম মিনিটে দূরপাল্লার এক জোরালো শটের সাহায্যে দলের পক্ষে দ্বিতীয় গোলটি করেন মিডফিল্ডার ব্রুনো ফার্নান্দেজ। ফলে পর্তুগাল ২-১ ব্যবধানে জয় নিশ্চিত করে মাঠ ছাড়ে।
আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের মূল্যায়ন ও রেটিং
আন্তর্জাতিক ক্রীড়া সংবাদমাধ্যম গোলডটকম চিলির বিপক্ষে ম্যাচে রোনালদোর সামগ্রিক পারফরম্যান্সের ওপর একটি বিশদ মূল্যায়ন ও রেটিং প্রকাশ করেছে। সংবাদমাধ্যমটি তাদের প্রতিবেদনে উল্লেখ করেছে যে, রাফায়েল লিয়াওকে দেওয়া সেই চমৎকার ব্যাকহিল পাসটি ছাড়া ম্যাচের সিংহভাগ সময়ই রোনালদো একজন নীরব দর্শক হিসেবে মাঠে উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া ভুল পজিশনের কারণে অফসাইডে পড়ে গোল করার সহজ সুযোগ নষ্ট করার বিষয়টিও তারা উল্লেখ করে। বদলি খেলোয়াড় হিসেবে নামা গনসালো গিদেস গোল পাওয়ায় রোনালদোর মানসিক প্রতিক্রিয়ার বিষয়টিও তাদের পর্যবেক্ষণে উঠে আসে। সামগ্রিক পারফরম্যান্স বিবেচনা করে গোলডটকম এই ম্যাচে রোনালদোকে ১০ নম্বরের মধ্যে ৫ রেটিং প্রদান করেছে।
পর্তুগালের বিশ্বকাপ সূচি ও গ্রুপ তথ্য
পর্তুগাল দলের জন্য স্বস্তির বিষয় হলো, চিলির বিপক্ষে অনুষ্ঠিত এই ম্যাচটি কোনো প্রতিযোগিতামূলক ম্যাচ ছিল না এবং কেবল একটি ম্যাচের পারফরম্যান্স দিয়ে কোনো খেলোয়াড়ের সার্বিক ছন্দ বিচার করা সম্ভব নয়। আসন্ন বিশ্বকাপে পর্তুগাল দল ‘কে’ গ্রুপে (Group K) অবস্থান করছে। আগামী ১৭ জুন ডিআর কঙ্গোর বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে পর্তুগাল তাদের বিশ্বকাপ অভিযান শুরু করবে। গ্রুপ পর্বে দলটির অন্য দুই প্রতিপক্ষ যথাক্রমে কলম্বিয়া এবং উজবেকিস্তান।
নিচে চিলির বিপক্ষে ম্যাচে ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোর ব্যক্তিগত পরিসংখ্যান এবং পর্তুগাল দলের বিশ্বকাপ সূচির বিবরণ টেবিলের মাধ্যমে উপস্থাপন করা হলো:
| রোনালদোর ব্যক্তিগত ম্যাচ পরিসংখ্যান | বিবরণ ও উপাত্ত |
| মাঠে খেলার সময়কাল | ৪৫ মিনিট (প্রথমার্ধ) |
| সর্বমোট গোল ও অ্যাসিস্ট | ০ (শূন্য) |
| আক্রমণভাগে বল স্পর্শ | ১২ বার |
| প্রতিপক্ষের বক্সে প্রবেশ | ৩ বার |
| সর্বমোট শটের সংখ্যা | ৩টি (১টি লক্ষ্যে, ১টি বাইরে, ১টি ব্লকড) |
| বাতিল হওয়া গোল | ১টি (৩৭ মিনিটে, অফসাইডের কারণে) |
| গোলডটকম রেটিং | ১০ নম্বরের মধ্যে ৫ |
| পর্তুগাল দলের বিশ্বকাপ গ্রুপ ও সূচি | সংশ্লিষ্ট তথ্য ও বিবরণ |
| বিশ্বকাপ গ্রুপ | গ্রুপ ‘কে’ (Group K) |
| প্রথম ম্যাচের তারিখ ও প্রতিপক্ষ | ১৭ জুন, বনাম: ডিআর কঙ্গো |
| গ্রুপ পর্বের অন্য দুই প্রতিপক্ষ | কলম্বিয়া এবং উজবেকিস্তান |
| প্রীতি ম্যাচের ফল | পর্তুগাল ২ – ১ চিলি (স্কোরার: গিদেস ৫৮’, ব্রুনো ৭৫’) |
| ম্যাচের লাল কার্ড | রাফায়েল লিয়াও (প্রথমার্ধের শেষ দিকে) |



