ময়মনসিংহের ধোবাউড়া উপজেলার গোয়াতলা গ্রামে কংস নদীর ওপর দীর্ঘদিন ধরে ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় থাকা একটি বেইলি সেতু অবশেষে ভেঙে পড়েছে। রবিবার ভোরে অতিরিক্ত বালুবোঝাই একটি ভারী ট্রাক সেতুর ওপর দিয়ে যাওয়ার সময় চাপ সহ্য করতে না পেরে এটি ধসে পড়ে। প্রায় ২৫ বছর আগে নির্মিত সেতুটি বহুদিন ধরেই নড়বড়ে ও বিপজ্জনক অবস্থায় ছিল।
স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর আগেই সেতুটিকে ঝুঁকিপূর্ণ ঘোষণা করে দুই প্রান্তে সতর্কতামূলক সাইনবোর্ড টানিয়ে রেখেছিল। সেখানে স্পষ্টভাবে ভারী যানবাহন চলাচল নিষিদ্ধ উল্লেখ থাকলেও বাস্তবে সেই নির্দেশনা মানা হতো না। কোনো কার্যকর নজরদারি বা যান নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা না থাকায় নিয়মিতই ভারী যানবাহন সেতুটি ব্যবহার করত।
সেতুটি ভেঙে পড়ার ফলে ধোবাউড়া উপজেলার সঙ্গে জেলা সদরসহ আশপাশের এলাকার সড়ক যোগাযোগ সম্পূর্ণভাবে বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে। বর্তমানে স্থানীয় মানুষজনকে বিকল্প পথ ও নৌকা ব্যবহার করে কংস নদী পার হতে হচ্ছে, যা সময়সাপেক্ষ এবং ঝুঁকিপূর্ণ।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানিয়েছেন, বহু বছর ধরে সেতুটি ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় থাকলেও কার্যকর কোনো সংস্কার করা হয়নি। মাঝে মাঝে সামান্য মেরামত করা হলেও তা দীর্ঘমেয়াদে কোনো কাজে আসেনি। তাদের অভিযোগ, গুরুত্বপূর্ণ এই সেতুর প্রতি কর্তৃপক্ষের অবহেলা ও উদাসীনতা এই দুর্ঘটনার অন্যতম কারণ।
গারো পাহাড়ের কোলঘেঁষা ধোবাউড়া উপজেলা প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে ভরপুর হলেও দুর্বল যোগাযোগ ব্যবস্থার কারণে পর্যটন সম্ভাবনা কাজে লাগানো সম্ভব হয়নি বলে মনে করেন স্থানীয়রা। কংস ও নেতাই—এই দুই পাহাড়ি নদীর ওপরই রয়েছে পুরোনো বেইলি সেতু, যা বর্ষাকালে আরও বিপজ্জনক হয়ে ওঠে।
এলাকার বাসিন্দা ও কলেজ শিক্ষক মোখলেছুর রহমান জানান, প্রতিদিন জীবনের ঝুঁকি নিয়ে নদী পার হতে হয়। সেতু ভেঙে যাওয়ার পর এখন বাধ্য হয়ে নৌকায় পারাপার করতে হচ্ছে, যা নারী ও শিশুদের জন্য আরও কষ্টকর হয়ে উঠেছে।
ধোবাউড়া উপজেলা প্রকৌশলী জানিয়েছেন, বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে এবং নির্দেশনা অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। দ্রুত সংস্কার বা বিকল্প ব্যবস্থা গ্রহণের চেষ্টা চলছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
স্থানীয়দের মতে, ধোবাউড়া দীর্ঘদিন ধরে উন্নয়ন বঞ্চিত একটি উপজেলা। প্রশাসনিক পরিবর্তন ও রাজনৈতিক পুনর্বিন্যাসের পরও কাঙ্ক্ষিত অবকাঠামোগত উন্নয়ন হয়নি। ফলে এমন গুরুত্বপূর্ণ সেতুর দুরবস্থা বছরের পর বছর উপেক্ষিত থেকেছে।
জেলা পরিষদের এক সদস্য জানিয়েছেন, বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে এবং দ্রুত সংস্কারের জন্য সংশ্লিষ্ট দপ্তরের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছে।