ফরাসি ফুটবলে সূচিত হতে যাচ্ছে এক নতুন অধ্যায়। আন্তর্জাতিক ফুটবলের মহাবিশ্বমঞ্চে ফ্রান্স জাতীয় দলের প্রধান কোচ হিসেবে প্রথমবার ডাগআউটে বসতে যাচ্ছেন কিংবদন্তি ফুটবলার জিনেদিন জিদান। উয়েফা নেশনস লিগের গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে তুরস্কের মুখোমুখি হবে দুবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ফ্রান্স। ঠিক এই ঐতিহাসিক অভিষেকের প্রাক্কালে সাবেক ফরাসি অধিনায়ক তথা বর্তমান কোচ জিদানকে নিয়ে নিজের গভীর অনুভূতি ও স্মৃতি ব্যক্ত করেছেন দলটির সবচেয়ে বড় তারকা ফুটবলার কিলিয়ান এমবাপ্পে। জাতীয় দলে নিজের ছোটবেলার শিক্ষক ও আইডল জিদানকে মাস্টারমাইন্ড হিসেবে পাওয়ার এই অবিশ্বাস্য মুহূর্তটিকে ‘সিনেমার বাস্তব গল্পের মতো’ বলে অভিহিত করেছেন তিনি।
জিদানের সঙ্গে এমবাপ্পের সম্পর্কের ইতিহাস বেশ দীর্ঘ ও আবেগঘন। প্রায় ১৫ বছর আগের এক সোনালী স্মৃতির কথা স্মৃতিচারণ করে এমবাপ্পে জানান, তখন তিনি নিতান্তই এক কিশোর। ১৩ বা ১৪ বছর বয়সে যখন তিনি রিয়াল মাদ্রিদের যুব দলে ট্রায়াল দিতে স্পেনে যান, তখন তাকে বিমানবন্দরে অভ্যর্থনা জানাতে এবং অনুশীলনে নিয়ে যেতে স্বয়ং গাড়ি চালিয়ে এসেছিলেন জিনেদিন জিদান। স্প্যানিশ প্রভাবশালী ক্রীড়া সংবাদমাধ্যম ‘এএস’-কে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে ফরাসি এই ফরোয়ার্ড আবেগপ্রবণ হয়ে বলেন, রিয়াল মাদ্রিদের অনুশীলন কেন্দ্রে যাওয়ার জন্য সেই প্রথম তিনিই তাকে গাড়িতে তুলে নিয়েছিলেন। সেটা বহু আগের কথা হলেও স্মৃতিতে এখনও উজ্জ্বল। আর আজ বহু বছর পর সেই কিংবদন্তি মানুষটিই তার জাতীয় দলের ডাগআউটে প্রধান শিক্ষক হিসেবে দাঁড়াচ্ছেন। ঘটনাটি বাস্তব কোনো রূপকথার গল্পের চেয়ে কম কিছু নয়।
আসন্ন তুরস্কের বিপক্ষে উয়েফা নেশনস লিগের ম্যাচ দিয়ে নতুন কোচ জিনেদিন জিদানের অধীনে মাঠের লড়াইয়ে নামবে ফরাসি দল। তবে এই নেশনস লিগের লড়াই কেবল সাময়িক কোনো প্রতিযোগিতা নয়, বরং এটিকে ২০২৮ সালের ইউরোপিয়ান চ্যাম্পিয়নশিপ বা ইউরোর প্রস্তুতি হিসেবে দেখছেন অধিনায়ক ও দলের খেলোয়াড়রা। গত জুলাইয়ে অনুষ্ঠিত ফুটবল বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে স্পেনের কাছে বড় ব্যবধানে হেরে টুর্নামেন্ট থেকে বিদায় নিতে হয়েছিল ফ্রান্সকে। সেই পরাজয়ের বেদনা পেছনে ফেলে এবং অতীতের ভুলগুলো শুধরে নতুন শক্তিতে নতুন এই যুগ শুরু করতে মুখিয়ে রয়েছে পুরো ফরাসি শিবির।
ফরাসি ফুটবলে এই নতুন শুরুর দিকনির্দেশনা দিয়ে এমবাপ্পে বলেন, জাতীয় দলের সঙ্গে তারা সম্পূর্ণ নতুন একটি পথচলা শুরু করছেন। ইউরোর জন্য নিজেদের সেরাটা দিয়ে প্রস্তুত করার উদ্দেশ্যে তাদের হাতে প্রায় দুই বছর সময় রয়েছে। আপাতত চার ম্যাচের নেশনস লিগ দিয়েই নিজেদের গুছিয়ে নেওয়ার মিশন শুরু হচ্ছে। নতুন একজন বিশ্বসেরা কোচের অধীনে দলের প্রতিভাবান খেলোয়াড়রা কীভাবে জ্বলে ওঠেন, মাঠের পারফরম্যান্সে এখন সেটাই দেখার বিষয়। জিদানের প্রজ্ঞা ও এমবাপ্পের দূরদর্শী খেলায় ফরাসি দল তাদের সেই কাঙ্ক্ষিত সাফল্যের শিখরে ফিরবে বলেই বিশ্বাস করেন বিশ্বের কোটি কোটি ফুটবলপ্রেমী।


